নারিকেলের Bud rot/Crown rot রোগের বিস্তারিত

ড. কে, এম, খালেকুজ্জামান: নারিকেল বাংলাদেশের একটি অন্যতম অর্থকরী ফল। বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলে বিশেষত সমুদ্র উপকুলবর্তী এলাকায় এর ব্যাপক চাষাবাদ হয়ে থাকে। অন্যান্য ফসলের মত নারিকেল গাছেও কিছু ক্ষতিকর রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে। এগ্রিলাইফ২৪ ডটকমের সম্মানিত পাঠকদের জন্য আজ থাকছে কুঁড়ি পচা বা মাইজ পচা বা মাথা পচা (Bud rot/Crown rot) রোগের বিস্তারিত।

ফাইটোফথোরা পালমিভোরা (Phytophthora palmivora) নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়ে থাকে। জীবানু শুকনা আবহাওয়ায় পাতার গোড়ায় সুপ্তাবস্থায় অবস্থান করে। বর্ষাকালে জীবানু সক্রিয় হয়ে উঠে। কোন কোন সময় দাগের চতুর্দিকে ছত্রাকের বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। আর্দ্র আবহাওয়া (৯৪-১০০%) ও ২৪ ডিগ্রি সেঃ তাপমাত্রার নীচে গাছ বেশী আক্রান্ত হয়ে থাকে। পোকার আক্রমণ রোগের আক্রমণকে সহজ করে দেয়। কেননা পোকার ক্ষত দিয়ে জীবানু সহজেই নারিকেল গাছে ঢুকতে পারে। বাতাস এবং পোকার মাধ্যমে জীবানু বিস্তার লাভ করে।

রোগের লক্ষণ
●কচি পাতার গোড়ায় বাদামী রঙের দাগের সৃষ্টি হতে পারে।
●রোগাক্রান্ত গাছের মাথার কেন্দ্রীয় পাতা ধুসর বাদামী রঙ ধারণ করে।
●শেষ পর্যন্ত পাতাটি বাঁকা হয়ে ভেঙে পড়ে।
●কেন্দ্রীয় পাতার পার্শ্ববর্তী ২/৩ টি কচি পাতাও বিবর্ণ হয়ে নেতিয়ে পড়ে।  
●এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় পাতাটি সহজেই বিচ্ছিন্ন করা যায়।  
●রোগ বাড়তে থাকে এবং আশেপাশে পাতা গুলো হলুদ বা বাদামী রঙ ধারণ করে।
●অন্যান্য পাতাগুলোর বোটা আলগা হয়ে ঝুলে পড়ে।
●কচি ডাব বাড়তে পারে না ফলে ঝরে যায়।
●নরম আক্রান্ত স্থান পঁচে যায় এবং এক প্রকার দুর্র্গন্ধ ছড়ায়।
●আক্রমণের শেষ পর্যায়ে গাছের কুঁড়ি মারা যায়, যার ফলে সমস্ত গাছটি মারা যায়।

রোগের প্রতিকার:
●আক্রমণের প্রাথমিক অবস্থায় রোগ সনাক্ত করা সম্ভব হলে রোগাক্রান্ত স্থান কেটে ফেলে বোর্দো পেষ্টের (প্রতি লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম তুতে ও ১০০ গ্রাম চুন) প্রলেপ দিতে হবে।
●রোগ যাতে ছড়াতে না পারে সেজন্য রোগাক্রান্ত গাছসহ আশে-পাশের গাছগুলোতেও নিয়মিত বোর্দো মিক্সচার (প্রতি লিটার পানিতে ১০ গ্রাম তুতে ও ১০ গ্রাম চুন) অথবা মেটালেক্সিল+মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক (যেমন-রিডোমিল গোল্ড) প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৭ দিন পর পর গাছের আগায় পাতাসহ স্প্রে করতে হবে।
●রোগ দমন সম্ভব না হলে আক্রান্ত গাছের মুকুট (ক্রাউন) কেটে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
●রাইনোসোরাস বিটল দমন করতে হবে।
==================
লেখক:উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব)
মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই
শিবগঞ্জ, বগুড়া।
মোবাইলঃ ০১৯১১-৭৬২৯৭৮
ইমেইলঃ This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.