ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়ে আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে পোল্ট্রি শিল্প

গ্রামীণ অর্থনীতির স্বার্থে প্রান্তিক খামারিদের সুরক্ষায় কাজ করতে হবে

ডেস্ক:দেশের সর্ব উত্তরের অনগ্ররসর জেলা ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়ে আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে পোল্ট্রি শিল্প। শুধু ডিম ও মুরগির মাংসের চাহিদা পূরণই নয় প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সরকারের সহযোগিতা পেলে জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে পোল্ট্রি শিল্প।

আজ ১ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও শহরে অনুষ্ঠিত ‘পোল্ট্রি রিপোর্টিং’ বিষয়ক মিডিয়া কর্মশালায় এ দাবি করা হয়। ‘বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাষ্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল’ (বিপিআইসিসি) এর সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা ওয়াচডগ বাংলাদেশ। জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক, টিভি চ্যানেল, বার্তা-সংস্থা এবং অন-লাইন নিউজপেপারের মোট ৩০ জন সাংবাদিক এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালা’র সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক জনাব মো. আখতারুজ্জামান বলেন, দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করছে পোল্ট্রি শিল্প। একই সাথে গ্রামীন অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। তিনি বলেন ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় পোল্ট্রি শিল্পের জন্য অত্যন্ত সহায়ক কারন এখানে পোল্ট্রি ফিডের কাঁচামাল ভূট্টা, গম প্রভৃতি প্রচুর পরিমানে উৎপাদিত হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। খাদ্যের মান রক্ষায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছেন। ঠাকুরগাঁওয়ের সাংবাদিকদের কাজের প্রশংসা করেন জনাব আখতারুজ্জামান। একই সাথে পোল্ট্রি বিষয়ক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।  

ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখার সভাপতি এবং বিপিআইসিসি’র সহ-সভাপতি জনাব শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, গ্রামের তৃণমূল খামারিদের যেকোন মূল্যে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। তাঁদের দক্ষতা বাড়াতে হবে যাতে তাঁদের হাত দিয়েই নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদিত হয়। পোল্ট্রি ফিডের ব্যাগে পাটের ব্যবহার প্রসঙ্গে জনাব খালেদ বলেন, পৃথিবীর কোথাও পোল্ট্রি ফিড মোড়কীকরনে পাটের ব্যাগের ব্যবহার হয়না কারণ এতে ফিড নষ্ট হয়ে যায়, মুরগির স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। শুধুমাত্র প্যাকেজিং এর কারণেই প্রতি কেজি ফিডের খরচ ২ টাকা বাড়বে। তিনি বলেন, পৃথিবীর কোন দেশে পাটের ব্যাগের ব্যবহার নাই। ভারতে পাটের ব্যাগ ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে তা বন্ধ করে দেয়া হয়। তিনি বলেন- এ বিষয়ে সরকারের সাথে আলোচনা হচ্ছে আশাকরা যায় শীঘ্রই এ জটিলতার অবসান হবে। এন্টিবায়োটি প্রসঙ্গে বলেন- পোল্ট্রি ফিডে এন্টিবায়োটিক গ্রোথ প্রোমোটারের ব্যবহার নিষিদ্ধ, তবে রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে তা ব্যবহারে কোন বাধা নেই। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর অপব্যবহারও হচ্ছে। তাই এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের নীতিমালা থাকা দরকার। পৃথিবীর পোল্ট্রি উৎপাদনকারি শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোতে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার আছে, সেগুলো পোল্ট্রিতে অনুমোদিত। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহিম বলেন, অজ্ঞানতার কারনে ছোট খামারিরা হয়ত কোন কোন ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার করতে পারে তবে আধুনিক বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামারে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়না কারণ এতে করে খরচ বাড়ে এবং উৎপাদন কমে যায়।    

দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম-সম্পাদক সোহরাব হাসান বলেন, ঢাকার বাইরে অনেক ক্ষেত্রেই সাংবাদিকদের কাছে পোল্ট্রি বিষয়ক তথ্যের অপ্রতুলতা আছে, এ তথ্য চাহিদা পূরণে পোল্ট্রি সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। পোল্ট্রি যেহেতু একটি সায়েন্টিফিক এবং স্পর্শকাতর শিল্প তাই এ বিষয়ে রিপোর্ট করার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য পরিপূর্ণভাবে জেনে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন কোন ধরনের ভুল তথ্য না যায়। তিনি বলেন- সমাজের প্রতি, সাধারন মানুষের প্রতি গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা আছে তাই ভোক্তার স্বার্থ ক্ষুন্ন হচ্ছে কি না সে বিষয়ে সংবাদকর্মীদের খেয়াল রাখতে হবে।            

চ্যানেল টুয়েন্টিফোর এর কৃষি বিষয়ক প্রতিবেদক ফয়জুল সিদ্দিকী বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে প্লাষ্টিকের ডিমের অনুসন্ধানে লেগে থাকলেও এ পর্যন্ত তার সন্ধান পাননি। যে ডিমগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো মূলত: পরিবেশ, তাপমাত্রাসহ নানা কারনে নিম্নমানের ছিল বলেই সাধারন মানুষের কাছে তা নকল ডিম বলে মনে হয়েছে।  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগের সহকারি অধ্যাপক শশি আহমেদ বলেন, আধুনিক ফিড ইন্ডাষ্ট্রিতে ট্যানারির বর্জ্য বা নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার হয় না। তিনি আরও বলেন- বাংলাদেশে নকল ডিমের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।  

কর্মশালাটির স্থানীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন প্রথম আলোর ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি মজিবর রহমান খান।-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি