তীর-প্রথম আলো কৃষি পুরস্কার পেলেন যারা

এগ্রিলাইফ ডেস্ক:স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের অগ্রগতি আর সাফল্যের মূল কারিগর হলো কৃষক, কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষিবিদ ও কৃষি ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গরা। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও কৃষিতে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে। আর এই অগ্রগতির কারিগরদের সম্মানিত করেছে তীর-প্রথম আলো।

শনিবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আট ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে তীর-প্রথম আলো কৃষি পুরস্কার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয় দেশের কৃষি উন্নয়নের পথিকৃৎ, বিজ্ঞানী ও সংগঠক কাজী এম বদরুদ্দোজাকে

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত  থেকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। শুভেচ্ছা জানিয়ে আরো বক্তব্য রাখেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান; অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক সিটি গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক (বিক্রয় ও বিপণন) জাফর উদ্দিন সিদ্দিকী।

অনুষ্ঠানে আটটি বিষয়ে পুরস্কার দেওয়া হয়।

সেরা কৃষি উদ্যোগ (ব্যক্তি) হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন বান্দরবানের তোয়ো ম্রো। বাগান চাষ করে নিজের ভাগ্য বদলের পাশাপাশি অন্যদের শিখিয়েছেন বাগান চাষের কৌশল তিনি। বান্দরবানের চিম্বুক পাহাড়, রুমা, থানচি থেকে ত্রিপুরা ও বমরাও মানুষেরা তাঁকে চেনে তোয়ো মাস্টার হিসেবে।

সেরা কৃষি উদ্ভাবন বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন রাজশাহীর তানোরের নুর মোহাম্মদ। তিনি সংকরায়ণ করে একের পর এক নতুন ধান উদ্ভাবন করেছেন।

সেরা নারী কৃষক বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছেন যশোরের ঝিকরগাছার শাহানারা বেগম। একুশ বছর আগে মাত্র এক বিঘা জমি ইজারা নিয়ে গ্ল্যাডিওলাস ফুল চাষ শুরু করেন। এখন তাঁর ১০ বিঘা জমি, ১৫ শতক জমিতে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেছেন সুন্দর একটি বসতবাড়ি।

সেরা উদ্যান চাষি হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গার শাখাওয়াত হোসেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মচারী শাখাওয়াত মাল্টা চাষ করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

সেরা খামারি (গরু) হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন ঈশ্বরদীর আমিরুল ইসলাম। ১৯৯৪ সালে একটি গরু নিয়ে যাত্রা শুরু করা তাঁর তন্ময় ডেয়রি ফার্মটি চার বিঘা জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেখানে ১২৯টি গরু থেকে দিনে ৫০০ লিটার দুধ পাওয়া যায়।

সেরা খামারি (মৎস্য) হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন দাউদকান্দির আলী আহমেদ মিয়াজী। ২০০০ সালে মাত্র তিনটি পুকুর ইজারা নিয়ে দেড় লাখ টাকা পুঁজিতে মাছ চাষ শুরু করেন তিনি। এখন প্রতি বছর ৫০ হাজার মেট্রিক টন মাছ চাষ হয়, যার বাজারমূল্য ৩২ কোটি টাকা।

সেরা খামারি (পোলট্রি) হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শাহিনুর রহমান। জাতীয় কৃষি পদক পাওয়া এই তরুণের বেড়ে ওঠা অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। খামারের কাজ করতে করতে পড়াশোনা করেছেন।

সেরা কৃষি উদ্যোগ (প্রতিষ্ঠান) হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে তিন তরুণের গড়া প্রতিষ্ঠান নগর কৃষি। এই শহরের মানুষকে কৃষিমুখী করতে চান তাঁরা।

পুরস্কার বিজয়ীরা তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এই পুরস্কার তাঁদের পাশাপাশি সব উদ্যোক্তাকে অনুপ্রাণিত করবে। দেশের কৃষি খাতে সংশ্লিষ্টদের উৎসাহ দেবে আরও ভালো কাজ করতে।সূত্র- প্রথম আলো

escort izmir