ব্লাস্ট প্রতিরোধে সক্ষম গমের সর্বাধুনিক জাতের বীজ উৎপাদন প্রদর্শনীর উপর কৃষক মাঠ দিবস

ফার্মিং ডেস্ক:বাংলাদেশ দক্ষিন এশিয়ার খাদ্যে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ন একটি দেশ। দানাদার খাদ্য হিসাবে গমের অবস্থান ধানের পরেই। সমীক্ষায় দেখা যায় আমাদের বাৎসরিক গমের চাহিদা প্রায় ৭০ লক্ষ টন। বাৎসরিক ধানের যোগান দেশজ উৎপাদনের মাধ্যমে পুরাপুরি পূরণ হলেও গমের চাহিদার নিজস্ব উৎপাদন প্রায় একষষ্ঠাংশ মাত্র। বিগত ২০১৬ সালে বাংলাদেশের দক্ষিন এবং দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় গম ফসলে মহামারী হিসাবে ব্লাস্ট রোগ দেখা দেওয়ায় গমের উৎপাদনে আরও ঘাটতি তৈরী হয়।

এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক ভূট্টা ও গম গবেষনা ইনস্টিটিউট (সিমিট) বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইস্টিটিউট এর সাথে ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে এবং বারি গম ৩৩ জাতটি অবমুক্ত করে। আরও তিনটি জাত বারি গম ২৮, বারি গম ৩০ ও বারি গম ৩২ ব্লাস্ট রোগ সহনশীল হলেও একমাত্র বারি গম ৩৩ জাতটিই পুরোপুরি ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত এবং ফলনও সন্তোষজনক। এ বছর চাষী পর্যায়ে জাতটির সম্প্রসারনের লক্ষ্যে সিমিট ফরিদপুর হাব যৌথভাবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইস্টিটিউট এবং কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সাথে বারি গম ৩৩ জাতটির বীজ উৎপাদন প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করে।

আজ ২১ শে ফাল্গুন ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ফুরসা গ্রামে কৃষক কৃষানীদের মাঝে পরিচিত করন এবং সরেজমিনে জাতটির গুনাগুন প্রত্যক্ষকরনের লক্ষ্যে গম ফসলের সর্বাধুনিক এ জাতের বীজ উৎপাদন প্রদর্শনীর উপর কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ইউএসএআইডি (USAID)-এর অর্থায়নে, সিমিট বাংলাদেশ-এর আয়োজিত এ মাঠ দিবসে সভাপতিত্ব করেন ডঃ মহি উদ্দিন, মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, সরেজমিন মাঠ গবেষনা বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইস্টিটিউট, ফরিদপুর। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী, উপ পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর, ফরিদপুর। বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন ডঃ সেলিম আহম্মেদ, উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, সরেজমিন মাঠ গবেষনা বিভাগ, বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইস্টিটিউট, ফরিদপুর ও ফরিদপুর সদরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনাব আবুল বাশার। স্বাগত বক্তব্য দেন জনাব মকসেদুল আরাফাত, হাব কোঅর্ডিনেটর, সিমিট, ফরিদপুর হাব।    

মাঠ দিবসটি সঞ্চালনায় ছিলেন সিমিট ফরিদপুর হাবের এগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্ট অফিসার মোঃ আব্দুল মাবুদ। ৬৬ জন কৃষানীসহ মোট ১০৪ জন স্থানীয় গমচাষী তাদের মাঠে নূতন জাতের এ ফসল দেখতে পেরে খুবই আনন্দিত এবং পরবর্তী বছরে এ জাতের গম চাষে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধান অতিথি এ বছর নূতন জাতটির উৎপাদিত সমুদয় বীজ খাদ্য হিসাবে ব্যবহার না করে পরবর্তী বছরের জন্য বীজ হিসাবে সংরক্ষনের জন্য সংশ্লিস্ট চাষীভাইদের আহ্বান জানান। সকলের সন্মিলিত প্রচেষ্টায় ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে এবং গমের ফলন বৃদ্ধি পাবে মর্মে মাঠ দিবসের সভাপতি ডঃ মহি উদ্দিন, আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

escort izmir