Friday, 15 December 2017

 

‘তারাবিহ’ নামাজের জন্য দন্ডায়মান হওয়া অশেষ পুণ্যের কাজ

এগ্রিলাইফ২৪ ডটক, ইসলামিক ডেস্ক:রবিবার থেকে দেশে পবিত্র রমজান মাস শুরু। রহমত-বরকত-মাগফেরাতের বার্তা নিয়ে পবিত্র রমজান আমাদের নিকট সমাগত। এ মাসেই মানুষ রোজা পালন ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জনে মশগুল থাকবে।

আরবি ‘তারাবিহ’ শব্দটির মূল ধাতু ‘রাহাতুন’ অর্থ আরাম বা বিশ্রাম করা। ইসলামের পরিভাষায় মাহে রমজানে তারাবির নামাজ পড়াকালীন প্রতি দুই রাকাত অথবা চার রাকাত পর পর বিশ্রাম করার জন্য একটু বসার নামই ‘তারাবি’।

রমজান মাসের জন্য নির্দিষ্ট তারাবি নামাজ জামাতে পড়া ও সম্পূর্ণ কোরআন শরিফ একবার খতম করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা রমজানের রোজাগুলো ফরজ করেছেন এবং এর রাতে তারাবি নামাজের জন্য দণ্ডায়মান হওয়াকে অশেষ পুণ্যের কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।’

পবিত্র রমজান মাসের রাতে ইশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর বিতরের আগে ২০ রাকাত নামাজ পড়া সুন্নতে মুআক্কাদাহ। পুরো রমজান মাসে তারাবির নামাজ জামাতে পড়া ও সম্পূর্ণ কোরআন একবার খতম করাও সুন্নতে মুআক্কাদাহ। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে ঈমানসহকারে শুধু সওয়াবের আশায় তারাবি পড়েন, তার অতীতের সব (ছগিরা) গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়’ [বুখারি ও মুসলিম শরিফ]।

এই নামাজ আদায়ের জন্য কোনো আয়াত বা সূরা নির্দিষ্ট করা না থাকলেও কোরআন শরিফ খতম করা উত্তম কাজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্বারা এই আমলটি হয়ে থাকলেও রাসুল (সা.) তারাবির জন্য রাতের কোনো সময়কে নির্দিষ্ট করে দেননি। তবে অবশ্যই সুবহে সাদিকের আগেই আদায় করতে হবে। নবী (সা.) বেশির ভাগ সময় শেষ রাতের দিকে আদায় করতেন।

কখনো তিনি ৮ রাকাত, কখনো ১৬ রাকাত কিংবা কখনো ২০ রাকাত পড়েছেন। ২০ রাকাত তারাবির নামাজ হওয়ার সপক্ষে সহিহ হাদিসে হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে ‘নবী করিম (সা.) রমজান মাসে বিনা জামাতে (একাকী) ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করতেন, অতঃপর বিতর নামাজ পড়তেন।’ (বায়হাকি)

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানে তারাবিহ্, রোজা ও ইবাদত-বন্দেগি করে তাঁর নৈকট্য অর্জনের জন্য তাওফিক দান করুন। আমিন।