“ব্রি উদ্ভাবিত আউশ ধান চাষে গাইবান্ধার কৃষকের মুখে হাসি”

“ব্রি উদ্ভাবিত আউশ ধান চাষে গাইবান্ধার কৃষকের মুখে হাসি”

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:গাইবান্ধা জেলার সদর উপজেলাধীন বালাআটা গ্রামে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট আঞ্চলিক কার্যালয়, রংপুর এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সদর, গাইবান্ধা কর্তৃক “আউশ ধানের ফসল কর্তন ও মাঠ দিবস এবং আধুনিক ধান চাষের কলাকৌশলের উপর প্রশিক্ষণ” কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।

গত ০৪ আগস্ট শনিবার ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, রংপুর’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মোঃ আবু বকর সিদ্দিক সরকার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মাঠ দিবস ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্র্রি’র মহাপরিচালক ড. মো: শাহজাহান কবীর। এছাড়াও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গাইবান্ধা জেলার ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, ব্রি বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণবিদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো: মোস্তাফিজার রহমান বাদলসহ দুই শতাধিক কৃষক ও কৃষাণী এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ব্রি-রংপুর কর্তৃক কৃষকের মাঠে স্থাপিত এ প্রদর্শণীতে ব্রি উদ্ভাবিত আউশের জাত যেমন বিআর২৬, ব্রি ধান৪৮ ও ব্রি ধান৬৫ এর শস্য কর্তন করা হয়। যার ফলন ছিল বিঘা প্রতি যথাক্রমে ১৭, ১৫ ও ১৪ মন। উপস্থিত কৃষকগণ আশাতীত ফলন পেয়ে উক্ত জাত তিনটি আগামীতে অধিক চাষের আশা ব্যক্ত করেন।

কৃষক প্রতিনিধি মোঃ মো: আয়নাল হক বলেন, ব্রি উদ্ভাবিত আউশের জাত বিআর২৬, ব্রি ধান৪৮ ও ব্রি ধান৬৫ জাতগুলির ফলন অনেক বেশি, সময়, সার এবং পানি কম লাগে। তাই এ ধান চাষের খরচ কম এবং লাভ অধিক। ব্রি ধান৪৮ এর ভাত খেতে বেশ সুস্বাদু ও ঝরঝরে। তাছাড়া ব্লাস্ট ও বিএলবি রোগের আক্রমণ খুব কম। আগামীতে অত্র এলাকার কৃষকরা ব্রি’র এ আউশ জাতগুলো অধিক হারে চাষ করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথি ড. মো: শাহজাহান কবীর তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব। কৃষির উন্নয়নে সার্বিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে। কৃষিকে বিশেষ করে ধান উৎপাদনকে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান করতে হবে। এজন্য ব্রি কৃষকদের পাশে আছে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি কৃষকদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, ধান উৎপাদনের জন্য আপনাদের যত সমস্যাই থাকনা কেন ব্রি’র পক্ষ থেকে আমরা কৃষকদের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাবো। তিনি উপস্থিত কৃষকদের ধান উৎপাদন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য, নতুন বীজ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন এবং ব্রি’র সাথে যোগাযোগের জন্য বলেন। তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গাইবান্ধা জেলার ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো: শওকত ওসমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, চলতি আউশ মৌসুমে ব্রি উদ্ভাবিত আউশ জাতগুলি গাইবান্ধা জেলায় প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। শুধুমাত্র সদর উপজেলাতে এক হাজার ছয়শ হেক্টর জমিতে ব্রি’র জাতগুলি আবাদ করা হয়েছে, যা গত আউশ মৌসুমের তুলনায় অনেক বেশি। আউশ ধানের জমি এবং ফলন উত্তোরত্তের বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সভাপতি ড. মোঃ আবু বকর সিদ্দিক সরকার সমাপনি বক্তব্যে ব্রি উদ্ভাবিত আউশের এ জাতগুলো থেকে আরো অধিক ফলন পাওয়ার কৃষিতাত্ত্বিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০ থেকে ২৫ দিনের চারা ২/৩টি করে দিয়ে এপ্রিল মাসের ২য় সপ্তাহ থেকে মে মাসের ২য় সপ্তাহের মধ্যে রোপন করতে হবে। সারি থেকে সারি এবং গোছা থেকে গোছার দূরুত্ব ৮ ইঞ্চি করে দিতে হবে। চারা রোপণের সময় মাটির উর্বরতাভেদে প্রতি শতকে ইউরিয়া ২০০ গ্রাম, টিএসপি ২১০ গ্রাম, পটাশ ৩০০ গ্রাম জিপসাম ১৮০ গ্রাম এবং দস্তা ২৫ গ্রাম প্রয়োগ করে মাটির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

পরবর্তীতে রোপণের ২০ ও ৪০ দিন পর দুইবার ইউরিয়া সার শতকে ২০০ গ্রাম হারে উপরি প্রয়োগ করতে হবে। রোপণের দিন হতে ৩০-৩৫ দিন পর্যন্ত জমিকে সম্পূর্ণভাবে আগাছামুক্ত রাখতে হবে। তিনি সুষ্ঠুভাবে আউশ ধান চাষাবাদের লক্ষ্যে নতুন জাতের বীজ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার জন্য ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, রংপুর এর সাথে যোগাযোগের জন্য উপস্থিত কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করেন।

wso shell Indoxploit shell fopo decode hızlı seo googlede üst sıraya çıkmak seo analiz seo nasıl yapılır iç seo nasıl yapılır evden eve nakliyat halı yıkama bmw yedek parça hacklink panel bypass shell hacklink böcek ilaçlama paykasa fiyatları hacklink Google