ঢেঁড়শের শিকড় গিট (Root knot) রোগ দমনে করণীয়

বিজ্ঞানী ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান: ভালো ফলন পেতে হলে কৃষক ভাইদের রোগ-বালাই সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। এগ্রিলাইফের পাঠকদের জন্য আজ থাকছে ঢেঁড়শের শিকড় গিট (Root knot) রোগ দমনের বিস্তারিত। মেলোয়ডোগাইন (Meloidogyne spp.) প্রজাতির কৃমির আক্রমনে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তার:
মেলোয়ডোজাইন প্রজাতির কৃমি মাটিতে বসবাস করে। আক্রান্ত মাটি, শিকড়ের অংশ, বৃষ্টি ও সেচের পানি এবং কৃষি যন্ত্রপাতির দ্বারা এ রোগ বিস্তার লাভ করে। সাধারণত ২৭-৩০ ডিগ্রী সেঃ তাপমাত্রা, হালকা মাটি ও একই জমিতে বৎসরের পর বৎসর ঢেঁড়শ চাষ করলে এ রোগ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

রোগের লক্ষন:

  • চারা অবস্থায় কৃমি দ্বারা আক্রান্ত হলে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং গাছ খর্বাকৃতির হয়
  • পাতা হলুদাভ সবুজ বা হলুদ রং ধারন করে ও পাতা ঝড়ে পড়ে
  • গাছে ফুল ও ফলের সংখ্যা অস্বাভাবিক ভাবে কমে যায়
  • আক্রান্ত গাছের মূলে ও মূলরোমে অসংখ্য গিট দেখা যায়
  • এ গিটগুলো দেখতে সাদাটে রং-এর হয়।

প্রতিকার:

  • ফসল সংগ্রহের পর অবশিষ্টাংশ পুড়ে ফেলতে হবে
  • শুষ্ক মৌসুমে জমি পতিত রেখে ২/৩ বার চাষ দিয়ে মাটি ভালভাবে শুকাতে হবে; এতে কৃমি মরে যায়
  • গম, ভুট্টা, বাদাম, সরিষা ইত্যাদি দ্বারা শস্য পর্যায় অবলম্বন করতে হবে
  • জমি প্লাবিত করে রাখলে এ রোগের কৃমি মারা যায়, তাই সুযোগ থাকলে বছরে একবার প্লাবিত করে রাখতে হবে
  • হেক্টর প্রতি ৫ টন অর্ধ পচা মুরগীর বিষ্ঠা জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োগের ২-৩ সপ্তাহ পর জমিতে বীজ বপন করতে হবে
  • রোগের লক্ষণ দেখা গেলে হেক্টর প্রতি ৪০ কেজি কার্বোফুরান গ্রুপের কীটনাশক অথবা ইসাজোফস গ্রুপের কীটনাশক মাটিতে ছিটিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে দিয়ে হালকা সেচ দিতে হবে।

=========================
লেখক:প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃThis email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.

escort izmir