Saturday, 18 November 2017

 

হজরত আদম (আ.) সর্বপ্রথম দুনিয়াতে এসে কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান:মানব জাতির আদি পিতা হজরত আদম (আ.) সর্বপ্রথম দুনিয়াতে এসে প্রয়োজনীয় কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি স্বহস্তে কৃষিকাজ করে পানাহার করেছেন। পৃথিবীতে প্রথম মানব-মানবীরূপে হযরত আদম (আ.) ও বিবি হাওয়া (আ.) বসতি স্থাপন করেন।

দৈনন্দিন জীবন যাপনে অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের জন্য স্বহস্তে কাজের প্রয়োজন হয়। যদিও ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) হযরত আদম (আ.) কে কৃষিজাত খাদ্য-শস্য উৎপাদন, বস্ত্র বয়ন, গৃহনির্মাণ এবং বিবি হাওয়া (আ.) কে বস্ত্র সেলাই, রান্নাবান্না, সন্তান লালন-পালন প্রভৃতির নিয়ম-কানুন শিখিয়ে দেন। তখন থেকেই হালাল উপার্জনে এবং জীবন সংসার গড়ে তোলার প্রয়োজনে স্বহস্তে কাজ, পরিশ্রম বা মেহনতের গুরুত্ব প্রকট হয়ে উঠে। তাঁদের মাধ্যমে মানব বংশধারা বৃদ্ধি পেয়ে ক্রমান্বয়ে সমাজ, জাতি, গোষ্ঠী, জনপদ গঠিত হতে থাকে। সবাই মিলেমিশে যৌথশ্রমে খাদ্য সংগ্রহে, উৎপাদনে এবং জীবন-জীবিকার সবকিছুতে আত্মনিয়োগ করে এবং সমতার ভিত্তিতে ভাগ-বাটোয়ারার মাধ্যমে বসবাস করতে থাকেন।

প্রত্যেক নবী-রাসূল স্বহস্তে কাজ ও কঠিন পরিশ্রম করে উপার্জন করেছেন বলে হাদীস শরিফে উল্লেখ আছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘হযরত আদম (আ.) কৃষিকাজ করতেন,  হযরত নূহ (আ.) কাঠমিস্ত্রীর কাজ করতেন, হযরত দাউদ (আ.) বর্ম তৈরী করতেন, হযরত ইদ্রীস (আ.) সেলাই কাজ করতেন এবং হযরত মূসা (আ.) রাখালের কাজ করতেন।’ (মুসতাদরাকে হাকীম) এতে স্বহস্তে কাজের গুরুত্ব ও মর্যাদা সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
==================
লেখক পরিচিতি: অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান
ইনস্টিটিউট অব ল্যাংগুয়েজ স্টাডিজ।
সাবেক বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমণ্ডি, ঢাকা।
মিডিয়া প্রেজেন্টার, ক্যাল্প প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
সংবাদ উপস্থাপক, বাংলাদেশ বেতার।
পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
উপদেষ্টা, সাইফুর’স।
উপদেষ্টা সম্পাদক, দ্যা ক্যাম্পাস।