মাঝারি সাইজের ইলিশেই পুষ্টিগুন বেশি

আবুল বাশার মিরাজ, বাকৃবি:ইলিশ মাছ কিন্ত স্বাদে যেমন অতুলনীয়, তেমনি তার পুষ্টি গুণও কিন্ত কম নয়। তবে কী ধরনের ইলিশ খাচ্ছেন, তার উপর নির্ভর করছে, যে সেই ইলিশ থেকে আপনি কতটা পুষ্টি পাচ্ছেন। আমরা সাধারণত দুই ধরনের ইলিশ খেয়ে থাকি। এক মিষ্টি জলের ইলিশ। অন্যটা হলো সমুদ্রের ইলিশ। মাথায় রাখবেন এদের মধ্যে পুষ্টিকর ইলিশ কিন্ত একমাত্র মিষ্টি পানির ইলিশ। সামুদ্রিক ইলিশ কিন্ত ততটা পুষ্টিকর নয়।

এবার ইলিশ মাছের পুষ্টিগুণগুলি একে একে জেনে নিন। আমরা জানি ইলিশ মাছে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি। সেটা সত্যি। তবে সেগুলি হলো ভালো ফ্যাট। অর্থাৎ ইলিশ মাছে পলি আনস্যাচুরেটেড এবং মনো আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণই বেশি। ভালো ফ্যাট আমাদের শরীরের জন্য সবসময়ই উপকারী। তবে এটাও মাথায় রাখবেন যে মাঝারি সাইজের ইলিশ মাছই কিন্ত আসলে সবচেয়ে পুষ্টিকর। মোটামুটি সাতশো থেকে এক কেজির ওজনের ইলিশ মাছের মধ্যেই একমাত্র পলি ও মনো আন-স্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়। তার চেয়ে বেশি ওজনের ইলিশ মাছ হলেই জানবেন সেটিতে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ অনেক বেশি। সেটা আমাদের শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। আবার আমরা অনেকেই তার কম ওজনের ইলিশ মাছও খাই। খোকা ইলিশও কিন্তু ততটা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ নয়। বিশেষ করে এই মাছে একেবারেই প্রোটিন নেই।

তাই মাঝারি সাইজের ইলিশ মাছ খান। কারণ এই মাছে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, এবং জিঙ্ক, ক্রোমিয়াম, সেলেনিয়ামের মতো খনিজ। ১০০ গ্রাম ইলিশ মাছে রয়েছে ২২.৩ শতাংশ প্রোটিন। জিঙ্ক ডায়াবেটিস রোগীদের পক্ষে খুব ভালো সেলেনিয়াম আবার অ্যান্টি অক্সিডেন্টর কাজ করে। এছাড়াও রয়েছে ক্যালসিয়াম আর আয়রনের পুষ্টিগুণও। ইলিশ মাছ এবং ইলিশ মাছের তেল হার্টের জন্যও খুব ভালো। যাদের হাইপার কলেস্টরল আছে, তারাও ইলিশ মাছ খান। কারণ তা খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএলকে কমিয়ে দেয়। এলডিএল বেড়ে গেলে কিন্ত হার্ট আট্যাকের সমস্যা হতে পারে।

ইলিশ মাছে রয়েছে ভিটামিন এ, ডি এবং ই। বিশেষ করে ভিটামিন ডি কিন্ত খুব কম খাবারেই পাওয়া যায়। অস্টিওপোরোসিসের জন্যও ইলিশ মাছ খুব ভালো। ইলিশ মাছে আরজিনিন থাকায় তা ডিপ্রেশনের জন্যও খুব ভালো। তাছাড়া ইলিশ মাছ ক্যান্সার প্রতিরোধক। হাঁপানি-র উপশমেও উপকারী। আবার সর্দি কাশির জন্যও ভালো। যদি রোজ ইলিশ খেতে চান, তাহলে হালকা ইলিশের ঝোল খান। খুব কড়া করে ভাজা ইলিশ মাছ না খাওয়াই ভালো। তাছাড়া রোজ যদি সর্ষে বাটা দিয়ে কষে ইলিশ রান্না খান, তা হলে তা শরীরের পক্ষে খারাপ তো বটেই। জেনে রাখুন ইলিশ ডিম দেয়ার আগেই কিন্ত ভালো খেতে।