উপকূলে মানুষের জীবন সহজ করতে সামুদ্রিক গবেষণা সম্প্রসারণের আহ্বান

মাহমুদুল,ঢাকা : প্রতিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা উপকূলের কোটি কোটি মানুষের জীবন সহজ করতে গবেষণা ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সামুদ্রিক প্রতিবেশবিদরা। আটই জুন বিশ্ব সমুদ্র দিবসের প্রাক্বালে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪র্থ মেরিন কনজারভেশন এবং ব্লু ইকনমি সিম্পোজিয়ামে বক্তা ও অতিথিরা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাণবৈচিত্র্য, কৃষি, মৎস্য, বন, পানিসম্পদ খাতের সুরক্ষায় প্রয়োগযোগ্য গবেষণা দরকার। সেজন্য দেশের তৃণমূলে ছড়িয়ে থাকা বেসরকারি সংস্থা, নাগরিক সমাজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক ও গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেই লক্ষ্যে পারস্পরিক সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়ার ওপর জোর দেন তারা।

বাৎসরিক সিম্পোজিয়ামে এই বছর মূল বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশিয়ানিক অ্যান্ড অ্যাটমস্ফরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ন্যাশনাল সি গ্রান্ট প্রোগ্রামের সঙ্গে বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও সামুদ্রিক প্রতিবেশ বিষয়ক বেসরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা। প্রতিবেশবিদ ও যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ায় সি গ্রান্ট প্রোগ্রামের ভিজিটিং ফেলো মো. কুতুব উদ্দিন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ ও অ্যাকুয়াকালচার ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান ড. কাজী আহসান হাবীব, এবং জর্জিয়া সি গ্রান্টের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর ড. মোনা বেল এই বিষয়ে ভিডিও কনফারেন্সযোগে বক্তব্য পেশ করেন।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের চেয়ারম্যান ড. এ.এম. শাহাবউদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মৎস্য অধিদফতর, বন বিভাগসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, বেসরকারি সংস্থাসমূহের নেতারা এবং দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাছাইকৃত শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরী কমিশনের সদস্য  ড. মো: আখতার হোসেন, এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে উপকূলীয় এলাকায় মানুষ ও প্রাণবৈচিত্রের জন্য যেসব বহুমাত্রিক হুমকি তৈরি হয়েছে তা কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। উপকূলীয় এলাকার প্রতিবেশগত বাস্তব সমস্যার সমাধান বের করবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমাজের নানা ধরণের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জরী কমিশনের সদস্য  ড. মো: আখতার হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সি গ্রান্ট প্রোগ্রামটি বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক প্রতিবেশ সুরক্ষা প্রকল্প সম্প্রসারণের একটি কার্যকর উদাহরণ হতে পারে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের জন্য। সি গ্রান্ট্রের সঙ্গে গবেষণা সহযোগিতার লক্ষ্যে দেশের বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এই উদ্যোগে যুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।