নিয়াজ পাশার স্বপ্ন:হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিউটের উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবিঃবাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গৌরবের ৫৭ বছর পূর্তি উদ্যাপন এবং হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট উদ্বোধন হবে আগামী ২২ জুলাই। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। রাষ্ট্রপতি নিজে উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে হাওড় ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করবেন। এ হাওর ও চর ইস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা ছিল হাওর ভূমিপুত্র নামে খ্যাত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৮৪-৮৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কৃষিবিদ ড. নিয়াজ উদ্দিন পাশার স্বপ্ন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুতেই তিনি জড়িয়ে যান লেখালেখিতে। বলতে গেলে তৎকালিন কৃষি সাংবাদিকতা শুরুটা হয় তার হাত দিয়েই। বাকৃবি সাংবাদিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নানামুখি কর্মকান্ডে নিজেকে জড়িয়ে রাখলেও কখনো ভুলেননি নিজ এলাকার হাওরের কথা। হাওরের প্রতি ছিল তার অসম্ভব ভালোবাসা, প্রবল টান ও অনুভূতি। তাইতো নিজের নাম মো. নিয়াজ উদ্দিনের সঙ্গে তার নিজ গ্রামের নাম ‘লাইমপাশা’ নামের শেষাংশ জুড়ে দিয়ে তিনি পরিচিত হতে থাকেন নিয়াজ পাশা নামে।

একজন সফল কৃষি প্রকৌশলী হয়েও তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন দৈনিক, পাক্ষিক, মাসিক পত্রিকায় নানা প্রবন্ধ, কৃষির নানাবিধ সমস্যা ও সম্ভাবনার সংবাদ লিখে যেতেন। মালয়েশিয়া হতে উচ্চতর পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জনের পর দেশে ফিরে তিনি কৃষি সাংবাদিকতা ও লেখালেখিতে আরো বেশি মনোনিবেশ করেন। হাওরের কৃষি ও কৃষকের দুঃখ দুর্দশার কথা অনবরত লিখতে থাকলেন তিনি পত্রিকার পাতায় ও অনলাইনে। তার লেখা কৃষি ও কৃষকের নানাবিধ সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে রচিত লেখা কখনো কখনো  মহামান্য রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে দেশের মন্ত্রী-আমলাদের নজড় কাড়ে। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। শেষজীবনে তিনি সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার ঢাকার সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার পদে ছিলেন।  

জানা যায়, হাওর ভূমিপুত্র ড. নিয়াজ পাশা ২০১৩ সালে হাওর এলাকা উন্নয়নে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে একটি প্রস্তাবনা দেন। মূলত তার এ প্রস্তাব থেকেই দেশে প্রথমবারের মতো হাওরাঞ্চল উন্নয়নের জন্য ইনস্টিটিউট হতে যাচ্ছে। ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যানে হাওরাঞ্চল সম্পর্কে জানা যায়, দেশের পূর্ব-উত্তারাংশে কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ৫৭টি উপজেলা নিয়ে হাওর এলাকা গঠিত, যেখানে মোট ৩৭৩টি হাওর, প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি বিল, ৩৬ হাজারেরও বেশি পুকুর, ডোবা, নালা ও খাড়ি রয়েছে। প্রায় ৮ হাজার বর্গ কিমি আয়তনের হাওর এলাকায় ১৯.৩৭ মিলিয়ন লোক বসবাস করে। মোট চাষযোগ্য ০.৭৩ মিলিয়ন হেক্টর জমি থেকে বছরে প্রায় ৫.২৩ মিলিয়ন টন ধান উৎপাদন হয়। জিডিপিতে হাওরের অবদান ০৩% এবং এর ২৫% আসে কৃষি থেকে। আগাম বন্যায় বছরে ক্ষতি ০.৩৩ মিলিয়ন হেক্টর, যার আর্থিক মূল্য ৩.৪৮ মিলিয়ন টাকা। এ ক্ষতি জাতীয় কৃষির প্রায় ৩%। সেসব এলাকায় বছরে কৃষিজমি কমছে ০.৩৩% হারে। হাওর এলাকায় ৩৪% পরিবার প্রান্তিক কৃষক, ৫% পরিবার জাতীয় লেভেলের নিচে, ৫১% পরিবার ক্ষুদ্র কৃষক এবং ২৮% লোক অতি দরিদ্রসীমার নিচে বাস করে।

হাওর অঞ্চলের কৃষি ও মানুষের জীবন জীবিকা নিয়ে সবসময়ই বিভিন্ন ভাবে কাজ করে গেছেন নিয়াজ পাশা। তাঁর একটি অন্যতম স্বপ্ন ছিল হাওর ও চর উন্নয়ন ইনিস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু ব্রেইন স্ট্রোকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও বাকশক্তিহীন হয়ে ১৫ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ১০ জানুয়ারি ২০১৭ ঢাকা মেডিকেল কলেজে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হাওর ভূমিপুত্র। তিনি না থাকলেও আগমী ২২ জুলাই তাঁর স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে।

হাওর ও চর ইনিস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রকিবুল ইসলাম খান বলেন, হাওর ও চর ইনিস্টিটিউটে পিছনে ড. নিয়াজ পাশার অবদান অসামান্য। হাওর নাম আসলেই তাকে স্বরণ করতে হবে। মহামান্য রাস্ট্রপতি নিজে যেহেতু ভিতি প্রস্তর উদ্বোধন করছেন তাই আশা করছি শীঘ্রই পুরো কাজ সম্পন্ন হবে। এ ইনস্টিটিউটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদই জড়িত থাকবে। এখান থেকে একাডেমিক ডিগ্রি, পিএইচডি ডিগ্রি, গবেষণাসহ উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকবে বলে আশা করছি।

antalya bayan escort bursa bayan escort adana bayan escort mersin bayan escort mugla bayan escort samsun bayan escort konya bayan escort