বাকৃবি’র বিনোদন সংঘকে চাঙা করতে চাই

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক কেন্দ্রের আওতাধীন বিনোদন সংঘের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন পশুপুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম কামরুজ্জামান সজল। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। ক্যাম্পাসের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ত্রিভূজ ও প্রতিধ্বনি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি, পদচিহৃ সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহসভাপতি এবং ইংলিশ সোসাইটি, বাঁধন প্রভৃতি সংগঠন সমূহের উপদেষ্ঠামন্ডলীর সদস্য ছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর সংস্কৃতিমনা এই মানুষটির মুখোমুখি হয়েছিলেন আবুল বাশার মিরাজ। শুনেছেন বিনোদন সংঘ নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও প্রত্যশার কথা।

আবুল বাশার মিরাজ-বিনোদন সংঘের কাজগুলো কি কি?
এম কামরুজ্জামান সজল: বিনোদন সংঘ মূলত: জাতীয় দিবসসমূহ পালন, পহেলা বৈশাখে, নববর্ষ উদযাপন, সাংস্কৃতিক উৎসব এবং বিনোদনমূলক বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে থাকে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত এ সংঘটি এ কাজগুলোর দায়িত্ব নিয়ে থাকে।

আবুল বাশার মিরাজ:সংস্কৃতির চর্চা কেন প্রয়োজন?
এম কামরুজ্জামান সজল: সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমেই আলোকিত মানুষ গড়া সম্ভব। মাদক, নেশা একটি বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে ছাত্র-ছাএীদের মাদক,নেশার ছোবল থেকে বিরত রাখা সম্ভব বলে বিশ্বাস করি।

আবুল বাশার মিরাজ:বিনোদন সংঘকে  কিভাবে চাঙা করবেন?
এম কামরুজ্জামান সজল:  ক্যাম্পাসের সকল সংগঠনকে নিয়ে বসতে চাই, সকলের কথা শুনতে চাই।  সকলের পরামর্শ মোতাবেক কর্মপরিকল্পনা ঠিক করে এগোতে চাই। ইতিমধ্যে অনেকের সাথে কথা বলেছি, আশা করছি বিনোদন সংঘকে আলাদা মাত্রা দিতে পারবো।

আবুল বাশার মিরাজ:বিনোদন সংঘের মাধ্যমে কি সুফল পাবে বিশ্ববিদ্যালয়?
এম কামরুজ্জামান সজল: মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতির অঙ্গনকে আরো বিকশিত করা সম্ভব। দেশে জাতীয় পর্যায় যে প্রতিযোগিতাগুলো হয় সেগুলোতে প্রতিযোগী পাঠানো উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হওয়া দরকার। জাতীয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতা গুলোতে দু-একজন ব্যক্তিগতভাবে হয়ত চেষ্টা করেন। কিন্তু এখন থেকে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ, সেরা তারকা তৈরির প্রতিযোগিতার মত অনুষ্ঠানগুলোতে প্রতিযোগি পাঠিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও পরিচিতি বৃদ্ধি করতে চাই।  

আবুল বাশার মিরাজ:বিনোদন সংঘের বাজেট কম, কিভাবে আর্থিক সমস্যার বিষয়টি দেখবেন?
এম কামরুজ্জামান সজল: সত্যিই আর্থিক সংকটের কারণে অনেক সময় অনুষ্ঠান করা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করবো আর্থিক সংকটের বিষয়টা বিবেচনার জন্য। একই সাথে স্পনসরশীপ প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করবো। এটি আমাদের একটি চ্যালেঞ্জ। সকলের সহযোগিতা থাকলে পারবো।

আবুল বাশার মিরাজ:দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষার্থে আপনার কোন কাজ করার পরিকল্পনা আছে কি ?
এম কামরুজ্জামান সজল: অনেক বৈচিত্রে পরিপূর্ণ আমাদের মাতৃভুমি বাংলাদেশ। অজস্র গ্রামগঞ্জ গাঁথা আমাদের এ প্রিয় দেশ। সহজ সরল গ্রাম্য মানুষের আচার আচরণ, অভ্যাস, স্মৃতি ,সংস্কার, কুসংস্কার-রিদ্ধ ইতিহাস ঐতিহ্যের রূপকথা দ্বারা নির্মিত আমাদের মাতৃভুমি বাংলাদেশের প্রকৃত পরিচয়। আমাদের শেকড় সংস্কৃতি ছাড়া দেশের ইতিহাস পরিপূর্ণতা পায় না। আবাহমান গ্রাম-বাংলার সংস্কৃতিকে পরিবেশনার চেষ্টা করবো।

আবুল বাশার মিরাজ:কৃষি সংস্কৃতি হারাতে বসেছে, সেগুলো রক্ষার জন্য কাজ করবেন কি?
এম কামরুজ্জামান সজল: কৃষিই আমাদের কৃষ্টি। গ্রাম বাংলার আবাহমান সংস্কৃতি কৃষির সাথেই নিহিত। আমাদের বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে কৃষিভিত্তিক পরিবেশনার চেষ্টা করবো।

আবুল বাশার মিরাজ:জঙ্গিতৎপরতা রুখতে সংস্কৃতির ভূমিকা কি ?
এম কামরুজ্জামান সজল: দেখুন, একজন সংস্কৃতবান মানুষ কখনো জঙ্গি তৎপরতা ও সন্ত্রাসী কাজে অংশ নিতে পারে না। বরং সে সমাজের আলোকিত মানুষ হিসেবে এগিয়ে আসে সমাজের সাধারণ মানুষের জন্য। একটা জাতির মানবিক গঠনের পেছনে  আবাহমান সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম। এই অস্থির সময়ে আমাদের আগামী প্রজন্মকে তাই সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত করতে হবে। তাদের গড়ে তুলতে হবে আলোকিত মানুষ হিসেবে।

antalya bayan escort bursa bayan escort adana bayan escort mersin bayan escort mugla bayan escort samsun bayan escort konya bayan escort