Sunday, 19 November 2017

 

সমগ্র মানব জাতির জন্য অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধির ইতিহাস রচনা করেন-মহানবী সা.

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম,ইসলামিক ডেস্ক: ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী সা. জন্মগ্রহণ করেন জাহেলিয়াত আচ্ছন্ন এক অন্ধকার সমাজে। এমন কোনো অপকর্ম ছিল না, যা সেই সমাজে অপ্রচলিত ছিল। কিন্তু মহানবী সা. এর পরশ ছোঁয়ায় সেই সমাজের মানুষগুলো খাঁটি সোনায় রূপান্তরিত হয়। অন্যায়, অবিচার, পরস্পর কলহ-দ্বন্দ্ব ছিল আরবের সাধারণ মানুষের নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। সামাজিক অসাম্যতা, নারী জাতির অবমাননা, মদ্যপান, ব্যভিচার, জুয়া এবং রক্তলোলুপতা প্রভৃতি জঘন্য অপরাধ ছিল আরবের মানুষের স্বাভাবিক চরিত্র। তৎকালীন আরবের এমন অবর্ণনীয় দুর্দিনে ইসলামের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সা. মানব জাতির নৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অমোঘ পরিবর্তন সাধন করে বিশ্বাসনে একজন সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক হিসেবে, সমগ্র মানব জাতির কল্যাণকামী হিসেবে অনাবিল শান্তি ও সমৃদ্ধির ইতিহাস রচনা করেন।

মহানবী সা. প্রেরিত হয়েছিলেন সমগ্র পৃথিবীর জন্য আল্লাহর রহমত হিসেবে। এরশাদ হয়েছে, আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি । (সূরা আল-আম্বিয়া : ১০৭) এরশাদ হয়েছে, আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের জীবন বিধানকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামতরাজিকে পূর্ণতা দিলাম আর ইসলামকে তোমাদের একমাত্র জীবন বিধান হিসেবে মনোনীত করলাম। (সুরা আল-মায়িদা ; ৩)

মহানবী সা.-এর দর্শন ছিল ব্যাপক। তার মিশন ছিল-মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সবার মাঝে ভ্রাতৃত্ব, সাম্য-মৈত্রী স্থাপন করা। আর সেটা শুধু মুখে না বলে সমস্ত কাজকর্ম ও বিবাহ-শাদির ভেতর দিয়ে প্রমাণ করা। সমাজের সর্বস্তরে দুর্নীতি দমন করে ইনসাফ কায়েম করাই ছিল তার নবুয়তী মিশনের মূল দর্শন।

৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী সা. মদিনায় হিজরত করার পর সেখানে তিনি একটি আদর্শ, কল্যাণমুখী রাষ্ট্র কায়েম করেন এবং নবগঠিত ইসলামী রাষ্ট্রে মুসলমান, খ্রিস্টান ও ইহুদিদের মাঝে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য 'মদিনা সনদ' নামে পৃথিবীর সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেন। মিলাদুন্নবী তথা প্রিয়নবী সা.-এর জন্মদিনে আমাদের নতুন চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মহানবী সা.-এর চরিত্র মাধুরী থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে সামগ্রিক জীবন পরিচালনার শপথ নেয়া প্রয়োজন। আর আমলি জীবনে মহানবী সা.-এর প্রতি অধিক পরিমাণে দরুদ ও সালাম পৌঁছানো জরুরি। পবিত্র কুরআনের সূরা আহযাবের ৫৬ নং আয়াতে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ-সালাম পেশ করেন।

তাই হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর প্রতি দোয়া করো এবং তার প্রতি সালাম প্রেরণ করো। আল্লাহতায়ালা এমন সম্মান ও মর্যাদা অন্য কোনো নবী বা কাউকে দিয়েছেন বলে কোথাও উল্লেখ নেই।