শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের জন্য টাইমস-বিডি২৪ডটকম এর সম্মাননা স্মারক পেলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

গবেষণা ডেস্ক:বহুমাত্রিক প্রতিভাধর লেখক, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক, ইসলামী চিন্তাবিদ, বিশিষ্ট গবেষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা, উত্তরা ঢাকার ফ্যাকাল্টি অব লিবারেল আর্টসের ইসলামিক স্টাডিজ ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের এডভাইজার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান সম্প্রতি টাইমস-বিডি২৪ডটকম (times-bd24.com)-এর পক্ষ থেকে পত্রিকার ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা স্মারক লাভের গৌরব অর্জন করেছেন।

‘সময়ের সাথে সত্যের পথে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে স্বল্পসময়ে ব্যাপক আলোচিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘টাইমস-বিডি২৪ডটকম’ এর ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে গত ৬ এপ্রিল, ২০১৯ শুক্রবার সকালে এক বিশেষ আলোচনা সভা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‘টাইমস-বিডি২৪ডটকম’ এর সম্পাদক মনসুর আহমাদ সাকীর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। কিন্তু তিনি অনিবার্য কারণবশত যথাসময়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হতে না পারায় মোবাইল ফোনে দুঃখ প্রকাশ করে ‘টাইমস-বিডি২৪ডটকম’ পত্রিকার বর্ষপূর্তির জন্য শুভকামনা জানান ও টাইমস পরিবারকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।

টাইমস-বিডি২৪ডটকম এর ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দের উপস্থিতিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষক সমাচারের সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, বিশিষ্ট কলাম লেখক, প্রাবন্ধিক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুুল মুনিম খান, ইউএনবির মফস্বল সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ, এনডিএম এর দফতর সম্পাদক লায়ন নুরুজ্জামান হীরা, প্রখ্যাত আইনজীবি এডভোকেট আবু হানিফ মিয়া, বিশিষ্ট সমাজসেবক মনসুর আহমদ মুসা, বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরামের সভাপতি জহির উদ্দীন বাবর প্রমুখ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা ‘টাইমসবিডির পথ চলা শুভ হোক’ এ কামনা করে বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশে গজিযে ওঠা অনলাইন নিউজ পোর্টালের অভাব নেই। নেই সাংবাদিকদের কোনো স্বল্পতা। তবে অভাব সত্য সংবাদ প্রচার ও পরিবেশনের। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে বস্তুনিষ্ঠ ও সাহসী সংবাদ মাধ্যম খুবই বিরল। আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘাপটি মেরে থাকা যাবতীয় অন্যায়-অসঙ্গতিগুলো অনুসন্ধান করে জাতির সামনে পেশ করা এবং সমাধানের পথ বাতলে দেওয়ার মতো সাংবাদিকতাও খুব একটা চোখে পড়ে না। এমন সব বিপরীত স্রোতধারা উপেক্ষা করে সত্যনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সুন্দর সংবাদগুলো জনতার সামনে দৃষ্টিগোচর করার প্রত্যয় নিয়ে ‘টাইমস-বিডি২৪ডটকম’ এর পথচলা আমাদের অনেক নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ‘সময়ের সাথে সত্যের পথে- শ্লোগান নিয়ে সামনে এগিয়ে চলছে, দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাক! ১ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে এটাই সবার প্রত্যাশা।’

আলোচনা পর্ব শেষে ‘টাইমস-বিডি২৪ডটকম’ এর প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদান রাখায় দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লার ফ্যাকাল্টি অব লিবারেল আর্টসের ইসলামিক স্টাডিজ ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের এডভাইজার অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান, সাংবাদিকতায় ইউএনবি’র মফস্বল সম্পাদক ও হেড অব বাংলা সার্ভিস রাশেদ শাহরিয়ার পলাশ, লেখালেখি ও লেখকদের কল্যাণে বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরামের সভাপতি জহির উদ্দীন বাবর, পোষাক শিল্পে লাবিদ গার্মেন্টস এর স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ্ব মনসুর আহমাদ মুসা, সংস্কৃতিতে কলরব এর সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ বদরুজ্জামান, সফল উদ্যোক্তা হিসেবে রুহানী গ্রুপের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল আহাদ সালমান, তরুণ সাংবাদিক হিসেবে ‘বিডি সমাচার২৪ডটকম’ এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক মুহাম্মদ মহসিন হোসেন এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় বিশেষ অবদান রাখায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আসক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আল-আমীনকে সম্মাননা স্মারকে ভূষিত করা হয়। এ সময় পদকপ্রাপ্তদের হাতে মূল্যবান ক্রেষ্ট তুলে দেওয়া হয় এবং সম্মাননা স্মারকের মাধ্যমে গুণীজনদের এ বিরল সংবর্ধনা প্রদানের জন্য ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে ‘টাইমস-বিডি২৪ডটকম’ পরিবারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।
স্ব-স্ব ক্ষেত্রে দেশ ও জাতির উন্নয়ন এবং অগ্রগতিতে তাঁদের বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি স্বরূপ এ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকগণ।

উল্লেখ্য যে, ‘টাইমস-বিডি২৪ডটকম’, পায়রা.নিউজ, এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম, নীলরঙ্গ, শিক্ষাবার্তা ও ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা’ পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান এ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে ১৫টি বিরল সম্মাননা পদক ও পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্তির জন্য ‘নীলকান্ত সরকার স্বর্ণপদক-১৯৯১’, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগ থেকে বি.এ অনার্স ও মাস্টার্স পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান লাভের জন্য ‘গ্রন্থ পদক পুরস্কার-১৯৯১ ও ১৯৯২’, ‘সাইদুর রহমান ফাউন্ডেশন পুরস্কার’, ‘নাসিরুন্নেসা ফাউন্ডেশন পুরস্কার’, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.ফিল ও পিএইচ.ডি বৃত্তি পুরস্কার’, ‘রোটার‌্যাক্টরস ট্রেনিং ক্যাম্প-এর ‘আরটিসি বেষ্ট অলরাউন্ডার পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড-১৯৯৭’, ‘রোটারী ইয়ুথ লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ডস-এর ‘রায়লা বেস্ট ক্যাম্পার অ্যাওয়ার্ড-১৯৯৮’, বাংলাদেশ জাতীয় অধূমপায়ী ফোরামের ‘নন-স্মোকারস্ অ্যাওয়ারন্যাস অ্যাওয়ার্ড-১৯৯৪, এন্টি ড্রাগস সোসাইটির ‘এডিএস অ্যাওয়ার্ড-২০০৩’, রোটার‌্যাক্ট ক্লাব অব ঢাকা ইউনিভার্সিটির ‘পাস্ট প্রেসিডেন্ট রিকগ্নিশন অ্যাওয়ার্ড ইউনিক-২০০৪’, বাংলাদেশ সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের ‘বি-বাড়ীয়া জেলার কৃতী সন্তান অ্যাওয়ার্ড-২০০৯’, নজরুল গবেষণায় অবদানের জন্য ‘জাতীয় কবি নজরুল অ্যাওয়ার্ড-২০১০’, রোটার‌্যাক্ট ক্লাব অব ঢাকা ইউনিভার্সিটির সিলভার জুবিলী ও ২৬ তম চার্টার ডে সেলিব্রেশন ‘পাস্ট প্রেসিডেন্ট আ্যওয়ার্ড-২০১৫’ প্রভৃতি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজি মুহম্মদ মোহসীন হলের হাউজ টিউটরস কোয়াটারে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান নোমান জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ. ন. ম. আবদুল মান্নান খান। তাঁর মাতার নাম রেহানা আক্তার বেগম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগ থেকে ১৯৯১ সালে বি.এ অনার্স ও ১৯৯২ সালে মাস্টার্স (থিসিস গ্রুপ) পরীক্ষায় রেকর্ডসংখ্যক নম্বর পেয়ে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম স্থান লাভ করেন এবং এবং কলা অনুষদের অধীনে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে ২০০২ সালে পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।  

ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া বিভাগের অধীনে আরবী (ক্যাল্প) প্রোগ্রামের মিডিয়া প্রেজেন্টার হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে ভাষা শিক্ষাদান শুরু করেন। ২০০০ সালে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) ঢাকা ক্যাম্পাস-এর ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ২০০১ সালে তিনি আরবী ও ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের পূর্ণকালীন প্রভাষক হিসেবে নিয়োজিত হন এবং ২০০৫ সালে তিনি সিলেকশন গ্রেডে লেকচারার পদে আইআইইউসি চট্টগ্রাম ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হন।

২০০৬ সালে তিনি দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বুদ্ধিভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইসলামিক একাডেমীতে (ইনস্টিটিঊট অব ইন্টেলেকচুয়্যাল স্টাডিজ) সহকারী অধ্যাপক পদে যোগদান করেন। এরপর তিনি যথাক্রমে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদোন্নতি লাভ করে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ ও দাওয়াহ বিভাগের চেয়ারম্যান, সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের উপ-পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হিসেবে সুদীর্ঘ ১০ বছর প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করেন।

২০১৭ সালে তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের এশিয়ান ইনস্টিটিউটের পরিচালক পদে যোগদান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণা ও প্রকাশনা সংক্রান্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব তত্ত্বাবধান করেন। ২০১৮ সালে তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ইসলামিক স্টাডিজ ও দাওয়াহ বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে এইউবি’র মূল ক্যাম্পাস আশুলিয়ায় পাঠদান করেন। এরপর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা (ইউনিক) উত্তরা, ঢাকার কলা অনুষদের ইসলামিক স্টাডিজ ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের পূর্ণকালীন এডভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খানের কর্মব্যাপকতা ব্যাপক। তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে বাংলাদেশ বেতারের বহির্বিশ্ব কার্যক্রম আরবী অনুষ্ঠানের নিয়মিত উপস্থাপক ও সংবাদ পাঠক হিসেবে নৈশকালীন দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০০২ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার ও সৈনিকদের আরবী ভাষার খন্ডকালীন প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০৩-২০১৫ সাল পর্যন্ত নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’ পত্রিকার ধর্ম বিষয়ক কলাম লেখক হিসেবে মসি চালিয়েছেন। লেখালেখির সুবাদে তিনি ‘প্রথম আলো’ পত্রিকার ‘ইসলাম বিষয়ক উপদেষ্টা’ হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান রচিত ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা ১৮টি। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম-২০১২ এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত সিলেবাস অনুযায়ী একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক হিসেবে রচিত ‘উচ্চ মাধ্যমিক ইসলাম শিক্ষা’ ১ম ও ২য় পত্র (ঢাকা: আইডিয়াল বুকস, ১ম প্রকাশ,  (২০১৮-২০১৯), প্রথম আলোয় প্রকাশিত রোজা বিষয়ক প্রবন্ধ সংকলন ‘সিয়াম সাধনা ও রমজান’ (ঢাকা: সাজিদ প্রকাশন, ১ম প্রকাশ, ইসলামী বই মেলা, এপ্রিল ২০০৮), প্রথম আলোয় প্রকাশিত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভ বিষয়ক সংকলন ‘নামাজ রোজা হজ ও জাকাত’ (ঢাকা: প্রথমা প্রকাশনী, ১ম প্রকাশ, ২০১২) প্রথম আলো ‘হজ গাইড’ (ঢাকা: প্রথম আলো, ১ম প্রকাশ, ২০০৭) প্রভৃতি।

ইসলামিক ফাউন্ডশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত অগ্রপথিক সংকলন ‘সিয়াম ও রমযান’ (ঢাকা: ইফাবা, ১ম প্রকাশ ২০০৩), ‘ইসলামী সাহিত্য সংস্কৃতি’  (ঢাকা: ইফাবা, ১ম প্রকাশ ২০০৪), ‘সন্ত্রাস প্রতিরোধে ইসলাম’ (ঢাকা: ইফাবা, ১ম প্রকাশ ২০০৫), ‘জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস প্রতিরোধ ও সামাজিক সমস্যা সমাধানে ইসলাম’ (ঢাকা: ইফাবা, ১ম প্রকাশ ২০১১) প্রভৃতি গ্রন্থে তাঁর অসংখ্য প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। তাছাড়া ‘সচ্চরিত্র গঠনের রূপরেখা’ (ঢাকা: আদর্শ শিক্ষা ও গবেষণা সোসাইটি, ১ম প্রকাশ, ২০০৭), ‘জাতি গঠনে আদর্শ মা’ (ঢাকা: আদর্শ শিক্ষা ও গবেষণা সোসাইটি, ১ম প্রকাশ, ২০০৬), বাংলাদেশ ও ভারতে প্রকাশিত দুই শতাধিক বইয়ের লেখক ‘সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ-এর জীবন ও সাহিত্যকর্ম: দীপ্তিমান ব্যাপ্তি’ (ঢাকা: সাহিত্য কথা, ১ম প্রকাশ, ২০১৬) সহ তিনি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও এনজেন্ডারহেলথ বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিস কর্তৃক যৌথভাবে ২০০৭ সালে প্রকাশিত ‘ইসলামের আলোকে পরিবার পরিকল্পনা’ এবং ‘ইসলামের আলোকে পরিবার পরিকল্পনার ব্যাখ্যাসমূহ’ শীর্ষক দুটি পুস্তিকার রিভিউ কমিটির সদস্য হিসেবে সম্পাদনা করেছেন। এছাড়াও তিনি স্কলাসটিকাসহ ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের পাঠ্যসূচি অনুযায়ী রচিত ধর্মীয় পাঠ্যপুস্তক ‘এন ইন্ট্রোডাকশন টু ইসলাম’ ১ম-৫ম খ- (ঢাকা: ইগ্নাইট পাবলিকেশান্স লিমিটেড, ৬ষ্ঠ সংস্করণ, ২০১৫,২০১৬ ও ২০১৭) শীর্ষক ৫টি ইংরেজি গ্রন্থের রিভিউ কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে আদ্যোপান্ত সম্পাদনা করেছেন।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খানের রচিত ২টি গবেষণা অভিসন্ধর্ভের বিষয় শিরোনাম হচ্ছে: ১. ‘আহমাদ শাওকীর কবিতায় ইসলামী ভাবধারা’ মাস্টার্স থিসিস ১৯৯২ এর গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন অধ্যাপক ড. মো: আবু বকর সিদ্দীক, সাবেক চেয়ারম্যান, আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

২. ‘আহমাদ শাওকী ও নজরুল ইসলাম-এর কবিতায় ইসলামী চিন্তাধারা’ পিএইচ.ডি থিসিস- ২০০২ এর গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন অধ্যাপক ড. এ.বি.এম. হাবিবুর রহমান চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রথম আলো, ইত্তেফাক, যুগান্তর, আলোকিত বাংলাদেশ, ইনকিলাব, পূর্ণিমা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শিক্ষাধারা, ক্রীড়ালোক, ক্রীড়াজগতসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্র-পত্রিকায় শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি-ক্রীড়াসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খানের সহস্রাধিক প্রবন্ধ, নিবন্ধ, মতামতধর্মী রচনা, গল্প, কবিতা, ছড়া ও ফিচার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পত্রিকা, সাহিত্য পত্রিকা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আরবী জার্ণাল, ইসলামিক স্টাডিজ জার্ণাল অব ড. সিরাজুল হক রিসার্চ সেন্টার, দর্শন ও প্রগতি, দারুল ইহসান ইউনিভার্সিটি স্টাডিজ, বাংলাদেশ জার্ণাল অব ইসলামিক থট (বিজেআইটি) প্রভৃতি গবেষণামূলক পত্রিকায় প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধের সংখ্যা ১৫টি। ইনডিপেনডেন্ট ইন্টার-ফেইথ জার্ণালে প্রকাশিত তাঁর গবেষণামূলক ইংরেজি প্রবন্ধের সংখ্যা ৫০টি। ইসলামিক ফাউ-েশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত অগ্রপথিক সংকলনে তাঁর প্রবন্ধের সংখ্যা ৮৩টি এবং ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক রাষ্ট্রীয়ভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে বার্ষিক ‘সীরাত স্মরণিকায় তাঁর নিবন্ধের সংখ্যা ৫টি ও ‘সুবহে সাদিক’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত মহানবী (সা.)-এর জীবনভিত্তিক তাঁর নিবন্ধের সংখ্যা ১০টি, কন্যাশিশু জার্ণালে প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধের সংখ্যা ৪টি ও বেতার বাংলায় প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধের সংখ্যা ১২টি।

২০১৭ সালে তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি বার্তা’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ‘বিডিক্যাম্পাসনিউজ২৪.কম’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও সম্প্রতি তিনি দুই বাংলার জনপ্রিয় স্যাটেলাইট চ্যানেল ‘তারা টিভি নিউজ’ এর এডভাইজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের সমসাময়িক বিষয়ে টকশো অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন।

১৯৯৭ সালে তিনি সার্ক ট্যুরে ভারত, পাকিস্তান ও নেপাল এবং ২০০৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো ও নিউ ইয়র্ক সিটিতে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডাসহ বিভিন্ন উপাসনালয় পরিদর্শন করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ‘হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান’ ঐক্য প্রচেষ্টায় ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে আন্তঃধর্মীয় সংলাপে অংশগ্রহণ করে মতবিনিময় করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর আমন্ত্রণক্রমে ২০১৩ সালে ইন্দোনেশিয়ায় জাকার্তা ও যোগজাকার্তায় ‘ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজিক পার্টনাশিপ উইথ ফেইথ বেইজড অর্গানাইজেশন এ- রিলিজিয়াস লিডারস ইন পপুলেশন, ফ্যামিলি প্লানিং, রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ এ- জেন্ডার প্রোগ্রামস্’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন।
   
তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটি রেজিষ্ট্রার্ড গ্র্যাজুয়েট, ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাই এসোসিয়েশন, ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যারাবিক ডিপার্টমেন্ট এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলা একাডেমী, বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদ, এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতি, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইসলামিক থট (বিআইআইটি), ইন্টাররিলিজিয়াস এন্ড ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর ওয়াল্ড পিস (আইআইএফডব্লিউপি), ইউনিভার্সেল পিস ফেডারেশন (ইউপিএফ), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), রেডিও এনাউন্সার্স ক্লাব (র‌্যাংক), নিউজ প্রেজেন্টার্স সোসাইটি অব বাংলাদেশ (এনপিএসবি) এর আজীবন সদস্য। এছাড়াও তিনি রোটার‌্যাক্ট ক্লাব অব ঢাকা ইউনিভার্সিটির সাবেক প্রেসিডেন্ট, ওয়ার্মহার্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রকাশনা সম্পাদক, আল-কুদস কমিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক, ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পরিচালক এবং  ইনস্টিটিউট অব ল্যাংগুয়েজ স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলার কসবা থানাধীন সৈয়দাবাদ গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক মরহুম আলহাজ্ব আবুল ইকরাম মুহাম্মদ হাবিবুল ইসলাম খানের প্রথম পৌত্র।

বহুমুখী প্রতিভাধর এই শিক্ষক লেখালেখির পাশাপাশি শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবনেও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, জাতি গঠনমূলক কর্মকান্ড ও মানবাধিকার সুরক্ষার সাথে জড়িত হয়ে পড়েন। সম্মাননা স্মারক প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণায় অবদানের জন্য এ বিরল সম্মাননা স্মারক-২০১৯ অর্জন করে আমি খুব খুশি ও স্বীকৃতির আনন্দে অভিভূত। যে কোনো পুরস্কার প্রাপ্তি অবশ্যই একজন লেখকের শিক্ষা, পাঠদান ও গবেষণা কর্মের গতিশীলতার দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে দেয়। আমি শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণা ও লেখালেখি অব্যাহত রেখেছি আর রাখবো ইনশাআল্লাহ। সেইসাথে আজীবন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, জনসেবা ও মানব কল্যাণমূলক কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি।"

escort izmir