রাজশাহীতে চলছে পোকা দমনের পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি পার্চিং উৎসব

মোঃ আব্দুল্লাহ-হিল-কাফি, আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার, কৃষি তথ্য সার্ভিস, রাজশাহী:পোকা দমনে পার্চিং একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। অনেক জৈবিক দমন পদ্ধতির মধ্যে পার্চিং আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয়। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে কৃষি মন্ত্রণালয় তার সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সারা দেশে পরিবেশবান্ধব এ পদ্ধতির সম্প্রসারণকল্পে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

ধান উৎপাদনে পার্চিং বেশ কার্যকর এবং লাভজনক। বোরো মৌসুমে এ কৌশল সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে নির্বিঘ্নে বোরো উৎপাদন করা সম্ভব। এ কারনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে রাজশাহী কৃষি অঞ্চলে শুরু হয়েছে পার্চিং উৎসব। এমনি এক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে নওগাঁ জলোর মান্দা উপজেলায়। অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ এসএম মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত থেকে এ উৎসব উপজেলায় শুরু করেন। এছাড়াও জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিদ মোঃ মাসুদুর রহমান, মহাদেবপুর উপজেলার উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম প্রমানিক এবং মান্দা উপজেলার উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এএফএম গোলাম ফারুক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ এসএম মোস্তাফিজুর রহমান পার্চিং-এর উপকারিতা ব্যাখ্যা করেন। এছাড়া উপস্থিত কৃষক-কৃষাণীকে এই প্রযুক্তিটি ব্যবহারের আহবান জানান। এই অনুষ্ঠানে নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এএফএম গোলাম ফারুক হোসেন জানান, পাখি পাচিং এ বসে একটি ক্ষতিকারক পোকা খেলে ২০০ থেকে ৩০০টি পোকা দমন হয় কারন একটি ক্ষতিকারক পোকা ২০০ থেকে ৩০০টি ডিম পাড়ে। পার্চিংটিকে চুনের দ্রবণে চুবালে অনেকটা ধবধবে সাদা দেখাবে এবং ক্ষেতের অনেক দূর থেকে দৃষ্টিগোচরে আসবে। চুনের পরিবর্তে সাদা পেইন্ট দিয়েও পার্চিংয়ের ওপরের অংশকে রঙ করা যাবে। আর মাটিতে পুতার অংশে আলকাতরা দিয়ে লেপে দিলে খুঁটির স্থায়িত্ব বেশি হয়। রঙ বা সাদা না করেও পাখি বসানোর ব্যবস্থা করা যায়। পার্চিং আইল থেকে বেশ দূরে দেয়াই ভালো এবং জমির যে অংশে চলাচলের অসুবিধা আছে সেখানে স্থাপন করা ভালো।

এই প্রযুক্তিটি সম্প্রসারণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং কৃষি তথ্য সার্ভিস কৃষক ভাইদের মাঠ পর্যায়ে সরাসরি এবং গণমাধ্যমে পরামর্শ প্রদান করছে।

escort izmir