কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনতে হবে

বাকৃবি প্রতিনিধি:দেশের কৃষক ভালো নেই। ধান চাষ করে তারা তাঁদের নায্য মূল্য পাচ্ছেন না। ভবিষ্যতে ধান চাষে কৃষকের আগ্রহ কমে গেলে বড় ধরনের খাদ্য সংকটে পড়তে পারে দেশ। মধ্যস্বত্বভোগী নামক তৃতীয় একটি পক্ষ এসে কৃষকের লাভের ভাগ নিয়ে যাচ্ছে। এ কারণেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে প্রকৃত কৃষক।

কৃষকের এ অবস্থা লাঘবে কি করা যায়, তা জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসমত আরা বেগম এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরেই আমাদের দেশে এটা প্রায় স্বতঃসিদ্ধ হয়ে গেছে যে প্রকৃত কৃষকরা তাদের উৎপাদন মূল্য তুলতে হিমশিম খাচ্ছে। অথচ অন্য সব পেশার মতো তাদেরও উপার্জনের মূল উৎস হচ্ছে এই ধান উৎপাদন। যেখানে তার উৎপাদন খরচ এবং সংসার চালানোর মতো অর্থ ওঠানোর জন্যই কৃষকের চাষাবাদ করার কথা, সেখানে এখন উৎপাদন খরচই ঠিকমতো উঠছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে কৃষির ভবিষ্যৎ খুব একটা ভালো হবে না।’

এই কৃষি অর্থনীবিদ বলেন, ‘সরকারের দিক থেকে কৃষকদের ভাগ্যের উন্নয়নে সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই, প্রচুর ভালো উদ্যোগও আমরা দেখছি। কিন্তু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কেন যেন কিছু গলদ থেকে যায়। যে গলদের ফাঁক দিয়ে সহজেই মধ্যস্বত্বভোগীরা কৃষকের ভাগের লাভ খেয়ে ফেলে আর বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক। এ ক্ষেত্রে আমার মতামত হচ্ছে, যে করেই হোক সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে যে ধান-চাল সংগ্রহ কর্মসূচির সময় সরকারের লোকজন সরাসরি যাতে কৃষকের কাছে গিয়ে ধান কিনে আনে। মাঝে যেন ডিলার বা মিলারদের কোনো প্রবেশ না থাকে। এ ছাড়া দাম নির্ধারণের সময় যেন কৃষকদের প্রকৃত খরচ ও তাদের লাভের অংশটির কথা মাথায় রাখা হয়।’

escort izmir