‘জলবায়ু পরিবর্তন: সচেতনতা সৃষ্টিতে ইমামদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

‘জলবায়ু পরিবর্তন: সচেতনতা সৃষ্টিতে ইমামদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান:ইসলামিক রিলিফ ওয়াল্ডওয়াইড একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, যা ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ডে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি বাংলাদেশে ১৯৯১ সাল থেকে দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সমাজের দুর্যোগ ঝুকিপূর্ণ ও দরিদ্র শ্রেণীর মানুষের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ সহনশীলতা বৃদ্ধিকরণ কার্যক্রমের আওতায় পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু ও দুর্যোগ সহনশীল জীবিকায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং সচেতনতামূলক বিভিন্ন ধরনের কাজ করে আসছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে ক্লাইমেট চেইঞ্জ এন্ড ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ‘কনসালটেশন ওয়ার্কশপ অন সাসটেইনেবল কনজাম্পশন অ্যান্ড ক্লাইমেট অ্যাকশন: রোল অফ ইসলামিক স্কলার্স’ (Consultation workshop on Sustainable Consumption and Climate Action: Role of Islamic Scholars)-শীর্ষক কর্মশালাার আয়োজন করা হয়। বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনে হোটেল এশিয়া প্যাসিফিকে গত শনিবার ২৯ সেপ্টেম্বর জলবায়ু পরিবর্তন সচেতনতায় শতাধিক ইমাম-খতিবদের নিয়ে এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: জাকির হোসেন বাবুল। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, কলাম লেখক, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান।

পাওয়ার পয়েন্ট প্রজেক্টরের মাধ্যমে গবেষণালদ্ধ তথ্যবহুল মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ও এশিয়ান ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান জলবায়ু পরিবতর্নের কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে প্রাকৃতিক দুুর্যোগ ও পরিবেশ দূষণ, খাদ্যাভাব, কর্মসংস্থানের সংকট প্রভৃতি নানান সংকটের আবর্তে পৃথিবী নিপতিত। সাম্প্রতিককালে উষ্ণায়ন এবং তৎসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রখর সূর্যকিরণ, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত, পৃথিবীর কক্ষপথ, সমুদ্রস্রোত এবং আরো কিছু প্রাকৃতিক কারণে পৃথিবীর উষ্ণতার তারতম্য তথা জলবায়ু পরিবর্তন ঘটে থাকে, যা পৃথিবী নামক গ্রহের সৃষ্টিলগ্ন থেকে চলমান রয়েছে। তবে বর্তমান উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মানুষের প্রকৃতি বিরুদ্ধ নানাবিধ অপকর্মের ফলস্বরূপ এবং বায়ুমন্ডলের ক্ষতিকারক গ্যাস বিশেষ করে কার্ডন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রার সঙ্কটজনক বৃদ্ধি গোলকীয় উষ্ণায়নের প্রধান কারণ। তাই বলা হয় জলে-স্থলে বায়ুবিক অবস্থা বা আবহাওয়ার যে পরিবর্তন আসে এগুলো মানুষের হাতের কামাই। তাছাড়াও অতি আধুনিকায়ন, অতিমাত্রায় প্রযুক্তির বিরূপ ব্যবহার-অপব্যবহার এবং অপচয় দুনিয়ার আকাশ-বাতাস ও সমুদ্র বিক্ষুব্ধ করে তুলছে।

ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লার ইসলামিক স্টাডিজ ও ইসলামের ইতিহাস বিভাগের এডভাইজার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান উল্লেখ করেন যে, আবহাওয়া বা জলবায়ু আল্লাহ প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ নিয়ামত। প্রকৃতির প্রধান ও শ্রেষ্ঠতর অংশ হলো ‘আব-হাওয়া’ তথা পানি ও বাতাস। এ দুটি প্রাকৃতিক উপাদান আমাদের প্রতিনিয়ত প্রয়োজন। তাই পানি ও বাতাস দূষণমুক্ত রাখা মানুষের নৈতিক দায়িত্ব ও সামাজিক কর্তব্য। ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার জন্য, পৃথিবী নামক গ্রহের নিরাপত্তার জন্য আমাদের জলবায়ু সংরক্ষণ করতে হবে।

পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে জলবায়ু পরিবর্তনের ইঙ্গিত এবং সুস্পষ্ট বিবরণ পাওয়া যায়। আল্লাহর সৃষ্টির কীর্তিমহিমা আলোচনা করলে মানুষের কাছে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যায়। এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আকাশমন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টিতে, দিবস ও রাত্রির পরিবর্তনে, যা মানুষের হিত সাধন করে তা সহ সমুদ্রে বিচরণশীল নৌযানসমূহে, আল্লাহ আকাশ থেকে যে বারিবর্ষণ দ্বারা ধরিত্রীকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন তাতে এবং তার মধ্যে যাবতীয় জীবজন্তুর বিস্তারণে, বায়ুর দিক পরিবর্তনে, আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালাতে জ্ঞানবান জাতির জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।’-(সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬৪)’

ইনস্টিটিউট অব ল্যাংগুয়েজ স্টাডিজ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান বলেন, ‘প্রকৃতি ও পরিবেশের পারিপার্শ্বিক অবস্থা পরিবর্তনের বিস্তারিত বর্ণনা পবিত্র কোরআনের অনেক আয়াতে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের ওপর। কেউ যদি সৃষ্টিজগতের স্বাভাবিক চলমান প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় তখনই নেমে আসে প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপর্যয়। বর্তমান বিশ্বে জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত যে মহাদুর্যোগের সূত্রপাত ঘটতে দেখা যাচ্ছে তা এককথায় মানব জাতির জন্য বিরাট অভিশাপ। জলবায়ুর অস্বাভাবিক আচরণের ফলে বিশ্বময় নতুন বালা-মুসিবত মানুষের কাঁধের উপর চেপে বসছে। প্রকৃতির বিরুদ্ধে মানুষের নির্মমতা ও নির্দয়তার প্রতিশোধ নিতে যেন ক্ষেপে উঠেছে প্রকৃতি স্বয়ং। মানুষ ব্যাপকভাবে বৃক্ষ নিধন করে নির্বিচারে বন-জঙ্গল উজাড় করছে। ফলে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস পাচ্ছে। আর কার্বণের মাত্রা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিণামে দেশে প্রায়ই দেখা দিচ্ছে বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, সিডর, সাইক্লোনের মতো পরিবেশ বিধ্বংসী আবহাওয়ার তান্ডব। অথচ আল্লাহ তাআলা তাঁর অপরূপ সৃষ্টিজগতে বিভিন্ন ধরনের গাছপালা, পশুপাখি, পাহাড়-পর্বত, নদী-নালা ও সমুদ্রের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী কোনো কিছইু ক্রীড়াচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। আমি এ দুটি অযথা সৃষ্টি করিনি, কিন্তু এদের অধিকাংশই এটা জানে না।’-(সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ৩৮-৩৯)’

বাংলাদেশ বেতারের বহির্বিশ্ব কার্যক্রম আরবী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও সংবাদ পাঠক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান তাঁর প্রবন্ধে মানুষের প্রকৃতি বিরুদ্ধ নানা অপকর্মের পার্থিব শাস্তির বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘অতীতে অনেক সম্প্রদায় জলবায়ুর বিবর্তনেই শেষ হয়ে গেছে। কওমে আদ, কওমে সামূদ, কওমে নূহ, কওমে লূত ধ্বংস হয়ে গেছে। হজরত নূহ (আ.)-এর সম্প্রদায় মহাপ্লাবনে নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিলো। আদ ও সামূদ জাতির আবহাওয়া অতিশয় উষ্ণ হয়ে উঠেছিল। এগুলো জলবায়ু পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত বহন করে। তাই ধর্মপ্রাণ মানুষকে সৃষ্টিজগত নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করতে হবে। গাছ-গাছালির মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধনের মতো পরিবেশ বিনাশী কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে। কোনো প্রয়োজনে বৃক্ষ কর্তন করা হলে এর পরিবর্তে বেশি করে চারা রোপণ জরুরি। প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণের প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার মুহূর্তেও তোমাদের কারো হাতে একটি চারাগাছ থাকে তাহলে সে যেনো সেই বিপদসঙ্কুল মুহূর্তেও তা রোপণ করে দেয়। (আদাবুল মুফরাদ)’

‘বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা, এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম ও পায়রা.নিউজ-এর উপদেষ্টা সম্পাদক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে আলেম-উলামাদের করণীয় সম্পর্কে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন সচেতনতায় মসজিদের ইমাম ও খতিব সাহেবরা প্রতি শুক্রবার সাপ্তাহিক জুমার খুতবায় পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে পরিবেশ বিপর্যয় সমস্যা সমাধানকল্পে একটি গঠনমূলক ধর্মীয় দিকনির্দেশনা মুসল্লিদের দিতে পারেন। পৃথিবীর ভারসাম্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে ইসলাম যেসব নীতিমালা দিয়েছে উলামায়ে কিরাম যদি কোনো মঞ্চ থেকে এ বিষয়গুলো মানুষের সামনে যথাযথভাবে উপস্থাপন করেন তাহলে এর প্রভাব ধর্মপ্রাণ মানুষের ওপর বেশি পড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মহাবিপর্যয় রোধে দেশের জনগণকেও সচেতন থেকে সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করতে হবে এবং পাহাড়-পর্বত, নদীনালা, বনজঙ্গল, সুন্দরবন সুরক্ষাসহ সামাজিক বনায়নের ক্ষেত্রে ও সামগ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ মনোযোগী হতে হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী জলবায়ু ঝুঁকি কমাতে পরিবেশ বিনাশী কর্মকান্ড সর্বগ্রে বন্ধ করা দরকার। জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করার জন্য সামাজিক আন্দোলনসহ গণসচেতনতা বাড়াতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ দলমত নির্বিশেষে আপামর জনসাধারণ সবাইকে এখনই সজাগ হতে হবে।’

প্রোগ্রাম অফিসার মো: খাদেমুল রাশেদ এর সঞ্চালনায় ‘কনসালটেশন ওয়ার্কশপ অন সাসটেইনেবল কনজাম্পশন অ্যান্ড ক্লাইমেট অ্যাকশন: রোল অফ ইসলামিক স্কলার্স’ শীর্ষক কর্মশালার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ-এর ক্লাইমেট চেইঞ্জ এন্ড ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মুনীরুল ইসলাম।

প্রবন্ধের উপর গঠনমূলক আলোচনা করেন বারিধারাস্থ বাইতুল আতীক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মনোয়ার হোসেন, কাতার চ্যারিটি-এর সোশাল ওয়েলফেয়ার বিভাগের পরিচালক ও আদমজী জুট মিল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব ড. মাওলানা আবদুল কাদির, তায়েফ এয়ার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দারুল আরকাম মডেল মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ নিয়ামতউল্লাহ, দৈনিক ইত্তেফাকের ধর্মচিন্তা পাতার বিভাগীয় সম্পাদক ফাইজুল ইসলাম, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ-এর সাব-এডিটর আলী হাসান তায়িব প্রমুখ।

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে আলেম-উলামাদের পরিবেশ সুরক্ষায় পবিত্র কোরআন ও হাদীসের আলোকে মানুষের কি কি করণীয় আছে এটিই ছিল মূল আলোচনার বিষয়। এ কর্মশালায় বিভিন্ন ইসলামি চিন্তাবিদ, ইমাম, খতিব, মাদ্রাসা শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক ও আলেম-উলামগণ অংশগ্রহণ করে ইসলামের দিকনির্দেশনামূলক সুপারিশ তুলে ধরেন। ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ ‘জলবায়ু পরিবর্তন: সচেতনতা সৃষ্টিতে ইমামদের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় উপস্থাপিত প্রবন্ধ ও সুপারিশগুলো খুতবা সহায়ক পুস্তিকাকারে প্রকাশ করে অতিসত্ত্বর দেশের মসজিদের ইমাম-খতিবদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করবে বলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

গ্রন্থনা ও সম্পাদনা: অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান, উপদেষ্টা সম্পাদক, এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম, পায়রা.নিউজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিক্রমা।

wso shell Indoxploit shell fopo decode hızlı seo googlede üst sıraya çıkmak seo analiz seo nasıl yapılır iç seo nasıl yapılır evden eve nakliyat halı yıkama bmw yedek parça hacklink panel bypass shell hacklink böcek ilaçlama paykasa fiyatları hacklink Google