গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউজিসি স্বর্ণপদক পাচ্ছেন নোবিপ্রবি শিক্ষক ড. শফিক

কামরুল হাসান শাকিম, নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) প্রদত্ত স্বর্ণপদকের জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও  প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম। আগামী ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখে রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারটি (স্বর্ণপদক) তাকে প্রদান করবেন বলে জানা গেছে।

প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এর বাছাইকৃত সেরা গবেষণা ও গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশককে এ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। ২০১৬ ও ২০১৭ সালের দেশের মোট ৩৪ জন গবেষক তাঁদের মৌলিক গবেষণা ও বস্তুনিষ্ঠ বিষয়বস্তুু গবেষনা প্রবন্ধ প্রকাশের জন্য ইউজিসি পুরষ্কার এর মনোনয়ন পান।

নোবিপ্রবির শিক্ষক এর গবেষনার বিষয়বস্তু হলো “বাইপোলার ডিজঅর্ডার” নামক এক ধরণের মানসিক ব্যাধি। এটা এমন প্রকারের একটি মানসিক সমস্যা যা আক্রান্ত ব্যক্তির স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বকে বাঁধাগ্রস্থ করে। একই সময়ে অনেক বেশি আমোদ-প্রমোদ, অনেক বেশি সক্রিয় জীবন-যাপন এরপর পরই মানসিক হতাশাগ্রস্থতা, কাজে অমনোযোগিতা কাজ করা।

ড. শফিকুল ইসলাম জানান, "বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর তথ্যমতে বাইপোলার ডিজাঅর্ডার হল বিশ্বের ষষ্ঠ চিহ্নিত মানসিক ব্যাধি যার দিনদিন প্রাদুর্ভাব জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। এই গবেষণার জন্ আমরা ঢাকাস্থ ন্যাশনাল ইন্সটিটউট অব মেন্টাল হেলথ থেকে ৫৫ জন মানসিক রোগির আর ৫৫ জন সুস্থ মানুষের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে গবেষনা কার্যক্রম শুরু করি, এক্ষেত্রে তাদের বয়স ও
লিঙ্গ (পুরুষ বা মহিলা) প্রাধান্য দেয়া হয়। সসম্পূর্ণ গবেষনা চলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর ফার্মেসী বিভাগের ল্যাবে।

এসময় তিনি ও তাঁর সহযোগীরা দেখেন যে “বাইপোলার ডিজঅর্ডার” শুধু জেনেটিক বা মস্তিষ্কের আকার পরিবর্তন এর জন্য হয়না ছাড়াও বিভিন্ন ননএনজাইমেটিক এন্টিঅক্সিডেন্ট যেমন: ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি, ও ভিটামিন-ই ছাড়াও কিছু ট্রেস উপাদান যেমন: জিঙ্ক, আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও সেলেনিয়াম এর উপর নির্ভর করে। গবেষনায় ধরা পড়ে এন্টিঅক্সিডেন্টস ও ট্রেস উপাদানগুলোর অভাব উপরিউক্ত মানসিক রোগের ঝুঁকি অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়। লিপিড পারঅক্সিডেশন প্রোডাকশনাল মেলোনডিএলডিহাইড এর মাত্রা বেড়ে গেলেও রোগটি মানবদেহে বাসা বাঁধে প্রকটরুপে।

ড. শফিকুল ইসলাম বলেন “আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে আমরা এমন অনেক মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভূগী তবে গুরুত্ব না দেওয়ার কারনে এর মাত্রা দিনদিন বাড়ে এবং একটা সময় এ রোগ মারাত্বক আকার ধারন করে যা আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত, পরিবারিক ও সামাজিক স¤পর্কের ওপর প্রভাব বিস্তার করে ।

বাংলাদেশে “বাইপোলার ডিজঅর্ডার” নিয়ে গবেষনা এই ১ম। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৮.৯৫ ভাগ লোক “বাইপোলার ডিজঅর্ডারর” রোগে ভোগে। আমাদের গবেষনা কার্যক্রম চলছে, এ ব্যাপারে নতুন আরো অনেক বিষয় উপস্থাপন করতে পারবো”।

এই স্বর্ণপদক নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, “এরকম পুরষ্কার আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষকের জন্য ১ম, আমি অত্যন্ত আনন্দিত এই ভেবে যে আমার শিক্ষার্থীরা এরকম পদকের জন্য উৎসাহিত হয়ে গবেষনাতে প্রচুর মনোনিবেশ করতে পারবে।”

তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "৩য় বিশ্বের একটি দেশ হিসেবে আমাদের বাংলাদেশে গবেষনা খুব কম হয়, মহান আল্লাহপাক আমাকে যদি তৌফিক দান করেন তাহলে বাংলাদেশে আমি "জেনেটিক ডায়াগনস্টিক ল্যাব" প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং উন্নত বিশ্বের মতো আমার দেশ ও ঔষধ শিল্পে এগিয়ে যাক একজন ফার্মাসিষ্ট হিসেবে এই আশাবাদ রাখি"।

গবেষনার নেশায় বুঁদ থাকা এই অধ্যাপকের প্রায় ৯৮টির মতো গবেষনা প্রবন্ধ রয়েছে, তাঁর গবেষনাগুলো অন্যান্য গবেষনায় ৫০০ বারের ও অধিক রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। বর্তমানে তিনি ফুসফুস ক্যান্সার, ডায়াবেটিস এর জীনগত প্রভাব, এছাড়াও জিন পরীক্ষার মাধ্যমে
ঔষধ নির্ধারন পদ্ধতি নিয়ে তিনি নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় ফার্মেসী বিভাগ এর চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যস্ত সময় পার করার পাশাপাশি অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম দেশের বিভিন্ন স্থানে ফার্মাকোজেনোমিক্স সহ ফার্মাকোলজি এর অসংখ্ কনফারেন্স ও সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। তাছাড়া দেশের বাইরে জাপান, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব সহ অনেক দেশে তিনি বাংলাদেশের বিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছেন।