নওগাঁর রাণীনগরে প্রচন্ড গরমে মৌসুমী ফল ব্যবসায়ীরা বিপাকে

কাজী কামাল হোসেন,নওগাঁ:নওগাঁর রাণীনগরে অব্যহত তাপদাহ ও গরম আবহাওয়ার কারণে কাঁচা-পাকা আম সহ অন্যান্য মৌসুমী ফল তারিতারি পেঁকে যাওয়ায় বিক্রয়ের আগেই দোকানে পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সঠিক মূল্যে বিক্রয় করতে না পেরে পঁচা আম, আনারস ও লিচু নিয়ে রাণীনগরের ক্ষদ্র মৌসুমী ফল ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছে।

একদিকে তারা যেমন আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অন্য দিকে মান-সম্পূর্ণ ফল ক্রেতাদের দিতে না পেরে ব্যবসাও সঠিক ভাবে করতে পাড়ছে না। প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় আম চাষিরাও বিপাকে পড়ছে। হিমাগারে আম রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে পাড়লে স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হতো। আম আমাদের দেশে মৌসুমী রসালো ফল হিসেবে গুরুত্ব পেলেও শিল্প জাত পূর্ণ হিসেবে কার্যকর গবেষনা সরকার পর্যায় থেকে আজও নেওয়া হয়নি। ফলে পুরো আমের মৌসুমে অল্প সময়ের মধ্যেই রসালো আম বাজার থেকে তারাতাড়ি বিদায় হয়ে যায়। যার কারণে চাষি পর্যায়ে এবং আম ব্যবসায়ী কেউ আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পাড়ছে না। ধান উৎপাদনের জেলা নওগাঁ হলেও বর্তমানে সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও মান্দা উপজেলায় চাষি পর্যায়ে আমের চাষ দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই এলাকাগুলো থেকে স্থানীয় মৌসুমী ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সুস্বাদু মান-সম্পূর্ণ আম সরবারহ হচ্ছে।

রাণীনগর সদরের রেলওয়ে ষ্টেশন মোড়, উপজেলা বাসস্ট্যান্ড, রেল গেট, আবাদপুকুর বাজার, কুজাইল বাজার ও বেতগাড়ী বাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে স্থানীয় মৌসুমী ফল ব্যবসায়ীরা মৌসুমের রসালো সুস্বাদু আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল সহ নানান জাতের ফল ব্যবসার জমজমাট বাজার গড়ে উঠেছে। আম পঁচনশীল হওয়ার কারণে দোকানে মজুদ করে ধরে রাখা সম্ভব হয় না। ফলে উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাব ও পরিবহন ব্যবস্থার কারণে প্রচুর আম নষ্ট হয়। যার ফলে ব্যবসায়ীদের কম দামে তা বিক্রি ছাড়া অন্য কোন পথ থাকে না। এই অবস্থায় আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই উপজেলায় আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে উভয়েই লাভবান হতো।

উপজেলার ষ্টেশন মোড়ের ফল ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে মৌসুমি ফল ব্যবসা করি। প্রতি বছর বিশেষ করে আমের মৌসুমে ভাল একটা ব্যবসা হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে লাগাতার গরমের কারণে কাঁচা-আধা পাকা ও পাকা আম দোকানে নিয়ে আসতে না আসতে বিক্রির সুযোগ না পেতেই আম গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে লাভ তো দূরের কথা লসের ঘানি মাঝে মধ্যে টানতে হচ্ছে।

বর্তমানে রাণীনগরে ভাল নাগ ফজলী আম ৩০ টাকা, ল্যাংরা ৩০ টাকা, ললকনা ৩০, খিরসাপাত ৩৫ প্রতি কেজি ধরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বেচা-বিক্রির পরিস্থিতি খুবই মন্দা, ক্রেতা নেই বললেই চলে। ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে চাহিদা মত আম বিক্রি করতে না পারাই দিনদিন আম আরো বেশি নষ্ট হচ্ছে। এখানে যদি একটি আম সংরক্ষনের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়েই লাভবান হতো। আমি বর্তমানে জেলার পোরশা ও সাপাহার থেকে আম নিয়ে আসি। এই আম গুলো রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমের চেয়ে ভাল মানের। অব্যহত গরমের কারণে ব্যবসা ঠিক রাখতে এখন বিপাকে পড়েছি।