ওমরাহ পালন এবং সৌদিতে ১২ দিনের সফর (৩য় পর্ব) জেদ্দা হয়ে মক্কায় পৌঁছে ওমরাহ সমাপ্ত করা

তসলিম রেজা: ইহরাম বেধেই (সেলাইবিহীন সাদা ২টি কাপড়) আমরা জেদ্দা বিমান বন্দরে নামলাম, পাকিস্তানি যাত্রীদের আলাদা ইমিগ্রেশন লাইন আর আমাদের আলাদা। সৌদি ইমিগ্রেশন অফিসার দেখলাম ইংরেজী বোঝে, দু-ছেলেসহ ওমরাহ করতে এসেছি শুনে খুবই খুশি হলো ও স্বাগত জানাল।

ইমিগ্রেশন দ্রুত শেষ করে পাসপোর্ট নিয়ে বাহিরে বের হয়ে সৌদি মোবাইল SIM সংগ্রহ করে, আমাদের প্যাকেজের আওতার ড্রাইভারকে ফোনে পেয়ে গেলাম (নাম্বার ওয়াটসআপে/Whatsapp এ আগেই পেয়েছিলাম)। ড্রাইভার পাকিস্তানি, আমার বাংলামিশ্রিত যাইতা হায়, আসতা হায় এসব উর্দু বুঝে না, আমিও ওর কথা বুঝি না। এয়ারপোর্টেের এক বাঙ্গালী ভাইকে দিয়ে সমাধান হলো। আমার ধারনার বাহিরে খুব শক্তিশালী বড়সড় সুন্দর একটা GMC জীপ নিয়ে ড্রাইভার হাজির, ব্যাগ-বোচকা পিছনে দিয়ে সকলেই আরাম করে জীপে বসে মক্কার দিকে রওয়ানা হলাম। পাকিস্তানি ড্রাইভারের হাবভাব বড় ছেলের একেবারেই পছন্দ হলো না। ওর সন্দেহ, আমাদের কোথাও নিয়ে কোন সমস্যায় না ফেলে।

বড় ভাইকে ফোন ধরিয়ে দিলাম, ভাই ওকে ভাইয়ের বাসায় আসতে বললেন, প্রথমে রাজি না হলেও বহু পামপট্টি দিয়ে রাজি করায়ে ভাইয়ের বাসায় নিয়ে গেলাম। যেয়ে তো চোখ বড়সড়, ভাইয়ের দুছেলে, ভাই ইহরাম পড়ে ভাবীসহ সবাই দেখি খাবারের ব্যাগসহ প্রস্তুত। আমাদের সাথে ওমরাহ করবে, ভাই আসলে আমাদের চমক দিলেন, আগে জানাননি, ওনারাও আমাদের সাথে ওমরাহ করবেন। হেসে বললেন, আমার ছোট ভাই, এত কাঠকোট্টা পেরিয়ে আমার ৩০ বছরের পরিচিত সৌদিতে ওমরায় এসেছে, কোথায় কি ভুল করে বসে, তাই আমার অফিসকে বলে, তোদের সাথে মক্কায় যাব বলে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলাম। ভাইয়ের নিজের গাড়ীসহ, দুই গাড়ীতে আমরা মক্কায় আমাদের প্যাকেজের নির্ধারিত হোটেলে চলে এলাম এবং ভাবীর আনা উটের মাংস দিয়ে একসাথে সকলে দুপুরের খাবার খেয়ে যখন রাতজাগা ক্লান্তিতে হাই তুলছি তখনই ভাই নিজে টিমের লিডার ঘোষনা দিয়ে এবং ওমরাহতে কি কি করতে হবে এক হৃদয়গ্রাহী সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিলেন। ফলে সারারাত প্লেন জার্নি করা ঘুৃমভাবাপন্ন আমি ও দুছেলে, অসুস্থ বউ খেয়েই কয়েক মিনিটে উমরাহের ফরজ কাজে রেডি হয়ে গেলাম।

আট-সদস্যবিশিষ্ট দলের লিডার বড় ভাইয়ের সুশৃঙ্খল নেতৃত্বে আসর নামজ হতে এশার নামাজের মধ্যে আমরা কাবা শরীফ সাতবার তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সাতবার চক্কর শেষ করা এবং আনুষঙ্গিক দোয়া নামাজ করার মাধ্যমে ওমরাহর (ফরজ) কাজ শেষ হয়ে গেল। অভিজ্ঞ ভাই থাকায়, কোনই সমস্যা হলো না। এরপর ভাই অলিগলি দিয়ে হাটিয়ে নিয়ে গেলেন নাপিতের দোকানে, সারিসারি নাপিতের দোকান, এরা চুল কাটায় কাপড় ব্যবহার করে না, জামার মত ওয়ান টাইমস(One times) পলিথিন ব্যবহার করে। দুই ছেলে বুঝ হওয়ার পর প্রথমবারের মত মাথা নেড়ে করতে কোন আপত্তি করলো না। সফরের ১ম দিনই সব কিছু সুন্দর মত শেষ হওয়ায় ভাই আমার বেজায় খুশি হলেন এবং আমাদেরকে হোটেলে রাতের ভাল খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করে, উনি দুছেলে ও ভাবীসহ জেদ্দা ফিরে গেলেন।

একটা বিষয় না লিখে পারছি না, আমি আগে থেকেই জানতাম, কাবা শরীফের আশেপাশে প্রচুর এক রকম ছোট পাখি (আবাবিল নাম কিনা) ও কবুতর রয়েছে এবং এগুলো কাবা শরীফের উপর দিয়ে উড়েও না, বসেও না। লক্ষ্য করলাম, একদম ঘটনা সঠিক।

লেখাটি কয়েকদিনে ধীরে ধীরে লিখেছি, ধৈর্য ধরে পড়বেন আশাকরি। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে মক্কা ও মদিনায় হজব্রত ও ওমরাহ পালনের তাওফিক দিন।-আমিন

--চলবে

escort izmir