সিকৃবির ক্যাফেটেরিয়ায় চড়া দামে মেলে নিম্নমানের খাবার

রায়হানুল নবী, সিকৃবি:সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ক্যাফেটেরিয়ায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চড়া দামে নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া খাবারের মেন্যু এবং ক্যাফেটেরিয়া ম্যানেজার ও কর্মীদের অসদাচরণের অভিযোগও করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী এরশাদুল ইসলাম বলেন, যতবারই আমি ক্যাফেটেরিয়ায় গেছি কখনোই খাবারের প্লেট, গ্লাস, চায়ের কাপ ও টেবিল পরিষ্কার পাই নাই। বারবার এসব পরিবর্তনের জন্য বলা হলেও কোনো কাজ হয় নাই। উল্টো কখনো কখনো ম্যানেজারের অসদাচরণের শিকার হয়েছি।

তৃতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী শাহরিয়ার অভিযোগ করেন, হলের ক্যান্টিনের চেয়ে নিুমানের খাবার সরবরাহ করে তুলনামূলক বেশি দাম নেওয়া হয় ক্যাফেটেরিয়ায়। বিশ্বিবদ্যালয়ের আশেপাশের দুপুর আর রাতের খাবার চিকন চালের ভাত, সবজি মাছ অথবা মরগীর মাংস ডাল সহ ৪০ টাকা হলেও ক্যাফেটেরিয়ায় সরবরাহ করা মোটা চালের ভাত মাছ অথবা মুরগীর মাংসসহ  দাম নেওয়া হয় ৪৫ টাকা। সাথে থাকে না কোন সবজি অথবা ডাল।

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইতি বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় সচরাচর যেসব খাবারের আইটেম থাকে সেসবের মধ্যে সিকৃবির ক্যাফেটেরিয়ায় হাতেগোনা দু একটা আছে। মাঝেমধ্যে দেখা যায় রাতের বাসি পরোটা সকালে সরবরাহ করা
হয়।এক দিনের রান্না করা তরকারি চালানো হয় দুই-তিন দিন। চা মাঝে মধ্যে পাওয়া গেলেও কফি কখনোই পাওয়া যায় না। পরোটার সাথে সরবরাহ করা ডাল ভাজিতে পাওয়া যায় চুল আর পোকামাকড়। সিঙ্গারায় মাঝে মাঝে পাওয়া যায় তেলাপোকার পাখনা। এরপর তো অপরিষ্কার বেসিন ও টয়লেটের দুর্গন্ধের বিড়ম্বনার শেষ নেই। এসব বিষয়ে অভিযোগ করে কখনো ফল পাইনি।

ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালক এসব বিষয়ে কথা বলতে নারাজ। সিকৃবি ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ সায়েম উদ্দিন আহম্মদ এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে আসলে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্যাফেটেরিয়ার মান উন্নত করার জন্য কয়েকবার বলা হয়েছে। তারপরও অবস্থার উন্নতি হয় নাই।

শিক্ষার্থীরা মনে করেন ক্যাফেটেরিয়ার ম্যানেজার প্রভাবশালী ছাত্রনেতাদের সাথে সুস¤পর্ক বজায় রেখে চলে। যার ফলে সে সাধারণ শিক্ষার্থী এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো পরোয়া করে না।

escort izmir