ঢেঁড়শের গোড়া ও কান্ড পঁচা রোগের লক্ষণ ও করণীয়

বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান: এসময়ের জনপ্রিয় একটি সবজি হচ্ছে ঢেঁড়শ। সঠিকভাবে ফলন পেতে হলে সঠিকভাবে এর রোগ-বালাই দমন প্রয়োজন। ঢেঁড়শের বিভিন্ন রোগের মধে এগ্রিলাইফের পাঠকদের জন্য আজ থাকছে ঢেঁড়শের গোড়া ও কান্ড পঁচা রোগের বিস্তারিত।

ঢেঁড়শের গোড়া ও কান্ড পঁচা রোগটি (Foot and stem rot) রোগটি ম্যাক্রোফোমিনা ফেসিওলিনা (Macrophomina phaseolina) নামক ছত্রাকের আক্রমনে হয়ে থাকে। রোগটি বীজ, মাটি ও বায়ু বাহিত। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া, অতিরিক্ত নাইট্রোজন ও কম পটাশ সার ব্যবহার করলে এ রোগের প্রকোপ বেশী হয়। মাটির উষ্ণতা (৪০ ডিগ্রি সেঃ) বেশী হলেও রোগ বেশী হয়।

রোগের লক্ষন: 

  • সাধারনতঃ মে মাসের দিকে এই রোগ দেখা যায় এবং জুন-জুলাই মাসে মারাত্মক আকার ধারন করে;
  • মাটি সংলগ্ন গাছের গোড়া নরম হয়ে পঁচে যায়;
  • আক্রান্ত শিকড়ে ও কান্ডে কাল বিন্দুর ন্যায় পিকনিডিয়া দেখা যায়;
  • রোগ বিকাশের অনুকুল অবস্থায় ২-৩ দিনের মধ্যে সম্পূর্ন গাছ শুকিয়ে যায়।

প্রতিকার:       

  • সুস্থ্য বীজ বপন করতে হবে;
  • শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে;
  • মৌসুমের শুরুতেই ক্ষেতের গাছ শিকড়সহ উঠিয়ে পুড়ে ফেলতে হবে;
  • বর্ষার আগে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারী-মার্চ মাসের মধ্যে ঢেঁড়শের বীজ বপন করতে হবে;
  • রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন-বারি ঢেঁড়শ ১ চাষ করতে হবে;
  • কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক অথবা কার্বোক্সিন+থিরাম গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি কেজি বীজে ২.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করতে হবে;
  • মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে অথবা কপার অক্সিক্লোরাইড গ্রুপের ছত্রাকনাশকপ্রতি লিটার পানিতে ৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।       

==========================
লেখক:উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃThis email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

escort izmir