কৃষকের দুঃখ ঘুঁচাবে কম্বাইন হার্ভেস্টার

কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ:কৃষি শ্রমিকের সংকটের কারণে প্রায় প্রতি মৌসুমেই ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েন কৃষকেরা। কাটার উপযোগী হওয়ার পরেও ধান জমি থেকে ঘরে তুলতে পারেন না তাঁরা। ফলে অনেক সময় মাঠেই নষ্ট হয়ে যায় ফসল। তবে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করলে কৃষকেরা এ বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। এ ধরণেরই একটি যন্ত্র একসঙ্গে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের যন্ত্র ‘মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার’।

অধিক ফলন ও উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে কৃষি খামার যান্ত্রিকরণ প্রকল্পের আওতায় শুক্রবার নওগাঁর সদর উপজেলার বাচাড়ীগ্রাম পূর্বপাড়া গ্রামে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের যন্ত্র মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার প্রদর্শনী ও কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে এক নারী কৃষি শ্রমিক মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার দিয়ে খেতের ধান কেটে ও মাড়াই করে উপস্থিত অতিথি ও কৃষকদের দেখান।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার ব্যবহারের মাধ্যমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ খরচ কমানো যায়। সময় বাঁচে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। প্রচলিত পদ্ধতিতে সাতজন শ্রমিকের এক বিঘা জমির ধান বা গম কাটতে ও মাড়াই করতে প্রায় ৮ ঘন্টা সময় লাগে। এতে শ্রমিকদের মজুরি পড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। সেখানে মিনি কম্বাইন হার্ভেস্টার ব্যবহারে লাগে মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। বাজারে একটি কম্বাইন হার্ভেস্টার যন্ত্রের দাম ৭ লাখ টাকা। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকার এই যন্ত্রটি ৫০ শতাংশ ভর্তুকী দিয়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকায় কৃষকদের কাছে বিক্রি করছে।

মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আহসান শহীদ সরকার, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মফিদুল ইসলাম, বক্তার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোরশেদ আলম প্রমুখ।  

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে কমছে কৃষিজমি। উৎপাদ খরচ কমাতে ও অধিক ফলনের জন্য প্রয়োজন কৃষিজমিতে উন্নত প্রযুুক্তির ব্যবহার। এতে জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতের পাশাপাশি কৃষকেরা লাভবান হবেন। কৃষি খামার যান্ত্রিকরণ এখন সময়ের দাবি। সরকার খামার যান্ত্রিকরণ করতে কাজ করে যাচ্ছে। এখন জনগণকে সচেতন হতে হবে। দ্রুত আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করে তা ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশকেও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখতে হবে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মাসুদুর রহমান বলেন, ১০-১২ বছর আগে জমি চাষ করতে যখন প্রথম পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর ব্যবহার শুরু হয়, তখন অনেক কৃষক সহজে তা গ্রহণ করেনি। অনেকের ধারণা ছিল, যন্ত্র দিয়ে জমি চাষ করলে উৎপাদন কমে যাবে। কিন্তু এখন আর যন্ত্র ছাড়া জমি চাষ করা কৃষকদের কাছে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কৃষকদের অনেক খরচ ও শ্রম কমিয়ে দিয়েছে পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের অত্যাধুনিক যন্ত্র কম্বাইন হার্ভেস্টার কৃষকদের দোড়গোড়ায় চলে এসেছে। এই যন্ত্র ব্যবহার করে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে কৃষকের ৬০-৭০ শতাংশ খরচ কমে যাবে।

অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আহসান শহীদ সরকার বলেন, জেলায় এ বছর ১ লাখ ৮৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠের প্রায় ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে। অথচ কৃষি শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকেরা তাঁদের মাঠ থেকে পাকা ধান কাটতে পারছেন না। এখন পর্যন্ত মাত্র ২০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। ধান কাটা ও মাড়াইয়ে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করলে কৃষকদের এই দুর্ভোগে পড়তে হতো না। কৃষকদের এ ধরণের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা করতে খামার যান্ত্রিকরণের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

antalya bayan escort bursa bayan escort adana bayan escort mersin bayan escort mugla bayan escort samsun bayan escort konya bayan escort