সিলেটে ৭ম বারের মতো বিশ্ব ব্যাঙ সংরক্ষণ দিবস পালন করলো সিকৃবি প্রাধিকার

রায়হানুল নবী, সিকৃবি:সিলেট নগরের পাঠানটুলা শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় বিশ্ব ব্যাঙ সংরক্ষণ দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার (১১ মে) সকাল ১০:৩০ থেকে নানা আয়োজনে দিনটি উদযাপন করে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) প্রাণীর অধিকার ও জৈববিচিত্র বিষয়ক সংগঠন প্রাধিকার। বিশ্বে উভচর প্রাণীদের সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি লক্ষ্যে ১১ তম বারের মতো বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে পালিত হয়েছে বিশ্ব ব্যাঙ সংরক্ষণ দিবস। save the frog ফাউন্ডেশন সহায়তায় এবার সিলেটে ৭ম বারের মতো দিনটি পালন করলো সিকৃবি প্রাধিকার।

দিনটি উপলক্ষে শনিবার সকালে র‌্যালি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সেমিনার আয়োজন করা হয়। এসময় ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রধিকারের সাধারণ সম্পাদক মুহিউদ্দিন রিফাতের সঞ্চালনায় ও মো:আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধাণ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: বাশির উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জনাব লুৎফুর রহমান ও গণিত বিভাগের শিক্ষক জনাব মো: আব্দুল মোত্তালিব।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য নিয়ে আসেন তৌহিদুর রহমান। পরে ব্যাঙের হুমকি ও ব্যাঙ সংরক্ষণের উপায় নিয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপনা করেন প্রাধিকারের সভাপতি মো: আনিসুর রহমান ও প্রাধিকারের পরিচিতিমুলক উপস্থাপনা করেন পাবলিক রিলেশন সেক্রেটারি তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে “ব্যাঙ এবং জীববৈচিত্র সংরক্ষণ” এর উপর কুইজ  এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাধিকারের এমন আয়োজনকে ধন্যবাদ জানিয়ে জনাব লুৎফুর রহমান বলেন-সিলেটে প্রাধিকার যা যা করছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। বিগত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ সহ বিশ্বে ব্যাঙের সংখ্যা কমার একমাত্র কারণ মানুষ। মানুষ অতিমাত্রায়
ফসলে জমিতে কিটনাশক ব্যবহার করছে এবং তাদের আবাস্থল ধ্বংস করছে বলেই দিনদিন ব্যাঙের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অথচ ব্যাঙ প্রাকৃতির ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসলের উৎপাদনে সহায়তা করে।

সিকৃবির মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: বাশির উদ্দিন জানান, গবেষণায় দেখা যায় ব্যাঙ থেকে আমরা নানা মূল্যবান ওষুধ তৈরি করি। যা আমাদের গবেষণাকে একধাপ এগিয়ে নিয়েছে। সময়ের সাথে সাথে সারাবিশ্বে ব্যাঙের সংখ্যা যেমন
কমছে, তেমনি অনেক প্রজাতি হারিয়েও যাচ্ছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে সমগ্র খাদ্য শৃঙ্খলে। ফলে প্রাণীজগতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের ব্যাঙ সংরক্ষণে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অন্যদের সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায় কুইজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতার বিজয়ী ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও পুরস্কার প্রদান করেন প্রধান অতিথি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি আই ইউসিএন এর তথ্য মতে আমাদের দেশে ৪৯ প্রজাতির ব্যাঙ এর মধ্যে ১০ প্রজাতির ব্যাঙ সংকটাপন্ন রয়েছে। ব্যাপকহারে আবাসস্থান ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ ও কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার এবং খাওয়ার জন্য অতিরিক্ত হারে ব্যাঙ মেরে ফেলায় প্রকৃতি থেকে ব্যাঙ বিলুপ্ত হওয়ার কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞগণ।

escort izmir