আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা’২০১৯; বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরী অনুষদের শিক্ষকদের অনুভূতি

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি:বাংলাদেশের কৃষিব্যবস্থা প্রকৃতিনির্ভর। প্রায় ৭০ ভাগ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো সবুজ বিপ্লবের ফলে তথা নানারকম ফসলের জাত উন্নয়নে গত ৫০ বছরে দানাশস্যের ফলন বেড়েছে কয়েকগুণ।

প্রযুক্তি প্রয়োগে কৃষির অন্যান্য শাখা তথা পোল্ট্রি, গবাদিপশু ও মৎস্য চাষেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় উন্নয়নে কৃষি গবেষণা ও সম্প্রসারণ বিশাল এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠিত ক্ষেত্র। বর্তমান সরকার জাতীয় নীতিতে পরিবেশবান্ধব টেকসই প্রযুক্তি উন্নয়নে কৃষি গবেষণা কার্যক্রমকে জোরদার করার ওপর যথার্থ গুরুত্বারোপ করেছেন। কৃষি গবেষণায় উদ্ভাবিত নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে প্রান্তিক চাষিদের কাছে পৌঁছানোর ওপর কৃষি উন্নয়ন অনেকাংশে নির্ভরশীল। দেশের গবেষণাগারে উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তিকে প্রকৃত ব্যবহার করতে হবে। মাঠে দ্রুত পৌঁছাতে বর্তমান কৃষি সম্প্রসারণ কৌশল এবং মোবাইল ফোন সংযোজনের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্স এগ্রিকালচার তথা ই-কৃষির প্রচলন প্রয়োজন। ঠিক এমনটিই বলছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরী অনুষদের শিক্ষকরা।  

তারা বলছেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি। আর কৃষির উন্নয়ন বহুলাংশে নির্ভর করে তথ্য ও প্রযুক্তির সঠিক ও সময়োপযোগী ব্যবহারের ওপর। বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়ন তো বটেই, পরিবর্তনশীল কৃষি উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা বিশ্ব এখন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা ৯ম ‘এগ্রোটেক বাংলাদেশ-২০১৯’। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় এ মেলার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী দিনে মেলা পরিদর্শনে গিয়েছেলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্ম স্ট্রাকচার এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. সিদ্দিকুর রহমান, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হামিদুল ইসলাম, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মো. আতিকুর রহমানসহ বাকৃবির একঝাঁক ভবিষ্যত কৃষি প্রকৌশলরা।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, এতে দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, তাইওয়ানসহ ১৮টি দেশ ৪টি হলে ৬৫৯টি স্টলে তাদের বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্র প্রদর্শন করছে।  অটো ও সেমি অটো রাইস মিল, ফিড মিল, সুজি ও ফ্লাওয়ার মিল, অয়েল মিল এবং ডাল মিল, কোল্ড স্টোরেজ মেশিন টেকনোলজি, বেকারি আইটেম ও কোমল পানীয় তৈরির মেশিনারি এবং উৎপাদন, বেকারি প্রোডাক্ট, চা ও কফি প্রসিসিং এবং প্যাকেজিং মেশিনারি, ইঙ্কজেট প্রিন্টার, বার কোড প্রযুক্তি, প্যাকেজিং মেশিনারি, গুদামজাতকরণ প্রযুক্তি, কৃষি যন্ত্রপাতি, সার, বীজ ও কীটনাশক, গবাদি পশু-পাখির আধুনিক আবাসস্থল, ডেয়রি মিল্কিং মেশিন, কুলিং ট্যাঙ্ক এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ প্রদর্শিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে শিক্ষকরা বলেন, বাকৃবির কৃষি প্রকৌশল অনুষদে আমরা শিক্ষার্থীদের কৃষি প্রযুক্তি নিয়ে পড়িয়ে থাকি। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলতে অনুষদের ডিন স্যারের সহযোগিতায় আমরা তাঁদের মেলা পরিদর্শনে নিয়ে যাই। মেলা পরিদর্শনে শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পেরেছে। আশা করি এটি তাদের একাডেমিক জ্ঞানকে আরো বাড়িয়ে তুলবে।

antalya bayan escort bursa bayan escort adana bayan escort mersin bayan escort mugla bayan escort samsun bayan escort konya bayan escort