সৌখিনতা, আয় ও আনন্দের উৎস অর্কিড চাষ

ফয়জুন্নেসা মণি:অর্কিড আকর্ষণীয় রং, বাহারি গড়ন, ফুলদানীতে দীর্ঘ স্থায়ীত্বকাল ও সুগন্ধ এসব মিলে খুবই জনপ্রিয়। অর্কিড ফুল ফোটার পর প্রায় মাসখানেক পর্যন্ত সতেজ থাকে। সে কারণে অন্য যেকোনো ফুল থেকে অর্কিডের জনপ্রিয়তা বেশি। ঘরের বারান্দা, ছাদ এমনকি ঘরের ভেতরেও অর্কিড গাছ লাগিয়ে ফুল  ফোটানো সম্ভব। সৌন্দর্য বর্ধনে ও গৃহ সজ্জায় অর্কিড অতুলনীয়।

এই ফুলের রং-বৈচিত্র আর অনিন্দ্য সুন্দর গঠন সবার নজর কাড়ে। বারান্দায় টবে বা ছাদে যেখানেই চাষ করুন না কেন অর্কিডের বিচিত্র সৌন্দর্য এর দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করবে। বাণিজ্যিক ফুল হিসেবে অর্কিডের রয়েছে যথেষ্ট কদর। থাইল্যান্ড, মায়ানমার, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, মেক্সিকো, দক্ষিন আমেরিকা ও অষ্ট্রেলিয়ার উষ্ণ অঞ্চলে অর্কিড ভাল জন্মে।

অর্কিড গাছ খুবই কষ্ট সহিষ্ণু বলে বরফাচ্ছাদিত দেশ থেকে শুরু করে উষ্ণ আর্দ্র আবহাত্তয়ার দেশেও এর বংশ বিস্তার সম্ভব।  তথ্যানুসন্ধানে জানা যায় সারা বিশ্বে অর্কিডের প্রায় ৩০ হাজারের বেশি প্রজাতি আছে।  সৌখিন চাষের পাশাপাশি অনেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে অর্কিড চাষাবাদের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।  অর্কিড ছায়া পছন্দ করে বিধায় বিশেষভাবে তৈরি ছায়া ঘর অর্কিড জন্মানোর উপযুক্ত স্থান। তবে বাস গৃহের বারান্দায় ও বাগানে অন্য গাছের ছায়ায় অর্কিড সহজে জন্মে।

নেট দিয়ে ছায়া তৈরি করে অর্কিড চাষ করা যায়। বীজ দ্বারা অধিকাংশ অর্কিড বংশ বিস্তার করা যায়। এছাড়া শাখা কলম বা গুটি কলম, সাকারের মাধ্যমে বংশবিস্তার সহজ ও লাভজনক। গাছের ফুল কাটার পর প্রতিটি গাছ থেকে পার্শ্চণীয়ভাবে সাকার বের হয়। এই সাকার শিকড়সহ কেটে অন্য টবে বা জমিতে লাগানো যায়।  ফেব্রুয়ারি মাসে যখন গাছের বৃদ্ধি নতুন করে শুরু হয় তখন কলম করার উপযুক্ত সময়। এছাড়াও টিসু কালচার করেও অর্কিড চারা উৎপাদন করা যায়।

অর্কিডের যত্ন ও পরিচর্যা :  ভোরের প্রথম রোদ অর্কিডের জন্য খুব উপকারী। অর্কিড ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে।  অর্কিড গাছে সপ্তাহে ২ দিন স্প্রে করে পানি দিতে হবে। পানি যেন কোনোভাবেই টবে জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। বেশি পানি দিলে অর্কিডের গাছ মারা যেতে পারে। প্রতি মাসে একবার গাছের  গোড়ায় চা-চামচের আধ চামচ সুফলা দু’লিটার পানিতে গুলে সামান্য পরিমাণে দিতে হবে। তবে গাছে ফুল থাকলে সার বা ফুলে পানি দেয়া যাবে না।