ইসলাম জুলুমকারীর পরিনাম সম্পর্কে সব সময় সতর্ক করেছে

ইসলামিক ডেস্ক:ইসলামের দৃৃষ্টিতে কারো প্রতি অন্যায় অবিচার কিংবা কারো হক নষ্ট করাকে ‘জুলুম’ বলে। বর্তমান সমাজে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় ধনীরা গরিবের ওপর, মালিকরা শ্রমিকের ওপর, ঊর্ধ্বতনরা অধীনস্তদের ওপর জুলুম করে। যা অত্যন্ত অন্যায় এবং ইসলাম এসব জুলুমকারীর পরিনাম সম্পর্কে সবসময় সতর্ক করেছে।

পৃথিবীর সর্বত্রই শক্তিশালীদের হাতে দুর্বলদের নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের পাশাপাশি বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও শিশুরাও কেউ জুলুম নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছে না। এমনকি বাসায় কাজের গৃহর্কর্মীর এ জুলুম থেকে যেন নিস্তার নেই। এরূপ জুলুমকারীদের আল্লাহ তায়ালা অতীতে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এসব অত্যাচারী শাসক ও ব্যক্তিবর্গ কেয়ামত পর্যন্ত ঘৃণিত হতে থাকবে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আর অবশ্যই আমি তোমাদের পূর্বে বহু প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি, যখন তারা জুলুম করেছে।’ (সূরা ইউনুস : ১৩)।

মজলুম ব্যক্তির ফরিয়াদ আল্লাহ কবুল করেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল (স) এরশাদ করেছেন, ‘তুমি মজলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কেননা তার ফরিয়াদের মাঝে এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না।’ (সহীহ বুখারি, হাদিস নং ২২৮৬)। এ ছাড়া আল্লাহ তায়ালা কোনো জালিম ব্যক্তিকে অবকাশ দিবেন না। এরশাদ হয়েছে, ‘আর তুমি তাদের সতর্ক করে দাও সেদিন সম্পর্কে যেদিন তাদের ওপর আজাব নেমে আসবে। অতঃপর যারা জুলুম করেছে তারা বলবে, ‘হে আমাদের রব, তুমি আমাদের কিছু সময়ের জন্য অবকাশ দাও, আমরা তোমার ডাকে সাড়া দেব এবং রাসূলদের অনুসরণ করব।’ (সূরা ইবরাহিম : ৪৪)।

হযরত সাঈদ ইবনে যায়েদ (রা) বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল (স) এরশাদ করেছেন,‘ যে ব্যক্তি জুলুম করে কারো এক বিঘত পরিমাণ জমি অন্যায়ভাবে দখল করে নেয়, কেয়ামত দিবসে এর সাত তবক জমি তার গলায় বেড়ি বানিয়ে দেয়া হবে।’ (সহীহ বুখারি ও মুসলিম, হাদিস নং-২২৯১)।

জুলুমকারী ব্যক্তিরা ইসলামের পরিভাষায় সীমালঙ্ঘনকারী। সীমালঙ্ঘনের অপরাধে আল্লাহ ফেরাউনকে নীল নদের পানিতে ডুবিয়ে মেরেছেন। এরশাদ হয়েছে, ‘ অতঃপর তাদের সবাইকেই আমি (তাদের) নিজ নিজ পাপের কারণে পাকড়াও করেছি, তাদের কারো ওপর প্রচণ্ড ঝড় পাঠিয়েছি, কাউকে মহাগর্জন এসে আঘাত হেনেছে, কাউকে আমি যমীনের নিচে গেড়ে দিয়েছি, আবার কাউকে আমি (পানিতে) ডুবিয়ে দিয়েছি’। (সূরা আনকাবূত :৪০)।

হযরত আলী (রা) হতে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল (স:) এরশাদ করেছেন, ‘তুমি মজলুম বা অত্যাচারিত ব্যক্তির বদদোয়া হতে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখ। কেননা সে আল্লাহর দরবারে তার হক লাভের জন্য প্রার্থনা করে।’ (মেশকাত শরিফ, হাদিস নং ৪৯০৭)।

আল্লাহ আমাদের সকলকে জুলুম নির্যাতনের মতো কবিরা গুনাহ থেকে দূরে থাকার তৌফিক দান করুন। -আমিন।

antalya bayan escort bursa bayan escort adana bayan escort mersin bayan escort mugla bayan escort samsun bayan escort konya bayan escort