রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

ডেস্কঃরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ আজ রবিবার সকাল ১০টায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান নবাগত শিক্ষার্থীদের মধ্যে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আরিফ আহনাফ খান এবং চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের ছাত্রী অর্পা পোদ্দার’কে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে বরণ করে নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবীনবরণ ২০১৮-২০১৯ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি উপ-উপাচার্য প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা। এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী মো. জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান আল-আরিফ। অনুষ্ঠানে ছাত্র-উপদেষ্টা ও নবীন বরণ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য-সচিব প্রফেসর লায়লা আরজুমান বানু স্বাগত বক্তৃতা করেন। সেখানে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস প্রফেসর অরুণ কুমার বসাক ও প্রক্টর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর প্রভাষ কুমার কর্মকার, অধিকর্তা, সভাপতি, ইনস্টিটিউট পরিচালকসহ বিশিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার অন্যতম শীর্ষ পীঠস্থান। এর প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশ-জাতি-সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে। তাদের অনেকে রাষ্ট্র ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করছে। সময়ের চাহিদা মেটাতে এখানে কোর্স-কারিকুলাম যুগোপযোগী করা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের নতুন নতুন ক্ষেত্রভিত্তিক বিভাগ খোলা হয়েছে। ফলে এখানে ভর্তির জন্য প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়েছে। তাই মেধার উৎকর্ষে বিবেচিত অন্যতম মেধাবীরাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। উপাচার্য তাঁর বক্তৃতায় নবীন শিক্ষার্থীরা আগামী দিনগুলিতে লেখাপড়ায় সেই মেধার স্বাক্ষর অক্ষুণœ রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরো বলেন, একজন গর্বিত, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হলে প্রয়োজন সত্য ও ন্যায়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া; নিজ কর্মে নৈতিকতাবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়া। আজকের এই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের বাংলাদেশে সেই নৈতিকতার অন্যতম বাহক ও ধারক হয়ে উঠবে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। উপাচার্য আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি মুক্তবুদ্ধি চর্চার অঙ্গন। এখানে অশুভ কোনোকিছুর স্থান নেই। যে শিক্ষা মানুষের শুভবোধকে বিকশিত করে, চেতনাকে করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ, নিজ মেধা ও অভিজ্ঞতাকে মানবতার কল্যাণে ধাবিত করে সেই শিক্ষার পবিত্র ক্ষেত্র এই বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্য সকলকে সদা সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে থাকার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর এম এ বারী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। নবীনবরনের শেষ পর্বে ছিল শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পরিবেশনায় এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।    

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সহকারী পেশ ইমাম ফাহিম মাহমুদ পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, প্রফেসর প্রভাষ কুমার কর্মকার পবিত্র গীতা, ড. হ্যারন্ড সৌগত বারুই পবিত্র বাইবেল ও অপন চাকমা পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন।

প্রসঙ্গত, নবীনবরণ উপলক্ষে ‘নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্যকণিকা’ শীর্ষক পুস্তিকা এদিন প্রকাশিত হয়।

escort beylikduzu izmir escort corum surucu kursu malatya reklam