ফেলে আসা অঙ্গন

ডা: আরিফ আহমেদ (হিল্লোল): সর্বশেষ ২০১৬, মার্চে যখন আমার প্রানের বিদ্যাপিঠ বর্তমান "চিটাগাং ভেটেরিনারী এন্ড এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়" এ যাই তখন এর আশে পাশের পাহাড়গুলি চোখে পড়েনি। অথচ একসময় যখন ওখানকার ছাত্র ছিলাম তখন এই বিদ্যাপিঠের চারপাশ ঘিরে ছিল ছোট বড় অনেক পাহাড়।

পাঁচতলা হলের ৩০১ নম্বর রুমে আমার সাথে আরও তিন বন্ধু Omar Faruq, Reza Karim ও Wasim Reza Rontu ছিল রুমমেট হিসাবে। লম্বা ব্যালকনীটার সীমানা ছিল আমার রুমের সামনে পর্যন্ত। অনেক নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি আমি হল জীবনে, ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই পাহাড়গুলি ছিল সাক্ষি। রাত বাড়ার সাথে সাথে ঘুমগুলিও যেন কোথায় হারিয়ে যেত। গভীর রজণীতে ব্যালকনির পূর্ব প্রান্তে গ্রীলে মাথা ঠেকিয়ে অথবা ছাদের কার্নিসে বসে থেকে জাগ্রত সেই পাহাড় ও এর চূড়ায় অভিজাতদের বাড়ির লাল নীল আলোর মুগ্ধতা এখনও চোখে জ্বল জ্বল করছে।

পাশেই ছিল কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট। এর সবুজ চত্বর পেরিয়ে আরেকটু পূব দিকে এগুলেই রেললাইন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, দোহাজারী ও হাটহাজারীর ট্রেনগুলি চলত ঐ লাইনে। অমাবশ্যা বা অনেক গভীর কালো রাতে পাহাড়ের পাদদেশে ঝাকে ঝাকে জোনাকি তাদের রুপালী আলোতে বিমোহিত করে রাখত পুরো এলাকা।

ভরা পূর্ণিমার চাঁদটা যখন পাহাড়ের ডগায় অবস্থান করত আর তার আলো সেইসব পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসতো অমসৃন সমতলে তখন মনে হতো বেরিয়ে যাই হল থেকে, শুয়ে পড়ি সেই সমতলে, আলিঙ্গন করি মধুর পূর্ণিমাকে।

এতো গেল পূব দিকের কথা, ক্যাম্পাসের পশ্চিম বরাবর পাচ সাতশ গজ এগিয়ে গেলে বাংলাদেশ টেলিভিশিনের চিটাগাং কেন্দ্র। তার আশে পাশে ও সামনে অনেক পাহাড় ছিল, যেগুলি এখন আর নেই। পাহাড়খেকো মানুষেরা সেগুলিতে আবাসন প্রকল্প করেছে। আরেকটু পশ্চিমে গেলে ইউ এস টি সি ক্যাম্পাস আর তার বিপরীতে মনোমুগ্ধকর ফয়'স লেক ও চিড়িয়াখানা।

কোন রকম পূর্বধারণা ও প্রস্তুতি ছাড়াই তথাকথিত উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমাই চিটাগাং। শুরুর দিকে মানিয়ে নেয়া আমার জন্য বেশ কষ্টকর ছিল। জীবনে এই প্রথম নিজের বাড়ি, আপনজন, এলাকা ছেড়ে এতদূর আসা। আজ এই মূহুর্তে যখন ভাবছি সেই ফেলে আসা হল জীবন, ক্যাম্পাস ও সুখের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া নিভৃত প্রকৃতির কথা তখন ভিতরে একপ্রকার শান্তি অনুভূত হয়। সেখানে পড়ালেখার সুবাদে না গেলে এই আনন্দস্মৃতি বয়ে বেড়াতে পারতামনা আজ আমি।

-লেখক:এজিএম (ডিওসি), প্রভিটা গ্রুপ

escort izmir