সংসদে ‘বালাইনাশক (পেস্টিসাইডস) বিল-২০১৮’ পাস

ফোকাস ডেস্ক:বালাইনাশকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘বালাইনাশক (পেস্টিসাইডস) বিল-২০১৮’ পাস হয়েছে। সোমবার রাতে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটির ওপর জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বালাইনাশক আমদানি, উৎপাদন, পুনরুৎপাদন বিক্রয় বিতরণ এবং ব্যবহার নিয়ন্ত্রণসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধানের প্রস্তাব করে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন মতিয়া চৌধুরী। পরে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ১২ এপ্রিল কমিটির সভাপতি মো. মকবুল হোসেন বালাইনাশক বিলের প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদনে বিলটি সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ করা হয়।

বিলে বলা হয়েছে, নিবন্ধন ছাড়া বালাইনাশক আমদানি, উৎপাদন, তৈরি, মজুদ, মোড়কজাতকরণ, বিক্রয়, বাণিজ্যিকভিত্তিতে কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতি এবং বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। মানহীন, ভেজাল ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বালাইনাশক বিক্রি ও মজুত করা হলে নিবন্ধন বাতিলসহ এক বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একই অপরাধ পুনরায় করলে দুই লাখ টাকা জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। নিবন্ধনের জন্য লাইসেন্সি প্রতিষ্ঠানকে বালাইনাশকের ব্র্যান্ড সম্পর্কে বিবরণ দেয়ার পাশাপাশি এই ব্র্যান্ড ভেজাল ও নকল নয় এবং আগাছা ছাড়া উদ্ভিদ, প্রাণীকুল বা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়- এমন প্রতিশ্র্রুতি দিতে হবে। বালাইনাশক ব্র্যান্ডের নিবন্ধনের মেয়াদ হবে তিন বছর। বালাইনাশক আমদানি ও বিক্রির মেয়াদ হবে দুই বছর। নিবন্ধন ও লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে।