বাকৃবি উপাচার্য হতে চলছে দৌড়ঝাপ

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি: আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) উপাচর্যের মেয়াদকাল শেষ হবে। উপাচার্য শেষ কর্মদিবস পালনের মাধ্যমে আজ মেয়াদকাল শেষ করবেন। তবে তিনি আর মেয়াদকাল বাড়াতে আবেদন করেননি বলে জানিয়েছেন। বেশ কিছু সূত্র ধরেও এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে পরবর্তীতে উপাচার্য কে হবেন, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডজনখানেক শিক্ষক দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ মে ৪ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান পশুপালন অনুষদের পশু পুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর। বিগত ৪ বছরে উপাচার্যের বিরুদ্ধে তেমন কোনো অনিয়ম ও দুনীর্তির অভিযোগ না থাকলেও তার মেয়াদ কালের শেষ পর্যায়ে এসে অনুষদপ্রীতি, কিছু শিক্ষকদের অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান, নিয়ম বহির্ভূত মৌসুমী শ্রমিক নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ঘাটতি সহ নানা অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপাচার্য হওয়ার দৌড়ে অনেকেই এগিয়ে আছেন। তাদের মধ্যে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান, একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মনোরঞ্জন দাস, প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. এস. মাহফুজুল বারি, ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম জাকির হোসেন, বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খানরা আছেন আলোচনার শীর্ষে। উনারা প্রত্যেকেই কোন না কোনভাবে এমপি, মন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মেম্বারদের সাথে যোগাযোগ করছেন। অনেকে আবার তাদের নিজ বাসভবনে গিয়েও দেখা করে এসেছেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁদের অনেকেই জানিয়েছেন, আমরা বড়জোড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো চেয়ে সুপারিশ করতে পারি কয়েকজনের নাম। তবে পুরো বিষয়টিই মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান আছেন সবার চেয়ে এগিয়ে। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ থেকেই উপাচার্য হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এ কারণে তাকে নিয়েই লবিং করছেন অনেকেই। আবার তিনি এর পূর্বেও শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সভাপতি হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা কমিটির কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার পরই উপাচার্যের দৌড়ে এগিয়ে আছেন অধ্যাপক ড. মনোরঞ্জন দাস। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সভাপতি ও পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টার ডিসিপ্লিনারি ইনস্টিটিউট ফর ফুড সিকিউরিটির (আইআইএফএস) পরিচালক অধ্যাপক ড. এ. এস. মাহফুজুল বারি চার বছর মেয়াদে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সাইন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উপার্চায ও বাকৃবির শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই অধ্যাপকের বাড়ি আবার কৃষিমন্ত্রীর জেলায় (টাঙ্গাইলে)। সেক্ষেত্রে তিনিও তার সাথে অনেক আগে থেকেই যোগাযোগ রাখছেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দিক থেকে এগিয়ে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খান। তবে তার বিষয়ে অনেক শিক্ষকই নেতিবাচক কথা বলেছেন। এর পূর্বে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়াও উপাচার্য হতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ছোলায়মান আলী ফকির, গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সভাপতি ও পোল্ট্রিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সচ্চিদানন্দদাস চৌধুরী, কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) সাবেক পরিচালক ড. মো. মঞ্জুরুল আলম, বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) বর্তমান পরিচালক এবং পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এম.এ.এম. ইয়াহিয়া খন্দকার, কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন চৌধুরী, একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহসান বিন হাবীব প্রমুখ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাকৃবি গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, আবাসিক হলের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা করবে এমন ব্যক্তিকেই আমরা উপাচার্য হিসেবে চাই। সর্বোপরি আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণকারী ব্যক্তি যেন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান সে প্রত্যাশা রাখছি।

antalya bayan escort bursa bayan escort adana bayan escort mersin bayan escort mugla bayan escort samsun bayan escort konya bayan escort