পানিফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে নওগাঁর কৃষকদের

কাজী কামাল হোসেন, নওগাঁ:স্বল্প সময়ে লাভের মুখ দেখায় পানিফল চাষে আগ্রহ বাড়ছে নওগাঁর কৃষকদের। কম উৎপাদন খরচ ও পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় অনেক কৃষক এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন এ ফলের। এতে তাঁদের সংসারে ফিরেছে সুদিন। নওগাঁ সদর উপজেলার খাগড়া বিল, মরা বিল, হাসাইগারি বিল ও দিঘীলীর বিলসহ বিভিন্ন খাল ও জলাশয়ে জমে থাকা পানিতে দেখা মিলছে পানিফলের। এখন উৎপাদন, উত্তোলন ও বিপণনে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ৮৫ হেক্টর জমিতে পানিফলের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলাতে পানিফলের চাষ হয়েছে ৫৪ হেক্টর জমিতে। এছাড়া মান্দা, রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার কিছু বিল, খাল ও জলাশয়ে পানিফলের চাষ হয়েছে। গত বছর জেলায় পানিফলের চাষ হয়েছিল ৭২ হেক্টর জমিতে মৌসুমের শুরুতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় নওগাঁর সদর উপজেলার বিভিন্ন বিলের জমিতে, খাল ও জলাশয়গুলোতে পানি চলে আসায় এ বছর পানিফলের চাষ বেড়েছে বলে মনে করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

পানিফল চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসেই বৃষ্টিতে জলাশয়গুলোতে পানি জমতে শুরু করে। তখন তাঁরা জমে থাকা পানিতে পানিফলের চারা ছেড়ে দেন। অন্যান্য বছর ভাদ্র মাসের শুরু থেকে গাছে ফল আসতে শুরু করলেও এ বছর শ্রাবণ মাস থেকেই গাছে ফল ধরতে শুরু করেছে। ভাদ্র মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই পানিফল উত্তোলন শুরু করেছেন অনেকে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন অথবা অনেকে প্রতিদিনই জমি থেকে ফল সংগ্রহ করনে। এবারে বাজারে দাম ভালো পাচ্ছেন তাঁরা। প্রতি মণ পানিফল ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মৌসুমের শুরুতে উৎপাদন কম হওয়ায় এখন বাজারে দাম বেশি। বাজারে আমদানি বেড়ে গেলে দাম কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন চাষিরা।  

নওগাঁর সদর উপজেলার খাগড়া বিলে দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক সাদেক হোসেন এ বছর ৪ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে পানিফলের চাষ করেছেন। তিনি জানান, খাগড়া বিলে ৪ বিঘা জমি এক বছরের জন্য ৭৫ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন তিনি। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ৩০ মণ পানিফল বিক্রি করেছেন। প্রতি মণ পানিফল বিক্রি করেছেন ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। জমির পানি শুকায়ে না গেলে আগামী অগ্রাহায়ণ মাস পর্যন্ত পানিফল উত্তোলন করা যাবে। ফলন ভালো হওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৪০ মণ করে পানিফল উৎপাদনের আশা করছেন তিনি।

বরুনকান্দি গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, নিজের ২২ কাঠা জমিতে পানিফলের চাষ করেছেন তিনি। কীটনাশক, শ্রমিকসহ অন্যান্য উৎপাদন খরচ বাবদ তাঁর প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ভাদ্র মাসের শুরু থেকে ইতোমধ্যে ১০ মণ পানি ফল বিক্রি করেছেন ১৫ হাজার টাকায়। সব মিলে প্রায় এই জমি থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকার পানিফল বিক্রি হবে বলে তাঁর আশা। তিনি বলেন, ‘ওই জমিতে বছরে ৬ মাসই পানি জমে থাকে। পানিফল চাষ না করলে ওই জমি পড়ে থাকত। অল্প পরিশ্রম ও কম খরচে ২২ কাঠা জমি থেকে ৩০-৩২ হাজার টাকা আয় কম কিসের।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনোজিৎ কুমার মল্লিক বলেন, ‘নওগাঁয় বেশ কিছু বিল রয়েছে যেখানে বছরে পাঁচ থেকে ছয় মাস পানি জমে থাকে। ওই জমিতে ধান ও সবজি চাষ করা সম্ভব নয়। ওই জমিতে কৃষকেরা সাধারণত পানিফলের চাষ করছে। পানিফলের চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এই ফল লাভজনক হওয়ায় ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন হওয়ায় কৃষি বিভাগ থেকে আমরা কৃষকদের সব সময় সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছি।’