বাউরেস: বাংলাদেশের কৃষি গবেষণার আঁতুড়ঘর

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। আমাদের জাতীয় উন্নয়ন তাই কৃষি উন্নয়নের সাথেই নিবিড়ভাবে জড়িত। জনবল, জমি ও জল-এ ত্রিবিধ সম্পদে বাংলাদেশ বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। এ সম্পদের বিজ্ঞানসম্মত ও পরিকল্পিত ব্যবহার ও গবেষণার মাধ্যমে এ দেশের কৃষিজ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। আর কৃষি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) রয়েছে বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সিস্টেম যা বাউরেস নামে পরিচিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সকল ধরনের কৃষি গবেষণা পরিচালিত হয় এ রিসার্চ সিস্টেমের তত্ত্বাবধানেই। বর্তমানে এর পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও গবেষক  ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার। সম্প্রতি এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আবুল বাশার মিরাজ এর মুখোমুখি হয়েছিলেন এই গবেষক। একান্ত আলাপচারিতায় তিনি জানান এ প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক কর্মকান্ড সম্পর্কে। এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোরডটকমের ভক্ত পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: বাউরেস কবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: আধুনিক কৃষি বিজ্ঞান ও কারিগরি জ্ঞানে দক্ষ কৃষি বিজ্ঞানী ও কৃষি গবেষক তৈরি করা যারা দেশের কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণ ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দিবে, এরই প্রেক্ষিতে এদেশে কৃষি বিজ্ঞানের সকল শাখায় উচ্চতর শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণের সুযোগ-সুবিধা বিধানের লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালের ৩০ আগষ্ট সিন্ডিকেটের ১৬১ তম অধিবেশনে বাউরেস প্রতিষ্ঠা পায়।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: মূলত কি কারণে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার গোড়ার দিক থেকেই এখানে ডিগ্রী-গবেষণা ও প্রকল্প-গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘকাল এই উভয় ধারার গবেষণা কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির ওপর। তবে পরবর্তীকালে স্নাতকোত্তর-গবেষণায় শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে গবেষণা-সহায়তা বেড়ে যায়। ফলে এককভাবে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির পক্ষে এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়সাধন অসম্ভব হয়ে পড়ে। দুটি পৃথক সংস্থার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প-গবেষণা ও ডিগ্রী-গবেষণা ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন সংখ্যক দাতা সংস্থাও পরামর্শ রাখে। এই প্রেক্ষিতে ডিগ্রী-গবেষণার বিষয়টি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা কমিটির আওতায় রেখে প্রকল্প-গবেষণা ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের জন্য ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস)’ গড়ে তোলা হয়। তখন থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত প্রকল্প-গবেষণা কার্যক্রমের তদারকি, ব্যবস্থাপনা ও পরিবীক্ষণের যাবতীয় দায়িত্ব বাউরেস পালন করে আসছে।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: বাউরেসের কি কি কার্যক্রম পরিচালনা করে, সে সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: অবশ্যই। প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, গবেষণা প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন দাতা সংস্থার সাথে প্রাতিষ্ঠানিক আন্তসংযোগসহ বিভিন্ন কাজ করে থাকে। বাউরেসের তত্ত্বাবধানে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ (বাউএক) ২৪টি গ্রামে এবং ফার্মিং সিস্টেম ও এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ প্রকল্পভুক্ত গ্রামের কৃষকদের নিকট হস্তান্তর করা হয়ে থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে এই প্রযুক্তিসমূহ দেশের বিভিন্ন কৃষি পরিবেশগত অঞ্চলের কৃষকগণ লাভজনকভাবে ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়াও বাউরেসের ব্যবস্থাপনায় ‘জার্নাল অফ দ্যা বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি’ নামে  আন্তর্জাতিক মানের একটি জার্নাল এবং ত্রৈমাসিক কৃষি প্রযুক্তি বার্তা নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: এ পর্যন্ত কতটি গবেষণা কার্যক্রম এ প্রতিষ্ঠানটি সম্পন্ন করেছে সেটা বলবেন কি?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাউরেস সাফল্যের সাথে মোট ২৩৫০টি গবেষণা প্রকল্প সমাপ্ত করেছে।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: বর্তমানে চলমান গবেষণা প্রকল্প রয়েছে কতটি?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: বর্তমানে বাউরেসের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৫৬০ টি (বিদেশী ৩২টি, দেশী  ৫২৮টি) প্রকল্পের গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: দেশের কৃষি গবেষণায় কিভাবে সহায়তা করছে বাউরেস, এটা নিয়ে কিছু বলবেন কি?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীবৃন্দ বাউরেস-এর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের জাতীয় গবেষণা সিস্টেম (এনএআরএস)-এর আওতায়ভুক্ত সকল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের, অর্থাৎ বিএআরসি, বারি, ব্রি, বিনা, বিএফআরআই, বিজেআর আই প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিকল্পনা, মূল্যায়ন সভা, সেমিনার ও কর্মশালায় নিয়মিতভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং বাউরেস-আয়োজিত অনুরূপ কার্যক্রমে উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের বিজ্ঞানীদের অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়ে থাকে। এছাড়া জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কৃষি সমস্যার সমাধানমূলক গবেষণায় বাউরেস জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাসমূহকেও সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করা হয়ে থাকে।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: বাউরেসের উল্লেখযোগ্য গবেষণা সম্পর্কে বলবেন কি?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: দেখেন আমাদের গবেষণাগুলো অল্প সময়ে বলে শেষ করা যাবে না। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় ইলিশ মাছের জিনোম সিস্কোয়েন্স আবিষ্কার, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের সিস্কোয়েন্স আবিষ্কার, সয়েল কিট আবিষ্কার, বাউ ব্রো, বাউকুল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: গবেষণাগুলোর আর্থিক প্রণোদনা কিভাবে আসে?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার:  বাউরেস এ গবেষণাগুলোর জন্য আর্থিক প্রণোদনা তিনভাবে আসে- বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী থেকে বার্ষিক বিশেষ বরাদ্দ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরাদ্দ, বাউরেস বাংলাদেশের জাতীয় গবেষণা সিস্টেম (এনএআরএস) এর সহযোগী সদস্য হওয়ায় এমওই, এমও এসটি, বিএআরসি, এনএটিপি-২, কেজিএফ, বি এস ইউএসডিএ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকল্প ভিত্তিক গবেষণা বরাদ্দ। এছাড়াও আন্তজার্তিক দাতা সংস্থা কর্তৃক গবেষণা প্রকল্প ভিত্তিক গবেষণা প্রণোদনা দিয়ে থাকে আমাদের।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: প্রতিষ্ঠানটির কোন সীমাবদ্ধতা আছে কিনা?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: জনবলের সীমাবদ্ধতাই এখন সবচেয়ে প্রকট। এছাড়াও অবকাঠামো সীমাবদ্ধতাও রয়েছে আমাদের।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: যতদূর জানি, প্রতিষ্ঠানটির সব কাজ ডিজিটালাইজেশন হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার:  বাউরেসের কার্যক্রমের গতিশীলতা বৃদ্ধি ও মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন এজেন্ডা ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার নিমিত্তে আমি পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রির্সাচ সিস্টেম (বাউরেস) এর কার্যক্রম অটোমেশন করার উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে বাউরেস এর জন্য আলাদা ওয়েবসাইট তৈরী করা হয়েছে। বাউরেস থেকে প্রকাশিত জার্নালটি সম্পূর্ণভারে অটোমেশন করা হয়েছে। বাউরেস এর প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে অটোমেশন করার লক্ষ্যে নিজস্ব উদ্যেগে ই প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার (ইপিএম) তৈরী করে সম্প্রতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত প্রায় ১১৪ টি গবেষণা প্রকল্পের কার্যক্রম পরীক্ষামূলক সম্পর্ণভাবে অটোমেশন পরিচালিত হচ্ছে। আশা করছি আগামী জুন ২০১৯ থেকে বাকী প্রকল্পগুলো অটোশেনের আওতায় নিয়ে আসতে পারব।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: বর্তমানে এখানে ¯œাতকোত্তর শিক্ষার্থীরাও সরাসরি বাউরেসের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: বাউরেস এর তত্বাবধানে পরিচালিত গবেষণা প্রকল্পের অধীনে এম এম ও পিএইচডি গবেষণা পরিচালিত হয়। এছাড়াও এবছর মাসিক ৫০০০ টাকা হারে ১০০ জন ছাত্রকে এম এম ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: আন্তজার্তিক দাতা সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা কিংবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আপনাদের কোন গবেষণা পরিচালিত হয় কিনা?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: বাউরেসের চলমান ৫৬০টি গবেষণা প্রকল্পের মধ্যে আন্তজার্তিক দাতা সংস্থার অর্থায়নে ৩২টি গবেষণা প্রকল্প, দেশী (সরকারী ও বেসরকারী) সংস্থার অর্থায়নে ৫২৮ টি গবেষণা প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: গবেষণাগুলো মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যেতে আপনারা কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকেন?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: মূলত বাউরেস এর গবেষণায় উদ্ভাবিত কৃষি প্রযুক্তি গুলো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ কেন্দ্র (বাউএক) এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: বাউরেস কৃষকদের সাথে সরাসরি কোন কাজ করে কি?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: বাউরেস কৃষকদের সাথে সরাসরি কোন কাজ করে না। তবে বাউরেস থেকে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক কৃষি প্রযুক্তি বার্তা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়। কৃষকরা প্রযুক্তি বার্তা থেকে উদ্ভাবিত কৃষি প্রযুক্তি সম্পক্ষে জানতে ও ব্যবহার করতে পারে। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের কোন বিশেষ সমস্যা দেখা দিলে বাউরেস বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন ও মাঠ পর্যায়ে সরজমিনে তদন্ত করে পরামর্শ দিয়ে থাকে এবং জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারকদেরও সহায়তা করে থাকে।  

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: বাউরেসের বার্ষিক বরাদ্দ নিয়ে আপনারা কখনও সমস্যায় পড়েন কি?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: বিপুল সংখ্যক গবেষণা প্রকল্প জমা দিলেও অর্থের অভাবে অনেক প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হয় না, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অতি নগণ্য। তবে একটা সময় আসবে আমরা নিজেরাই নিজেদের গবেষণা পরিচালিত করতে পারব, সেদিকেই এগোনোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: প্রতিষ্ঠানটির কোন পদক প্রাপ্তি আছে কিনা?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: না, বাউরেস প্রতিষ্ঠান হিসেবে এ কোন পদক পায়নি, তবে প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত গবেষণার অগ্রগতি ও বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন প্রধান গবেষক বিভিন্ন ধরনের পদক গেয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টার বৃক্ষরোপণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০১২ অর্জন করেছে। গত ২৮ জুন ২০১৩ তারিখ সেনেগালে অনুষ্ঠিত “ফিড দ্য ফিউচার ইভেন্ট” শীর্ষক কৃষি উপকরণ যন্ত্রপাতিবিষয়ক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের উদ্ভাবিত ইনজেক্টর পদ্ধতিতে গুটি ইউরিয়া প্রয়োগ যন্ত্রটি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: বার্ষিক গবেষণা সেমিনার সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: বাউরেস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিবছর দুই দিন ব্যাপী গবেষণা অগ্রগতি কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। উক্ত কর্মশালায় বাউরেস এর তত্ত্বাধানে পরিচালিত গবেষণা অগ্রগতির ফলাফল অনুষদ কর্তৃক বিশেষায়িত টেকনিক্যাল কমিটি দ্বারা মূলায়ন করা হয়। অতিসম্প্রতি ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের বাষিক গবেষণা অগ্রগতি কর্মশালা গত জানুয়ারী ২০১৯ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। উক্ত কর্মশালায় বিভিন্ন অনুষদের সম্মনিত শিক্ষকদের এইচ ইনডেক্স মানের উপর ভিত্তি করে এবছর মোট ১১ জনকে ‘গ্লোবাল রিসার্চ ইমপ্যক্ট রিকোগনাইজেশন অ্যাওয়ার্ড’  প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি উৎপাদনে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ৬ জন কৃষককে প্রফেসর ড. আশরাফ আলী খান স্মৃতি কৃষি পুরষ্কার-২০১৯ প্রদান করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ১০ টি ভেন্যুতে মোট ১৫ টি টেকনিক্যাল (১৩ টি ওরাল ও ১ টি পোষ্টার সেসন) সেসন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত টেকনিক্যাল সেসনে প্রায় ৩৯৭ টি গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপিত হয়েছে।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: বাউরেসের ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে যদি কিছু বলতেন?
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: বাউরেসকে শতভাগ অটোমেশন করে যুগোপযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা ও  দেশ বিদেশে বাউরেস-কে একটি মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই।

এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকম: সময় ও তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ।
ড. এম এ এম ইয়াহিয়া খন্দকার: আপনি ও এগ্রিলাইফ টুয়েন্টিফোর ডটকমকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ।

escort beylikduzu izmir escort corum surucu kursu malatya reklam