বন্ধ হবে বিদেশ থেকে গম আমদানি; গমের ব্লাস্টরোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনের সম্ভাবনা

বাকৃবি প্রতিনিধি:গমের ব্লাস্ট রোগ দমন ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় গমের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনে সম্ভাবনা রয়েছে। বীজ রেডিয়েশন প্রয়োগের মাধ্যমে এই গবেষণা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন গবেষণা প্রকল্পের প্রধান ড. বাহাদুর মিয়া।

সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিনা) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এইসব কথা বলেন। সম্মেলনে আরো জানানো হয়, বীজ রেডিয়েশন মাধ্যমে প্রাপ্ত গাছগুলো ব্লাস্ট আক্রমণ করে নি। এইগুলো আমরা গবেষণাগারে আরও পর্যবেক্ষণ করে আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে ব্লাস্ট প্রতিরোধ জাত বাজারজাত করা যাবে। এতে কৃষকের পাশাপাশি দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। জাতটি ভালভাবে ব্যবহার করতে পারলে বিদেশ থেকে গম আমদানি বন্ধ করা সম্ভব হবে বলেও জানানো হয়।

গবেষক জানান, গমের ব্লাস্ট একটি ক্ষতিকর ছত্রাকজনিত রোগ। ছত্রাকটির বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাগনাপরথি অরাইজি (পাইরিকুলারিয়া অরাইজি) প্যাথোটাইপ ট্রিটিকাম। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে যশোর, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল ও ভোলা জেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, যা মোট গম আবাদি জমির প্রায় ৩ শতাংশ। এ রোগের কারণে আক্রান্ত গমের ফলন শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ কমে যায় এবং ক্ষেত্র বিশেষে কোনো কোনো ক্ষেতের ফসল প্রায় সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে যায়।

গবেষক আরো জানান, ব্লাস্ট রোগের কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত গম ক্ষেতের কোনো কোনো স্থানে শীষ সাদা হয়ে যায় এবং অনুকূল আবহাওয়ায় তা অতি দ্রুত সারা ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে। গমের কিছু শীষের উপরিভাগ শুকিয়ে সাদাটে বর্ণ ধারণ করে যা সহজেই নিম্নভাগের সবুজ ও সুস্থ অংশ থেকে আলাদা করা যায়। আবার কোনো কোনো শীষের প্রায় সম্পূর্ণ অংশই শুকিয়ে সাদাটে হয়ে যায়। এটি গমের ব্লাস্ট রোগের আদর্শ লক্ষণ। প্রধানত গমের শীষে ছত্রাকের আক্রমণ হয়। শীষের আক্রান্ত স্থানে কালো দাগ পড়ে এবং আক্রান্ত স্থানের উপরের অংশ সাদা হয়ে যায়। তবে শীষের গোড়ায় আক্রমণ হলে পুরো শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। আক্রান্ত শীষের দানা অপুষ্ট হয় ও কুঁচকে যায় এবং দানা ধূসর বর্ণের হয়ে যায়। পাতায়ও ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ হতে পারে এবং এ ক্ষেত্রে পাতায় চোখের মতো ধূসর বর্ণের ছোট ছোট নেক্রোটিক দাগ পড়ে।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) মহাপরিচালক ড. হোসনেয়ারা বেগম বলেন, গমের ব্লাস্ট প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনে আমরা শুরু থেকেই আছি। অতি শ্রীঘই জাতটি রিলিজ করতে পারব। এতে করে কৃষকেরা আরও লাভবান হবে ও গম চাষে আগ্রহী হবে।

antalya bayan escort bursa bayan escort adana bayan escort mersin bayan escort mugla bayan escort samsun bayan escort konya bayan escort