কৃষিতে দক্ষ জীবন গড়তে সম্প্রসারণ মাঠ সফর

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি:বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্মকান্ডের সর্বনি¤œ স্তর হচ্ছে উপজেলা। দেশের গবেষণালব্ধ কৃষি প্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছানো, উপজেলার সাংগঠনিক রূপরেখা, কর্মপদ্ধতি ও বার্ষিক কর্মপরিকল্পনার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে সম্প্রতি নিকট ভবিষ্যতের কৃষি প্রকৌশলীদের জন্য এক শিক্ষা সফরের আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগ।

৭ দিন ব্যাপী এ মাঠ সফরে অংশ গ্রহন করে কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরী অনুষদের ৩৫ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষা সফরে উল্লেখিত বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক ও কৃষি মিউজিয়ামের বর্তমান পরিচালক প্রফেসর মো. আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা গিয়েছিল বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মহোদয়ের জেলা কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত নিকলী উপজেলায়।

সম্প্রসারণ মাঠ সফর কার্যকর করতে আগে থেকেই গঠিত হয় বেশ কয়েকটি উপ-কমিটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী সকাল ৮ টায় কৃষি সম্প্রসারণ ভবনের সামনে থেকে শুরু হয় যাত্রা। প্রকৃতিকন্যা বাকৃবি কয়েক মিনিটে ত্যাগ করার পর নিজেদের পরিপাটি রূপ ধরা দিল। বাসের ভেতর শুরু হয় উৎসবের কলোরব আর আনন্দের মাতামাতি। বাসের গতি বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে হাওরের আঞ্চলিক গান, আড্ডা আর হৈ-হুল্লোড়। সাথে সাথে নিজেদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে চলে ফটো সেশন। দুপুর ১২ টায় পৌঁছলাম নিকলী উপজেলায়। পৌঁছানোর পরপরই উপজেলা পরিষদে অনুষ্ঠিত হয় সফরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এর আগে আমাদের সবাইকে নিকলী উপজেলার পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মো. হারুন-অর রশিদ। আমরা ছিলাম নিকলী উপজেলার ডরমেটরিতে। সবাই একসাথে নিজেদের জন্য নিয়ে যাওয়া বেডিং পেতে রুমে থাকার স্বাদই অন্যরকম।

পর দিন থেকে শুরু হয় উপজেলার কর্মকান্ড নিয়ে অফিসারদের বিভাগীয় উপস্থাপন আর তথ্য সংগ্রহের কাজ। আর গভীর রাত পর্যন্ত চলে আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়া। এই সফর ছিল ভবিষ্যত কর্ম জীবনে কঠোর পরিশ্রমের পূর্ব প্রস্তুতি। চলতে থাকে উপজেলা পর্যায়ে মৎস্য, কৃষি, পল্লী উন্নয়ন, প্রাণিসম্পদ, মহিলা বিষয়ক অফিস, ভূমি অফিস ও জাতি গঠনমূলক দপ্তরগুলির উদ্দেশ্য, রূপরেখা, কর্মপদ্ধতি, বার্ষিক কর্ম পরিকল্পনার সাথে পরিচিত হওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতের যোগ্য সম্প্রসারণ অফিসার হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার এক অনন্য প্রয়াস।

প্রতি মুহূর্তে সকলের মাঝে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। জীবনে প্রথমবারের মত কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহনের কথা চিন্তা করে চলে তর্ক-বিতর্ক, হাসি-ঠাট্টা, হৈ-হুল্লোড় প্রতিক্ষণে। পঞ্চম দিন সন্ধ্যায় হয় কাঙ্খিত সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকলের অক্লান্ত পরিশ্রমে সফল হয় অনুষ্ঠানটি এবং শিক্ষার্থীদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর আন্তরিকতা, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আতিথিয়তা, সারাদিনের উপস্থাপনায় অংশগ্রহন করা, গ্রুপ করে বিভাগীয় তথ্য সংগ্রহ করে পোস্টার প্রদর্শন, প্রতিদিন গভীর রাত্রি পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহড়া, রাতে আড্ডা, ছাত্র-ছাত্রীদের রম্য-বিতর্ক প্রতিযোগীতা, ফার্ম পরিদর্শন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকদের দেখতে যাওয়া, সবাই মিলে রাত্রি জেগে নির্ঘুম স্মৃতির রোমন্থন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার রম্য বক্তব্য কোন দিনই ভোলার নয়। জীবনে শিক্ষণীয় এমন আনন্দঘন দিনগুলি কখনও পাব কিনা তা জানি না। প্রকৃতির নিয়মে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব কিন্তু সম্প্রসারণ শিক্ষা সফরে এসে কাটানো দিনগুলি স্মৃতির পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে আজীবন।

antalya bayan escort bursa bayan escort adana bayan escort mersin bayan escort mugla bayan escort samsun bayan escort konya bayan escort