ওমরাহ পালন এবং সৌদিতে ১২ দিনের সফর (৪র্থ পর্ব)-হযরত আয়েশা (রা.) মসজিদ ও নফল ওমরাহ

তসলিম রেজা: সফরের ২য় দিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ কাবা শরীফে আদায় করলাম। সবাই ক্লান্ত, কোথাও বের হলাম না। ঢাকা থেকেই আমার পরিকল্পনায় ৩য় দিবস হলো, বাসে করে হযরত আয়েশা(রাঃ) মসজিদে যাওয়া এবং ওখানে গোছল করে, নফল নামাজ পড়ে, এহরাম বেঁধে আমার আম্মার নামে ওমরাহ (নফল) করা।

মসজিদ আয়েশা মক্কার তানঈম এলাকায় অবস্থিত। হেরেমের বাইরে এহরাম বেঁধে ওমরাহ করার এটি মক্কা থেকে সর্বাধিক নিকটবতী স্থান। মক্কা থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তরে মক্কা-মদিনা রোডে আল হিজরা এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদ থেকে ওমরার ইহরাম বাঁধা যায়। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) এখান থেকে উমরার ইহরাম বেঁধে উমরা করেছিলেন। পরে সেখানে একটি বিশাল মসজিদ গড়ে উঠে। মসজিদটি ইসলামি শিল্পনৈপুণ্যের এক অনুপম নিদর্শন।

বিদায় হজ্জের সময় হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)-কে তার ভাই হজরত আবদুর রহমান (রা.)-এর সঙ্গে হারামের বাইরে এখান থেকে ওমরার ইহরাম বাঁধার জন্য পাঠিয়েছিলেন। এ কারণে এখান থেকে মক্কাবাসীরা ওমরার জন্য ইহরাম বেঁধে থাকেন। বিদেশি হাজিরাও ওখান থেকে ওমরার ইহরাম বেঁধে থাকেন। অবশ্য এটা নিয়ে ইসলামি চিন্তাবিদদের মাঝে বিতর্ক আছে। মক্কা থেকে হযরত আয়েশা(রা.) মসজিদে আসতে বাস ভাড়া ৩ রিয়াল, আর ট্যাক্সি ভাড়া ৩০ রিয়াল। সারাক্ষণ নফল ওমরার ইহরাম বাঁধার জন্য আসা হাজীদের ভিড় থাকে। বিশাল এই মসজিদের দু’টি মিনার ও একটি গম্বুজ অনেক দূর থেকে দেখা যায়। মসজিদটি খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত।

আমরা ঐ মসজিদে যেয়ে এহরাম বেঁধে নফল ওমরাহ করবো, আমার বড় ছেলের ঘুম আর ভাংগে না তো ভাংগে না। আমি ও ছোট ছেলে হোটেলের নীচে করিডোরে বসে আছি। আমার পাশে বসা একজন বাংলাদেশী আমাদের উদ্দেশ্য জেনে, উনি কোনভাবে নফল ওমরাহ করতে দিবেন না। উনার যুক্তি, নবীজির সাথে হযরত আয়েশা (রাঃ) সহ মদিনা থেকে নিয়ত করে বিদায় হজ্জের সময় এসেছেন। ঐসময় হযরত আয়েশার পিরিয়ড (মাসিক) শুরু হয়, নবীজি হযরত আয়েশাকে উক্ত তানঈম স্থানে যেয়ে গোছল করে পুনরায় নিয়ত করে ভাইসহ এহরাম বেঁধে আসতে বললেন। এটা শুধু মেয়েদেরই কোন সমস্যার জন্য। সকলের জন্য নয়। আমি তো থমকে গেলাম। লোকটি দৌড়ে যেয়ে রুম থেকে দলিলস্বরূপ বইও নিয়ে এলো এবং আমাকে দিল। আমি ও আমার ছোট ছেলে বিভ্রান্ত হয়ে গেলাম। বড় ভাইকে ফোনে বিষয়টি বলায়, উনি বললেন, আমি গত ৩০ বছর বহু বুজুর্গের সাথে ওখান হতে এহরাম পড়ে ওমরাহ করেছি, কেহই না করেননি। তাই নিশ্চিন্তে ওখানে যা, কারও কথায় কান দিস না। আমাদের হোটেলের কাছেই বিখ্যাত "ক্লক টাওয়ারে" কর্মরত পরিচিত এক ছেলে, ৩ রিয়ালের লাল বাসে আমাদেরকে উঠিয়ে দিতে আসলো। দেশী ছেলেটি, বাস স্টান্ডের সাথেই এক বিশাল গর্ত দেখিয়ে বললো, এখানে মেয়ে সন্তান হলে সে সময়ে মক্কাবাসীগন তাদের জীবন্ত কবর দিতেন। বিষয়টি শুনে আর স্থানটি দেখে আমাদের ভয়ে গা শিরশির করতে লাগলো। বাসের লোকজন, হযরত আয়েশা (রা.) মসজিদে গোছলের পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কর্মীগন সবই বাঙ্গালী, গোছলের খুবই সুব্যবস্থা রয়েছে। আমরা ইহরাম বেধে আবার বাসে করে হেরেম শরীফ এসে, এবার নিজরাই নফল ওমরাটি এশার নামাজের মধ্যেই শেষ করলাম এবং হোটেলের কাছে নাপিতের দোকানে মাথা নেড়ে করে সোজা হোটেলের রুমে চলে এলাম।

লেখাটি কয়েকদিনে ধীরে ধীরে লিখেছি, ধৈর্য ধরে পড়বেন আশাকরি। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে মক্কা ও মদিনায় হজব্রত ও ওমরাহ পালনের তাওফিক দিন।-আমিন
--চলবে

antalya bayan escort bursa bayan escort adana bayan escort mersin bayan escort mugla bayan escort samsun bayan escort konya bayan escort