লেবু গাছের রস ক্ষরণ বা আঠা ঝরা (Gummosis) রোগ

ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান: লেবু গাছের রস ক্ষরণ বা আঠা ঝরা (Gummosis) রোগটি ফাইটোফথোরা পালমিভোরা (Phytophthora palmivora), ফাইটোফথোরা সাইট্রোফথোরা (Phytophthora citrophthora) ও ফাইটোফথোরা প্যারাসাইটিকা (Phytophthora parsitica)  নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে।

রোগের বিস্তার: ছত্রাক মাটিতে বেঁচে থাকে এবং গাছের গোড়ায় আক্রমণ করে। ছত্রাক আক্রান্ত অংশে জুওস্পোর উৎপন্ন করে। এ সমস্ত জুওস্পোর সেচের পানি দ্বারা এক গাছ থেকে অন্য গাছে বিস্তার লাভ করে। যদি গাছের কান্ড বেশী দিন পানির সংস্পর্শে থাকে তবে এ রোগ হতে দেখা যায়।

রোগের লক্ষণ
●প্রথমে কান্ডের গোড়ার দিকে বড় বড় পানিভেজা দাগ পড়ে।
●দাগ কান্ডের উপরের ও নীচের দিকে বিস্তৃত হয়।
●ক্রমে দাগগুলি গাঢ় বাদামী রংগের হয়ে কান্ডের বাকলে লম্বালম্বি ফাটল সৃষ্টি করে।
●আক্রান্ত ফাটল থেকে আঠা ঝরতে থাকে।
●রোগ আরও বিস্তৃত হলে উপরের ডালপালায় আঠা জমতে দেখা যায়।
●আক্রান্ত গাছের ফল আকারে ছোট হয়।
●আক্রান্ত গাছের পাতা ধীরে ধীরে হলুদ হয়ে যায় ও গাছ মারা যায়।

রোগের প্রতিকার:
●নীরোগ বীজতলার চারা ব্যবহার করতে হবে।
●মাটি উঁচু ঢিবি করে গাছ লাগাতে হবে যেন পানি না দাঁড়ায়।
●জোর কলম পদ্ধতিতে চারা তৈরী করে লাগাতে হবে।
●গাছের মুল ও গোড়ায় যেন কোন ক্ষত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
●গাছের গোড়া থেকে ১ মিটার দূরত্বে একটি গোলাকার গর্ত তৈরী করে তাতে এক সপ্তাহ পর পর কার্বেন্ডাজিম (যেমন-অটোস্টিন) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
●আক্রান্ত অংশ ভালভাবে চেঁছে ফেলে সেই স্থানে বর্দোপেষ্ট (প্রতি লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম তুঁতে ও ১০০ গ্রাম চুন) লাগাতে হবে।
●গাছে রোগ দেখা দেয়ার সাথে সাথে মেটালেক্সিল+মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন-রিডোমিল গোল্ড) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর গাছে স্প্রে করতে হবে।
==================
লেখক:উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.