রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলাতে বোরো ধান চাষে বাস্তবায়িত হচ্ছে এডাব্লিউডি পদ্ধতি

Category: এগ্রিবিজ এন্ড টেক্ Written by Shafiul Azam

মো. এমদাদুল হকঃ রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল পানি সংকটময় অঞ্চল সকলের জানা। পানি সংকটময় বরেন্দ্র অঞ্চলে বোরো ধান চাষে যদি পানি কম ব্যবহার করে ধান চাষ কার যায় তাহলে পানির অপচয় হতে রক্ষা পাওয়া যায় এবং সেচ খরচ কম হয়। বাংলাদেশ ধান গবেষণা কেন্দ্র (ব্রি) আঞ্চলিক কার্যালয়, রাজশাহী এর সহযোগীতায় দক্ষ সেচপ্রযুক্তি (AWD) এর মাধ্যমে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতের ব্রি ধান১০৪ ও ব্রি ধান১০৫ বোরো মৌসুমে (২০২৫-২৬) গোদাগাড়ী উপজেলার নাজিরপুর গ্রামে ২৫ জানুয়ারি রোপণ করা হয়।

কৃষক মো: শফিকুল ইসলাম ও মো: আলাউদ্দীন বলেন, বোরো ধান এখন পর্যন্ত খুব ভালো অবস্থায় আছে। ফলন ভাল হবে বলে তারা আশাবাদি। আগামীতে এ প্রযুক্তিতে নিজে ধান চাষ করবে এবং অন্য চাষিকে উৎসাহিত করবেন। গত ২3 ফেব্রুয়ারি রাজাবাড়ি হাট ইউনিয়নের নাজিরপুর ব্লকে চাষকৃত বোরো ধান ক্ষেত পরিদর্শন শেষে ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয় চীফ সাইন্টিফিক অফিসার (সিএসও) এবং প্রধান ড. মোহাম্মদ হোসেন জানান, AWD (Alternate Wetting and Drying) হলো এমন একটি সেচপ্রযুক্তি যেখানে ধানের জমিতে সারাক্ষণ পানি জমিয়ে না রেখে নির্দিষ্ট সময় পরপর শুকানো ও ভেজানোর মাধ্যেমে সেচ দেওয়া হয়।

এই পদ্ধতি বাংলাদেশে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হচ্ছে (Bangladesh Rice Research Institute) (ব্রি) এর গবেষণার মাধ্যমে, বিশেষ করে বোরো মৌসুমে। এপদ্ধতি জমিতে ৫ সেমি পর্যন্ত পানি রাখা হয়। পরে পানি শুকিয়ে গেলে (মাটির ১৫ সেমি নিচে পানির স্তর নেমে গেলে) আবার সেচ দেওয়া হয়। জমিতে একটি ছিদ্রযুক্ত পাইপ বসিয়ে পানির স্তর মাপা হয়। প্রতি বিঘায় ২ টি পাইপ ১৫ শতক পরপর বসাতে হয় । প্রথমদিকে ১ টি পাইপে খরচ ১৫০ টাকা হলেও, এই পাইপ ৬-৭ বছর আনায়েসে ব্যবহার করা যায়।

চারা রোপণের পর প্রথম ২–৩ সপ্তাহ জমিতে হালকা পানি রাখা জরুরি। এরপর (AWD) পদ্ধতি শুরু করতে হয়। ফুল আসার সময় জমিতে পানি ধরে রাখতে হবে। ধান পাকতে শুরু করলে জমি শুকিয়ে দিতে হবে। এপদ্ধতিতে ২৫–৩০% পর্যন্ত পানি সাশ্রয় হয়। তিনি আরো জানান, গবেষণায় দেখা গেছে শুকনা ও ভিজানো (AWD) পদ্ধতিতে সারের কার্য়কারিতা বাড়ে ও সেচ কম লাগার ফলে 8-9শত টাকা বিঘায় লাভ হয়।

পরিদর্শনে আরো গিয়েছিলেন সিনিয়র সাইন্টিফিক অফিসার (এসএসও) ড. মো: হান্নান আলী, কৃষি তথ্য সার্ভিসের, আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার, কৃষিবিদ মোছা: ফরিদা ইয়াছমিন। উক্ত প্রদর্শনী বাস্তবায়নে সহযোগিতায় রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, গোদাগাড়ী, রাজশাহী এবং অর্থায়নে রয়েছে পার্টনার প্রকল্প (ব্রি অঙ্গ)।