দলবেঁধে ঘুরে এলাম দার্জিলিং

আবুল বাশার মিরাজ:অনেক জল্পনা কল্পনার পর আমরা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) সাংবাদিক সমিতির ১১ জন সদস্য দার্জিলিং এর উদ্দেশ্যে রওনা হই। সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে আমাদের বাস ময়মনসিংহ থেকে লালমনিরহাটের বুড়িমারি স্থলবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা করে। এরপর ইমিগ্রেশন শেষ করে আমরা প্রথমে শিলিগুড়ি পৌঁছালাম। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার জন্য জিপে চেপে বসলাম দুপুর ৩ টায়। কিছু দূর সমতল ভূমি যাওয়ার পর আঁকা বাঁকা পাহাড়ি পথ বেয়ে আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠতে লাগলো। পাহাড়ের গা ঘেঁষে সবুজের হাতছানি অনেক দূর কুয়াশাচ্ছন্ন টং এর মতো বাড়ি। সে এক অপরূপ দৃশ্য। নিচের দিকে তাকালে গা শিহরণ দেয়। কোথায় কোনো গভীর খাদ! আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘের মধ্যে আকাঁবাকাঁ রাস্তা দিয়ে রোমাঞ্চকর অনুভূতি সাথে নিয়ে দার্জিলিং শহরে পৌঁছলাম।

হোটেলের নির্ধারিত রুমে গিয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে নিলাম। আমাদের ভ্রমণসূচী নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ হলো। উনারা বললেন আগামীকাল ভোর ৪ টার দিকে আমাদের বের হতে হবে। উদ্দেশ্য টাইগার হিল থেকে সূর্যদোয় দেখা। এটি দার্জিলিং অঞ্চলের উচুঁ স্থান (৮৪৮২ ফুট) এবং শহর থেকে প্রায় ১১ কি. মি. দূরে অবস্থিত। পাহাড়ের নিচ থেকে উদীয়মান টকটকে লাল সূর্যের প্রথম রশ্মি পড়ে কাঞ্চনজঙ্খায়। আর টাইগার হিল হলো সেই বিরলতম স্থান, যেখান থেকে এভারেস্ট ও কাঞ্চনজঙ্খা এক সঙ্গে দেখা যায়। এরপর আসলাম বাতাসিয়া লুপ নামে একটি পার্কে। জায়গাটা একটা পাহাড়ের মাথায়। বাতাসিয়া লুপ এবং রেল স্টেশন এখন ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অংশ। এই বাতাসিয়া পাহাড়ের সবচেয়ে উঁচু শেষ মাথা ছুয়ে এসেছে রেল লাইন। ২ ফুট শর্ট গেজের রাস্তায় চলে ট্রেন। অনেকটা খেলনা রেললাইনের মতো এর জন্যই এর নাম ট্রয় ট্রেন। এখানে শহীদদের স্মরণে একটি শ্বেত পাথরে বাঁধানো স্মৃতিস্তম্ভ, চতুর্দিকে রয়েছে সাজানো গোছানো সুন্দর ফুল বাগান।

খাওয়া দাওয়া সেরে নির্ধারিত সময়ে আমরা ‘রক গার্ডেন’ দেখতে বের হলাম। এটি দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ৩০০০ ফুট নিচে। সে একই কথা আঁকা বাঁকা পথে পাহাড় ডিঙিয়ে জিপ-গাড়ি আস্তে আস্তে নিচের দিকে নামতে শুরু করলো। রক গার্ডেন যাওয়ার পথে দার্জিলিং এর বিখ্যাত চা বাগানগুলোর মধ্যে অন্যতম ওরেঞ্জ ভ্যালি চা বাগান পাড়ি দিতে হয়। চা বাগানের কোল ঘেষে আঁকা বাঁকা রাস্তার দু’পাশ জুড়ে ঘন সবুজের গালিচা, তার সাথে দেখতে পাওয়া মেঘ আর পাহাড়ের মিতালী চোখ জড়িয়ে গেল। এখানে এসেই প্রথমে চোখে পড়ল একটা কৃত্রিম পদ্মফুল সেখান থেকে মূল ঝর্ণা পর্যন্ত ধাপে ধাপে সিঁড়ি ওঠে গেছে। ঝর্ণার উৎস আরও অনেক উপরে কিন্তু সেখান অবধি যাওয়ার উপায় ছিলো না। তারপর আবার হোটেলে ফেরা। কিছুক্ষণ বিশ্রাম খাওয়া দাওয়া সেরে শহরটা ঘুরে বেড়াতে এবং আরো কয়েকটা দর্শনীয় স্থান দেখতে বেরিয়ে পড়লাম। দার্জিলিং শহরের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে তানজিং রক, হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, বোটানিকাল গার্ডেন, জুলজিক্যাল পার্ক ইত্যাদিও দেখে নিলাম। দুদিনে এত কিছু দেখার পরে আবার জিপগাড়িতে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। অনেক সুন্দর স্থানগুলো এখনও হাতছানি দিয়ে ডাকছে। সত্যিকার অর্থেই দার্জিলিং এর দিনগুলো স্মৃতি হয়ে থাকবে অনেক দিন।

antalya bayan escort bursa bayan escort adana bayan escort mersin bayan escort mugla bayan escort samsun bayan escort konya bayan escort