প্রানিসম্পদের উন্নয়নে সম্বন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন

ড. মো. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ:বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশে স্বাধীনতার সময় যেখানে ৭.৫ কোটি জনসংখ্যা ছিল। বর্তমান তা বেড়ে প্রায় ১৬ কোটি তে রূপান্তরিত হয়েছে। দেশে ২০০৭ সালে বার্ষিক দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন হত যথাক্রমে ২৬.৮০ লক্ষ মেট্রিক টন ১০.৪০ লক্ষ মেট্রিক টন, ৫৬৫.৩২ কোটি পিছ।

বর্তমানে ২০১৬-১৭ সালে দেশে এ উৎপাদন বেড়ে দাড়িয়েছে যথাক্রমে ৯২.৮৩ লক্ষ মেট্রিক টন, ৭১.৫৪ লক্ষ মেট্রিক টন, ও ৪০৯৩.৩১ কোটি পিছ যা দেশের প্রাণী সম্পদের সামগ্রিক অগ্রগতির ইঙ্গিত বহন করে। বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্পকে দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি বলা হয়। বর্তমানে দেশের লক্ষাধিক মানুষ গার্মেন্টস সেক্টরের সাথে যুক্ত। যেখানে সরকার এই সেক্টরকে প্রণোদনা সহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করে থাকে। তদ্রুপ পোল্ট্রি সেক্টর এদেশের ২য় বৃহত্তম শিল্প যেখানে এ শিল্পে নিয়োজিত রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ। এর শতকরা ৪০ ভাগই নারী।  

পোল্ট্রি যদিও কৃষি সেক্ট্ররের উল্লেখযোগ্য দিক তবুও এই সেক্টরের বিকাশ ও সংরক্ষনে কৃষি সেক্টরের মত নুন্যতম কোন সুযোগ সুবিধা প্রদান তো দুরে থাক, সেই চোখেই দেখা হয় না। আর গার্মেন্সস সেক্টরের মত গুরুত্বারোপ তো অকল্পনীয়। এই যদি হয়? আমাদের সবচেয়ে কমদামি ও সহজলোভ্য আমিষ উৎপাদনের ইতিবৃত্তি তখন সেখানে প্রাণীজ আমিষ ব্যতিরেকে একটি সুস্থ সবল বুদ্ধিসম্পন্ন জাতি কল্পনা করা যায় না।

যেখানে মানুষের স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সেক্টরের নিয়জিত ব্যক্তি যেমন MBBS ডাক্তার, নার্স, প্যারামেডিক্যাল ট্রেনিংকপ্রাপ্ত এসিসটেন্ট, গ্রাম্য চিকিৎসক, ট্রেনিংপ্রাপ্ত এসিসটেন্ট সহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিবর্গ তাদের স্বাস্থ্য খাতকে উত্তর-উত্তর এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তথাপি আমাদের প্রানিসম্পদ খাত দেশের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সেক্টর যেখান থেকে মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়, সেখানে এই বিশাল প্রানি সংখ্যার জন্য কেবল কিছু সীমিত সংখ্যাক ভেটেরিনারি ডাক্তার ও কিছু স্বল্প মেয়াদী ট্রেনিংপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ নেই। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তো আছেই । এছাড়া বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রানিসম্পদ খাত দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে কেবল দক্ষ জনবলের অভাবে।

স্বাস্থ্য খাতের মতো আমাদের প্রাণিসম্পদ খাতে যদি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা এবং সল্প ও মধ্যম মেয়াদি  ট্রেনিং এর মাধ্যমে আর কিছু সংখ্যক জনবল তৈরী করা যায় তবে তা আমাদের প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে আরও অধিক অবদান রাখতে সমর্থ হবে। স্বাস্থ্ খাতের মত আমাদের এই প্রাণিসম্পদ খাতেও যদি বিভিন্ন লেভেলে সহকারী তৈরী করা যায় তবে আমাদের এই খাত আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, সেই সাথে দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে আমাদের সামগ্রিক GDP-তে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
==============================================
লেখক:সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটি ও
ডেপুটি চিফ ভেটেরিনারি অফিসার, ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগ, রাবি