যুবসমাজের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভূমিকা

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: আজকের যুবকরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ। যেকোনো গঠনমূলক আন্দোলন-সংগ্রামে যুবকেরাই আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি বদলে দেয়। যুবকেরাই সমাজ-দেশ-কালের চালিকাশক্তি। যুবকরা আমাদের দেশের মূল্যবান সম্পদ। পৃথিবীতে বাংলাদেশ অন্যতম একটি জনবহুল দেশ- যেখানে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই যুবসমাজ।

বাংলাদেশের জাতীয় যুব নীতিমালা অনুযায়ী যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছর। যুবকরা হচ্ছে তারুণ্যের প্রাণশক্তি। তারাই তরুণ, তারাই যুব। যে বয়স নতুন বিপ্লবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর কথা বলে। তারুণ্যের রক্ত টগবগ করে নতুন উচ্ছ্বাসে-সৃষ্টির উল্লাসে। যে কারণে তারুণ্য নির্ভর যুববান্ধব আওয়ামী লীগ সরকার দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বায়নের এই তথ্য-প্রযুক্তির যুগে যুবকদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, জ্ঞান কর্মোপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আজকের বাংলাদেশে নির্ভরশীল জনসংখ্যার চেয়ে কর্মক্ষম জনসংখ্যাই বেশি। কোনো দেশের জন্য এটা একটা বড় সুযোগ। আর এই সুযোগকে কাজে লাগাতে বর্তমান সরকার শিক্ষা কৌশলে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। যোগ্য নেতৃত্ব ও কর্মতৎপরতার মাধ্যমে উন্নত জাতি গঠন এবং দেশের উন্নতি-অগ্রগতির ধারাকে অব্যাহত রাখতে যুবকদের ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই।

‘যুবসমাজের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভূমিকা’ প্রসঙ্গে ‘পায়রা.নিউজ, এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম ও ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা’ এর উপদেষ্টা সম্পাদক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খানের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সম্মানিত সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী এমপি মহোদয় সম্প্রতি তাঁর কার্যালয়ে নিজের অভিমত প্রকাশ করেছেন। প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে ‘পায়রা.নিউজ’ এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম ও ‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা’ পত্রিকাকে প্রদত্ত সাক্ষাৎকারটি পাঠক-পাঠিকাদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: যুব সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ ‘রূপকল্প-২০২১’ সম্পর্কে কিছু বলুন।

আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী এমপি: যুব সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ ‘রূপকল্প-২০২১’। যা সকলের কাছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ নতুন প্রজন্মের কাছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ একটি বিপ্লবের নাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনার তথ্য-প্রযুক্তি ও যোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এই বিপ্লবের স্বপ্নদ্রষ্টা। সমৃদ্ধ নাগরিক হিসেবে যুবসমাজকে গঠনের প্রত্যয়ে বহু কাজ হাতে নিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। যুবশক্তির মেধা ও প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর এই বার্তা লাখো-কোটি নিবেদিতপ্রাণ যুবসমাজকে কর্মচাঞ্চল্যে জাগিয়ে তুলেছে। যেনো নতুন সূর্য উঠার এখনই সময়!

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: যুবসমাজকে দক্ষ আধুনিক বিজ্ঞানমনষ্ক সুনাগরিক হিসেবে গড়ার লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কি কি কাজ করছে?

আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী এমপি: বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশের যুবসমাজকে দক্ষ আধুনিক বিজ্ঞানমনষ্ক সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর যুবসমাজকে আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কাজ করছে ৩৪টি ট্রেড ও অগ্রাধিকারমূলক ৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে। চলমান এ প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রতিটি জেলায় যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন; বর্তমানে দেশের ৩৫টি জেলার আবাসিক যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। অবশিষ্ট ১১টি জেলার বেকার যুবক ও যুবতীদের গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্যচাষ ও কৃষি বিষয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কলাকৌশল সম্পর্কিত আবাসিক প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও প্রশিক্ষণ প্রদান এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কি কি প্রকল্প হাতে নিয়েছে?

আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী এমপি: যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প অন্যতম। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সম্প্রসারণ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক স্বল্প মেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা পালন করায় বেকার যুবকদের জন্য অধিক হারে প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবছর প্রতিটি উপজেলায় ৪৪০ জন বেকার যুবক ও যুব মহিলাকে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়তে ‘ইনটিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট অব রিসোর্সেস ফর পোভারটি এলিভিয়েশন থ্রু কম্প্রিহেনসিভ টেকনোলজি’ (ইমপ্যাক্ট) ২য় পর্ব;-গবাদিপশু ও মুরগি পালন বিষয়ে আত্মকর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প গ্রহণকারীদের প্রকল্পের উচ্ছিষ্ট ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা ও আর্থিক সহায়তা এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: ‘শেখ হাসিনা জাতীয় যুব কেন্দ্র’ সম্পর্কে আপনার কাছে সংক্ষেপে কিছু জানতে চাই।

আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী এমপি: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতীয় যুব কেন্দ্র জোরদারকরণ ও আধুনিকীকরণ প্রকল্প; ১৯৯৮ সালে ‘শেখ হাসিনা জাতীয় যুব কেন্দ্র স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সাভারে স্থাপন করা হয় এই প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসম্পন্ন স্বতন্ত্র যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে ‘শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন কেন্দ্রকে’। ইতোমধ্যেই ‘শেখ হাসিনা জাতীয় ইনস্টিটিউট আইন-২০১৭’ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। যার ফলে ইনস্টিটিউটের পাঠ্যক্রম প্রশিক্ষণ এবং কারিকুলাম নির্ধারণ করার জন্য আলাদা কমিটি গঠনের পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা, ব্যাচেলার ও মাস্টার্স সার্টিফিকেট দেওয়া হবে- যা যুবসমাজের বেকার সমস্যা সমাধানে সবচাইতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: শিক্ষিত বেকার যুবকদের তথ্য-প্রযুক্তি কেন্দ্রে কম্পিউটার প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত করার বিষয়টি সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?

আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী এমপি: বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় তথ্য-প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও সক্ষমতা বৃদ্ধিও জন্য দেশে-বিদেশে দক্ষ যুবকদের কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থান বৈদেশিক মুদ্রা আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা এবং শিক্ষিত বেকার যুবকদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এই প্রকল্পটি চলমান রয়েছে। ‘টেকনোলজি এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার অন হুইলস ফর আন্ডারপ্রিভিলেজড রুরাল ইয়াং পিপল অব বাংলাদেশ’- জেন্ডার সমতা অর্থাৎ নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবস্থা ও এই প্রকল্পে অত্যাধুনিক কম্পিউটার সিস্টেম, ভ্রাম্যমাণ ইন্টারনেট সুবিধা, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, অডিও সিস্টেম ইত্যাদি দ্বারা সুসজ্জিত ভ্রাম্যমাণ আইসিটি ট্রেনিং ভ্যানের মাধ্যমে দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলার উপজেলা পর্যায়ে ঘুরে ঘুরে বেকার যুবকদের কম্পিউটার ও ইন্টারনেট বিষয়ে মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। গ্রামে গ্রামে সুসজ্জিত ভ্রাম্যমাণ আইসিটি ট্রেনিং ভ্যানটি যুবসমাজের দক্ষতা অর্জনের কর্মপরিবেশকে উৎসাহিত করে। দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি তৃণমূল থেকে মেধাবী খেলোয়াড় তৈরিতে ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম’ প্রকল্পটি সুস্থ যুবসমাজ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।
-গ্রন্থনা ও সম্পাদনা: অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, কলাম লেখক। বাংলাদেশ বেতারের বহির্বিশ্ব কার্যক্রমের সংবাদ পাঠক, টেলিভিশন অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও আলোচক। উপদেষ্টা সম্পাদক, পায়রা.নিউজ, এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা। ইমেইল: This email address is being protected from spambots. You need JavaScript enabled to view it.