লাইভস্টক সেক্টরে সুযোগ অপরিসীম: দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে ক্যারিয়ার আপনারই-বাকৃবিতে ডা. আমজাদ

Category: এগ্রিবিজ এন্ড টেক্ Written by Shafiul Azam

এগ্রিলাইফ রিপোর্ট: এসিআই এনিমেল হেলথের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ডা. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন বলেছেন লাইভস্টক সেক্টরে সুযোগ অপরিসীম। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ক্যারিয়ার কার্নিভ্যালের প্রথম দিনে ক্যারিয়ার-বিষয়ক সেশনে তিনি বলেন কেবল চাকরি নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগও সমানভাবে উন্মুক্ত। ডেইরি, পোল্ট্রি, অ্যাকোয়া, বাণিজ্যিক বাগান, ফিড মিল, ডায়াগনস্টিক ল্যাব, ভেটেরিনারি ক্লিনিক কিংবা পেট ক্লিনিক সব ক্ষেত্রেই এখন চাহিদা বাড়ছে। তিনি জানান, শুধু ঢাকাতেই ২৫০টিরও বেশি পেট ক্লিনিক ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা তরুণদের জন্য নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

কার্নিভালের প্রথম দিনের বিভিন্ন কর্মশালা ও সেশনে শিক্ষার্থীরা সিভি ও ইন্টারভিউ কৌশল, সৃজনশীল পেশা, সরকারি চাকরির প্রস্তুতি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগসহ নানা বিষয়ে দিকনির্দেশনা পান। এতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিএম মুজিবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবির ও ক্যারিয়ার ক্লাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. নাহিদ সাত্তার।

কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটদের প্রতি দিকনির্দেশনা দিতে গিয়ে বলেন, “লাইভস্টক সেক্টর দেশের জিডিপিতে ১.৮ থেকে ১.৯ শতাংশ অবদান রেখে চলেছে, যেখানে পুরো কৃষিখাতের অবদান ১৬.৫ শতাংশ। প্রাণিজ প্রোটিন সরবরাহে এই সেক্টরের গুরুত্ব অপরিসীম; আর এখানেই ভবিষ্যতের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে তোমাদের সুযোগ সবচেয়ে বেশি।” তিনি জোর দিয়ে জানান, ডিম, দুধ, মাংস উৎপাদনের সঙ্গে ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংক মিলিয়ে বিশাল একটি ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে যেখানে নতুন নতুন দক্ষ কর্মী, ম্যানেজার, গবেষক এবং উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ রয়েছে।

তিনি উদাহরণ হিসেবে এসিআই গ্রুপের উন্নয়নযাত্রার কথা তুলে ধরে জানান, ১৯৯২ সাল থেকে চারটি প্রধান ব্যবসাখাতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে, যার মধ্যে এসিআই এগ্রি বিজনেসের আটটি ভিন্ন বিজনেস ইউনিট কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। বিশেষ করে ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরু করা এসিআই অ্যানিমেল হেলথ বর্তমানে পোল্ট্রি, ডেইরি, অ্যাকোয়া, এসিআই জেনেটিক্স ও পেট হেলথসহ প্রাণিস্বাস্থ্য সেবায় শীর্ষস্থানীয় অবস্থান তৈরি করেছে এবং ৮০০-এর বেশি জনবলকে কর্মসংস্থান দিয়েছে যার একটি বড় অংশই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা। পোল্ট্রি, ডেইরি, অ্যাকোয়া ও পেট সেক্টরে তারা সম্পূর্ণ সমাধান প্রদান করছে ।

ডা. আমজাদ হোসেন তাঁর বক্তব্যে কৃষিগ্রাজুয়েটদের সম্ভাব্য ক্যারিয়ার অপশন বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে বলেন, সরকারি খাতে বিসিএস, একাডেমিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন এবং বিভিন্ন এনজিওতে বিস্তৃত কর্মক্ষেত্র রয়েছে। আর বেসরকারি খাতে রয়েছে মার্কেটিং ও সেলস, আরঅ্যান্ডডি, টেকনিক্যাল সাপোর্ট, সাপ্লাই চেইন, প্রোডাকশন ও প্রসেসিং, এগ্রি ফিন্যান্স, এইচআর ও ট্রেনিংসহ অসংখ্য পজিশন। তিনি জানান, এন্ট্রি-লেভেলে একজন গ্রাজুয়েট ৩০-৪০ হাজার টাকা বেতন নিয়ে শুরু করতে পারে এবং দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সাথে ৩–৫ বছর অন্তর লেভেল অতিক্রম করে বিভাগীয় প্রধান পর্যন্ত উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব যেখানে বেতন এক লাখেরও বেশি হতে পারে।

বিগত বছরের ধারাবাহিক সাফল্যের মতো এবছরও ন্যাশনাল ক্যারিয়ার কার্নিভ্যাল শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে নিজেদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনা আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ পান।