ঢাকায় টার্কি খামারী ও উদ্যোক্তা মহাসমাবেশ-২০১৮ অনুষ্ঠিত

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম, ডেস্ক:দেশের চলমান বৃহত্তর বেকারত্ব দুরিকরণে টার্কি শিল্পকে একটি যুগোপযোগী আধুনিক মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং এর সর্বত্র বিস্তার ও সর্বস্তরে ভোক্তা ও ক্রেতা তৈরী করার লক্ষে বাংলাদেশ টার্কি বার্ডস ডেভলোপমেন্ট  এসোসিয়েশন (বিটিবিডিএ) এর উদ্যোগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বাংলাদেশের প্রথম টার্কি খামারীদের নিয়ে টার্কি খামারী ও উদ্যোক্তা মহাসমাবেশ ২০১৮।

বাংলাদেশ টার্কি বার্ডস ডেভলোপমেন্ট এসোসিয়েশন উদ্যোগে গত ৬ অক্টোবর ঢাকার খামারবাড়ি আ. কা. মু. গিয়াস উদ্দিন মিলকি অডিটরিয়ামে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শাহীন হাওলাদার এর সভাপতিত্বে টার্কি খামারী ও উদ্যোক্তা মহাসমাবেশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কফারেন্সিং এর মাধ্যমে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ টার্কি বার্ডস ডেভলপমেন্ট এ্যাসোসিয়েশন এর প্রধান উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ ডাঃ রেজাউল করিম মিয়া মনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াসী উদ্দীন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা: হিরেশ রঞ্জন ভৌমিক, বিএলআর আই এর মহাপরিচালক ড. নাথুরাম সরকার, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান শ্রী মিহির কান্তি মজুমদার।   

টার্কি খামারী ও উদ্যোক্তরা তাদের বক্তব্যে জানান, ইতিমধ্যে এই শিল্প প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সারাদেশে নিজ নিজ উদ্যোগে ছোট বড় অসংখ্য টার্কি খামার গড়ে উঠেছে। কিন্তু এই শিল্পের উপযুক্ত কোন নীতিমালা না থাকায় খামারিরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য-

১) দেশে এ পর্যন্ত ভোক্তা তৈরির অপার সম্ভাবনা থাকা সত্বেও খামারিদের অনভিজ্ঞতা ও অন্যান্য সহযোগিতা না পাওয়ার কারণে এখন পর্যন্ত সর্বস্তরে এর পর্যাপ্ত ভোক্তা তৈরি হয়নি। আমরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি যে দেশের সর্বস্তরে এই শিল্পের পর্যাপ্ত ভোক্তা তৈরি করা সম্ভব।

২) পর্যাপ্ত খামার ব্যাবস্থাপনার জ্ঞান না থাকা।

৩) টার্কি পাখির অপরিচিত রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতা , পর্যাপ্ত ডাক্তারি সেবা ও সঠিক ঔষধ না থাকা।

৪) টার্কি পাখির ফার্মিং এর উপর সঠিক ট্রেনিং এর সু-ব্যাবস্থা না থাকা।

৫) সরকারী পর্যায় হতে এই শিল্পের জন্য কোন ঋণ বা অনুদানের ব্যবস্থা না থাকা।

টার্কি খামারী ও উদ্যোক্তা মহাসমাবেশে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে টার্কি খামারী ও উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে সর্বজন খামারি কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহ এবং সরকারের প্রতি এই শিল্পের বিকাশ ও একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক ক্ষেত্র তৈরী করার জন্য খামারীদের ১৩টি দাবী পেশ করেন। দাবীগুলো হচ্ছে

১) সরকারি স্বীকৃত অন্যান্য পোল্ট্রির মত টার্কি পাখিকেও পোল্ট্রি শিল্পের আওতায় এনে সরকারি নথিভুক্ত করা (২) এই শিল্পের ভোক্তা তৈরিতে সর্বদিক থেকে সরকারি সহযোগিতা দেওয়া (৩) দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এর উপযুক্ত ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করা (৪) দেশের প্রতিটি প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে ন্যায্য মূল্যে পর্যাপ্ত ঔষধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুদ ও বিতরণের ব্যবস্থা করা (৫) টার্কি পাখির মাংস বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সব ধরনের সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ (৬) টার্কি পাখির ন্যায্য বাজারদর ধার্য ও সরকার অনুমোদিত উপযুক্ত একটা নীতিমালা তৈরি করা (৭) ছোট বড় সকল খামারি ও নতুন উদ্যোগতাদের জন্য কম মুনাফায় সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা (৮) এর ভোক্তা ও খামারিদের জন্য প্রশাসনিক ভাবে প্রচার প্রচারণার ব্যবস্থা করা (৯) প্রতিটি খামারে প্রতিমাসে অন্তত একবার সরকারি হস্তক্ষেপে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা পরিদর্শনের ব্যাবস্থা নেওয়া (১০) বাজারজাতকরন ব্যবস্থা প্রণয়ন করা (১১) বৈদ্যুতিক বিল কৃষি আওতায় আনা (১২) ঔষধ, ভ্যাকসিন ও খাদ্য তৈরিতে মান নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা,
(১৩) বিভাগীয় বা জোন অনুযায়ী টার্কি পাখির হ্যাচারি করা হোক।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ টার্কি বার্ডস ডেভলপমেন্ট এ্যাসোসিয়েশন এর মহাসচিব মোঃ জাহিদ হোসেন, বিশিষ্ট টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয় মিডিয়া উপস্থাপক অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ডেইরী ফার্মারস এসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী মোঃ ইমরান হোসেন, বাংলাদেশ ডেইরী ফার্মারস এসোসিয়েশনের সহ সভাপতি ও বাংলাদেশ টার্কি বার্ডস ডেভলোপমেন্ট এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা আলী আজম রহমান শিবলী, বাংলাদেশ টার্কি বার্ডস ডেভলোপমেন্ট এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি শাকিল মাহামুদ প্রমূখ।