সাইকেল চোরদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বাকৃবি ক্যাম্পাস

বাকৃবি প্রতিনিধি:বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বাই-সাইকেল চুরি এখন নিত্যদিনকার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। বলতে গেলে চোরদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বাকৃবি ক্যাম্পাস। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, নিরাপত্তার গাফিলতির কারণেই এ চুরিগুলো থামানো যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সামনে থেকে একটি বাই-সাইকেল চুরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে বাইসাইকেল চুরির ঘটনাটি দেখা যায়। তবে নিম্নমানের সিসি ক্যামেরার কারণে চোরের চেহারা শনাক্ত করতে পারেননি নিরাপত্তা শাখার কর্মীরা। এছাড়াও এ মাসে আরও কয়েকটি বাইসাইকেল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর গত ৬ মাসে এর চুরির সংখ্যা প্রায় অর্ধশতাধিক বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

চুরি হওয়া বাই-সাইকেলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের এর শিক্ষার্থী মো. রাফী উল্লাহ ফুয়াদের। সে জানায়, সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ের সামনে আমি সাইকেলটি রেখে দিই। পরে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে কাজ শেষে ফিরে এসে দেখি ওই জায়গায় আমার সাইকেলটি নেই। পরে সাইকেল চুরির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে দ্রুত আমার সাইকেল উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, নিরাপত্তাকর্মী ও সিসিক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও প্রতিনিয়তই ক্যাম্পাসে বাইসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে। চোরদের একটি নির্দিষ্ট দলই বার বার এই চুরির ঘটনা গুলি ঘটাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। সাইকেল চুরির ঘটনা কেবল নিম্নমানের সিসি টিভির ফুটেজ দেখিয়ে তারা দ্বায়িত্ব শেষ করেন। আর নিম্নমানের সিসি ক্যামেরার জন্য চোরের মুখ স্পষ্ট ভাবে শনাক্ত করা যায় না। পূর্বেও কৃষি অনুষদীয় করিডর, পশুপালন অনুষদের গ্যারেজ, বিভিন্ন হল, জব্বারের মোড়ের মত জায়গা থেকে অনেক শিক্ষার্থীর সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটলেও এর কোন সুরাহা হয়নি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে নিরাপত্তা শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৬০ টি সিসি ক্যামেরারা মধ্যে শুধুমাত্র আটটি সিসি ক্যামেরার লিংক পাওয়া যায়। এমনকি সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেকগুলো নতুন সিসি ক্যামেরা সংযোজন করা হলেও কৃষি অনুষদের করিডোরের মত গুরুরত্বপূর্ণ জায়গায় কোন সিসি ক্যামেরা নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, প্রশাসনের জানা উচিত বছরে কি পরিমান চুরির ঘটনা ঘটে? আমার একদমই নতুন সাইকেল হারিয়ে যায় ফজলুল হক হল থেকে। হল প্রশাসন, গেটম্যানদের বলেও কোন ফল হয়নি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন হাওলাদার বলেন, সাইকেল চুরির ঘটনাটি আমরা জানতে পেরেছি এবং সিসি টিভি ক্যামেরার ফুটেজও দেখেছি। আমরা সাইকেল উদ্ধারের চেষ্টা করছি। নিরাপত্তা কাউন্সিলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো.আব্দুল আলীম বলেন, আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের নিরাপত্তা শাখার পর্যাপ্ত পরিমান নিরাপত্তা কর্মী না থাকায় সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এসব চুরির ঘটনা থেকে নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো।  

antalya bayan escort bursa bayan escort adana bayan escort mersin bayan escort mugla bayan escort samsun bayan escort konya bayan escort