প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে গবেষণা কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

ফোকাস ডেস্ক:কৃষি অর্থনীতি নির্ভর বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি খাত এ খাতের উন্নয়নের জন্য গবেষণা কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে; জাতীয় প্রয়োজনে নব নব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।  বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক আয়োজিত দুই দিন ব্যাপী ‘‘বার্ষিক রিসার্চ রিভিউ ওয়ার্কশপ-২০১৮’’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মি: নারায়ন চন্দ্র চন্দ, এমপি, এ কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন বর্তমান সরকারের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত দেশ গড়ার অন্যতম জীবিকা নির্বাহের হাতিয়ার হলো প্রাণিসম্পদ শিল্প। আর এই শিল্প প্রায় ২০% মানুষের প্রত্যক্ষ ও ৫০% মানুষের পরোক্ষ ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন প্রজাতি পালন করে দেশের বৃহৎ নারী জনগোষ্ঠী নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। রাজধানী ঢাকার সাভারস্থ বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) সৃষ্টি লগ্ন থেকেই প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের নিমিত্ত নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জানামতে, ইনস্টিটিউট তার সৃষ্টিলগ্ন থেকে ৮৩ টি প্যাকেজ ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে এবং এর মধ্যে বেশ কিছু প্রযুক্তি ইতোমধ্যে খামারীরা ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করছে। সরকারের ভিশন-২০২১-কে সামনে রেখে গবেষণা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। দুইদিনের এই কর্মশালার আলোকে যে, সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হবে সেগুলি বাস্তবায়ন করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. নাথু রাম সরকার এর সভাপতিত্বে দুই দিন ব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা: মোঃ এনামুর রহমান, এমপি, ঢাকা-১৯, জনাব মোঃ রইছউল আলম মন্ডল, সচিব মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও ড. মোঃ কবির ইকরামুল হক, নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক, মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা: মোঃ এনামুর রহমান বলেন, দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ করে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে বিএলআরআই এর স্বল্প সংখ্যক বিজ্ঞানীগণ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জনাব মোঃ রইছউল আলম মন্ডল, সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বলেন, বিএলআরআই হল দেশের প্রাণী ও পোল্ট্রিসম্পদ উন্নয়নে একটি জাতীয় গবেষণা ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য প্রাণিসম্পদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে আপনাদের সুপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এ মন্ত্রণালয় যাবতীয় সহায়তা প্রদানে সদা প্রস্তুত। সরকার দেশের পোল্ট্রি ও ডেইরীসহ অন্যান্য খাতের উন্নয়নে স্বল্পসুদে ঋণ এবং প্রাণি খাদ্য ও কৃষিযন্ত্রাংশ আমদানীতে শুল্কহ্রাসসহ নানাবিদ প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে বিগত পাঁচ বছরে দেশে দুধের উৎপাদন ৩৪ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টন হতে বেড়ে ৯৪ লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন হয়েছে। মাংসের উৎপাদন ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন থেকে ৭২ লাখ ৬০ হাজার টন এবং ডিমের উৎপাদন ৭ কোটি ৩৮ লাখটি থেকে বেড়ে ১৫ কোটি ৫২ লাখটিতে উন্নীত হয়েছে। এই উন্নয়নের জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।

ড. মোঃ কবির ইকরামুল হক, বলেন খাদ্যে স্বয়ম্পূর্ণ হলেও প্রাণিজ আমিষের চাহিদা এখনো ঘাটতি রয়েছে। বিজ্ঞানীর স্বল্পতা নিয়ে লক্ষ্য মাত্রা অর্জন করা সম্ভাব নয়। সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আন্ত:ইনস্টিটিউট গবেষণা কার্যক্রমের সমন্বয় থাকা একান্ত জরুরী। এ ক্ষেত্রে বিএআরসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে, ডাঃ হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক, মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলেন,বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। ইতোমধ্যে বিএলআরআই কর্তৃক উদ্ভাবিত বেশ কিছু প্রযুক্তি আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে যা আমরা মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ করছি।

সভাপতির বক্তব্যে ড. নাথু রাম সরকার বলেন, স্বল্প জায়গায় অধিক নিরাপদ আমিষের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অঞ্চল ভিত্তিক সমস্যা নিরুপন করে নতুন নতুন গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে যা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরী ও প্রয়োজনীয়। দুইদিন ব্যাপী কর্মশালায় আমরা ৬২টি গবেষণা প্রবন্ধের মধ্যে ৩৫টি উপস্থাপন করা হবে এবং ২৭টি পোস্টারের মাধ্যমে প্রদর্শিত হবে। দুইদিন ব্যাপী কর্মশালায় দেশের পোল্ট্রি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে অংশ গ্রহণকারিদের পরামর্শে গবেষণা কার্যক্রম আরো ফলপ্রসু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক জনাব মোঃ আজহারুল আমিন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মূখ্য বৈজ্ঞানিক কমর্কর্তা ড. মোঃ আজহারুল ইসলাম তালুকদার।

দুইদিন ব্যাপী কর্মশালায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার শিক্ষক, বিজ্ঞানী ও সম্প্রসারণকর্মীসহ প্রায় ৩০০ জন অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।