সামাজিক শিষ্টাচারের প্রতি ইসলাম অধিক গুরুত্ব দিয়েছে

ইসলামিক ডেস্ক:ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম মানবজাতিকে এমন একটি জীবন বিধান প্রদান করেছে, যা আল্লাহর কাছ থেকে ফেরেস্তামণ্ডলী ও মানবজাতি শিখে নিয়েছে। ইসলামের বিধান অনুসারে সামাজিক শিষ্টাচারের পবিত্র রীতির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও জাতি পরস্পর ভাইয়ের মতো জীবনযাপন করে থাকে।

তবে বর্তমানে আমাদের সমাজে আধুনিকতার ছাপ থাকলেও নেই সুসম্পর্কের সবুজ মায়া। কারও সঙ্গে প্রথম দেখাতে সালাম, আদাব জ্ঞাপন ও কুশলাদি এসব যেন দিনদিন তিরোহিত হয়ে যাচ্ছে।অথচ ইসলাম সামাজিক শিষ্টাচারের প্রতি অধিক গুরুত্ব দিয়েছে। সামাজিক জীবনে পরস্পরের প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধা, স্নেহ-মমতা, সমবেদনা ও সহানুভূতি প্রকাশ অত্যন্ত জরুরী। ভদ্রতা ও শিষ্টাচার মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণাবলির মধ্যে অন্যতম। ধন, ক্ষমতা, মর্যাদা ও পদাধিকারবলে যা অর্জন করা যায় না; ভদ্রতা প্রদর্শন করে তা অতি সহজে লাভ করা যায়। বস্তুত মানুষের মন জয় করার শ্রেষ্ঠতম জাদুমন্ত্র হলো শিষ্টাচার।

মহান আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি আমার নিকট এরূপভাবে নম্রতা প্রকাশ করে, আমি তাকে এরূপভাবে উন্নতি করি। এ জন্য নামাজের মতো অবশ্য করণীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে সঙ্গেই সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ  ও এসবের করণীয় কর্তব্যের বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, মানুষকে সৎ কাজের প্রতি আহ্বান করো ও অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখো।

পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহ কোনো অহঙ্কারীকে পছন্দ করেন না। অর্থাৎ আল্লাহ এটাই বুঝিয়েছেন, তিনি যাবতীয় বস্তু হতে নত ও পতিত করে সৃষ্টি করেছেন। তিনি তার পবিত্র কালাম দ্বারা এটাই বুঝিয়েছেন :তোমাদের সৃষ্টি এই মাটি দিয়েই। এই মাটির ওপর দিয়েই তোমরা চলাফেরা করো।

সুরা লোকমানে আল্লাহ বলেছেন, পদচারণায় মধ্যবর্তিতা অবলম্বন করো এবং কণ্ঠস্বর নিচু করো। নিঃসন্দেহে গাধার স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর। অর্থাৎ নিজ গতিতে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা আমাদের কর্তব্য। দৌড়ঝাঁপসহ চলা উচিত নয়, যা সভ্যতা ও শালীনতার পরিপন্থী। হাদিস শরিফে আছে, দ্রুতগতিতে চলা মুমিনের সৌন্দর্য ও মানহানিকর। এভাবে চলার ফলে নিজেরও দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে বা অপরের দুর্ঘটনার কারণও ঘটতে পারে। আবার অত্যধিক মন্থরগতিতেও চলা ঠিক নয়। কারণ এগুলো গর্বস্ফীত ও অহঙ্কারীকদের অভ্যাস, যারা অন্যান্য মানুষের চাইতে নিজের অসার কৌলীন্য ও শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে চায়। এজন্য ইসলামে মধ্যম গতিতে চলার কথা বলা হয়েছে

রাসুলের (সা.) আচার-আচরণেও এসব গুণের অপূর্ব সমাবেশ ঘটেছিল। নবীজিকে (সা.) সর্বদা প্রসন্ন ও হাস্যোজ্জ্বল মনে হতো। তার চরিত্রে নম্রতা, আচার-ব্যবহারে বিনয় বিদ্যমান ছিল। তার স্বভাব মোটেই রুক্ষ ছিল না, কথাবার্তাও নীরস ছিল না। তিনি উচ্চস্বরে বা অশ্নীল কথা বলতেন না, কারও প্রতি দোষারোপ করতেন না। যেসব দ্রব্য পছন্দ হতো না সেগুলোর প্রতি আসক্তি প্রকাশ করতেন না। কিন্তু  সেগুলো হালাল হলে এবং তার প্রতি কারও আকর্ষণ থাকলে তা থেকে তাদেরকে নিরাশ করতেন না। সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্যও করতেন না বরং নীরবতা অবলম্বন করতেন। তিনটি বস্তু তিনি চিরতরে বর্জন করেছিলেন। ঝগড়া-বিবাদ, অহঙ্কার, অপ্রয়োজনীয় ও অর্থহীন কাজে আত্মনিয়োগ করা।

আসুন আমরা ইসলামের আলোকে জীবন গড়ি। সামাজিক বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করি। মহান রাব্বুল আরামিন আমাদের সকলকে ইসলামের বিধান অনুসারে সামাজিক শিষ্টাচারের পবিত্র রীতির মাধ্যমে পরিবার তথা সমাজ গড়ি।-আমিন

antalya bayan escort bursa bayan escort adana bayan escort mersin bayan escort mugla bayan escort samsun bayan escort konya bayan escort