শীতের পিঠা-পায়েশের আনন্দ কেবল গ্রামেই মেলে

নজরুল ইসলাম তোফা:রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হবে গুড়। সেই গুড়ের আবার রকমফের আছে। যেমন, পাটালি গুড়, ঝোলা গুড়। এ সব গুড় বিভিন্ন ভাবে খাওয়া হয়। শীতের খেজুর গাছের রস হতে যে গুড়ে তৈরি তা দিয়ে দুধের পিঠা, পুলিপিঠা, সেম পিঠা আরও কত কি যে পিঠা তৈরী হয়, তা না খেলে একেবারেই জীবন বৃথা।

"পাটালি গুড়" দিয়ে মুড়ির 'মোয়া' খাওয়া এবং ঝোলা গুড়ের সঙ্গে মচমচে মুড়ি খাওয়ার জনপ্রিয়তা গ্রামাঞ্চলের মানুষেরই খোঁজে পাওয়া যায় । আবার এমনিতেও তারা খেজুর গুড় সরবত করে কিংবা খালি খালিই খায়। তবে খেজুরের "রস" দিয়েই তৈরি রসের পিঠা, তা খুবই সুস্বাদু হয়ে থাকে। তাছাড়াও খেজুর গুড়ের প্রচলিত সন্দেশ যে হয় তার স্বাদই অপূর্ব। শখ করে অনেক চাষিরা চা খাওয়ার নেশায় ঘরেই চা বানিয়ে খায় খেজুর গুড়কে উপজীব্য করে।

শীত তার বিচিত্র রূপ ও রস নিয়েই হাজির হয় গ্রাম বাংলায়। নবান্ন উৎসব কিংবা শীতের পিঠা পায়েশ তৈরির উৎসব শীতে ঘটা করেই হয়। শীতে চিরায়ত যা কিছু সৃষ্টির নিয়ামত, তা উপলব্ধি করতে চাইলে অবশ্যই গ্রামে যেতে হবে। শীতের নিরবতার অস্তিত্ব সৌন্দর্য মন্ডিত বাংলাদেশের ষড় ঋতুর এক ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিয়মান হয় খেজুর গাছ।

চাষীরা খেজুর গাছ তোলা এবং পরিচর্যার উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করে মাঘের 'বাঘা শীতে' গুড় বিক্রি এবং তৈরীর প্রক্রিয়া যেন শেষ হয়। তাদের প্রক্রিয়াজাত খেজুর গুড়, পাটালি বা রস সারা বছর সংগ্রহ করে রাখে কোন কোন গ্রামের গৃহস্থ পরিবার। গ্রামের বাজার গুলোতেও জমজমাট হয়ে ওঠে খেজুর রস এবং গুড়ে। প্রকৃত পক্ষেই শীতে উৎসব মুখর হয়ে উঠে গ্রামবাংলা। জলাভূমি এবং কিছু পাহাড়ি ভূমি বাদে এদেশে এমন কোনো অঞ্চল নেই, যেখানে খেজুর গাছ জন্মে না। তবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমা অঞ্চলে খেজুর গুড় বাণিজ্যিকভাবেই উৎপাদিত হয়।
--লেখক-টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, কলামিষ্ট এবং প্রভাষক।

antalya bayan escort bursa bayan escort adana bayan escort mersin bayan escort mugla bayan escort samsun bayan escort konya bayan escort