Saturday, 23 September 2017

 

হজ্জ পালন পরবর্ত্তী জীবনধারা

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম, ইসলামিক ডেস্ক:সম্প্রতি সফলভাবে হজ্জ পালন করলেন বাংলাদেশের লাখের উপর ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। হজ্জ পালনের মাধ্যমে প্রত্যেকটি মু’মিন মুসলমান আল্লাহ তায়ালার খুব কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পান। প্রতি বছর জিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখে পৃথিবীর সব প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসলমান আরাফাতের ময়দানে সমবেত হন এবং আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করেন। লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হয় : লাব্বায়েক আল্লাহুমা লাব্বায়েক। লাব্বায়েক, লা শারিকালাকা লাব্বায়েক।

সমগ্র মুসলিম বিশ্বের মধ্যকার সৌভ্রাতৃত্ব, প্রেম-প্রীতি এবং ঐক্য ও সংহতির চরমতম নিদর্শন প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে। ভ্রাতৃত্বের এ ধরনের নিদর্শন অন্য কোথাও দেখা যায় না। হজ্জ মানুষকে ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শের বাস্তব প্রশিক্ষণ প্রদান করে এবং নতুন চিন্তা-চেতনা, শিক্ষা ও প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ করে পৃথিবীর প্রত্যেক অঞ্চলকে আলোকিত করে। সঙ্গে সঙ্গে মদীনা মনওয়ারা গমন, প্রিয়নবী (সা.) এর রওজা মুবারক জিয়ারত, মসজিদে নববীতে নামাজ আদায়, ইস্তেগফার ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং বিশ্বনবীর খাঁটি্ উম্মতে পরিণত করে।

তাছাড়া সাফা ও মারওয়া সায়ী করা, মুজদালিফায় অবস্থান করা, রমী করা বা শয়তানকে ঢিল ছোঁড়া, কুরবানি করা, মাথা মুণ্ডন করা, বিদায়ী তওয়াফ করার মাধ্যমে হজ্জের আনুষ্ঠানিক কার্যাদি শেষ করার হয়। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন হজ্জ হতে প্রত্যাবর্তন করতেন তখন প্রতিটি উঁচু ভূমিতে তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলতেন এবং এ দু’আ পড়তেন : আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক ও একক। তাঁর কোন শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা। তিনি সবার উপর সর্বশক্তিমান।

হজ্জকারী বাড়ি পৌঁছবার পূর্বে বাড়িতে খবর দেয়া মুস্তাহাব। বাড়ি পৌঁছবার আগে মহল্লার মসজিদে দু’রাকাআত নামাজ পড়বেন। তারপর এ দু’আ পড়তে পড়তে বাড়িতে প্রবেশ করবেন : “আল্লাহ তওবা। আল্লাহ তওবা, আল্লাহার উদ্দেশেই আমরা ফিরে এসেছি, আশা করি আমাদের সব গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন।”

হজ্জ সমাধা করে হাজীরা যখন দেশে ফিরে আসেন তখন আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও দেশবাসী তাঁদের সম্মানে অভ্যর্থনা জানাবেন, তাদেরকে সালাম বলবেন। তাদের সাথে মুসাফাহা করবেন এবং তাঁদের নিকট দু’আ চাইবেন। কারণ তাঁদের দু’আ কবুল হয়। হাদিস শরীফে আছে : “কোন হাজীর সাথে সাক্ষাত্’ হলে তাঁকে সালাম দিবে। তাঁর সাথে মু’আনাকা ও মুসাফাহা করবে এবং দু’আর দরখাস্ত করবে যেন তিনি বাড়ির ভিতর প্রবেশ করার পূর্বে তোমার জন্য দু’আ করেন। কারণ হাজীর সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়েছে।”

হজ্জ সমাধা করে ফিরে যে কাজ গুলো করবেন-

  • হজ্জের শিক্ষাকে ভুলে না যাওয়া
  • বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানব ঐক্য ও অবিচ্ছেদ সংহতির যে মহান শিক্ষা হজ্জ থেকে নিয়ে এসেছেন তা বাস্তবায়নের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করবেন।  
  • সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের মধ্যে ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করবেন।
  • দুনিয়ার আচরণের সাথে বেশি না মিশে অত্যন্ত পরহেজগারীর সাথে বাকি জিন্দেগী অতিবাহিত করবেন।
  • কাবাঘর জিয়ারতের মাধ্যমে নিজেকে যে নিষ্পাপে পরিণত করলেন হজ্জ থেকে ফিরে সে ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সকল হাজি সাহেব/সাহেবানদের হজ্জ পালন পরবত্তী জীবনধারা সঠিকভাবে মেনে চলার তওফিক দিন-আমিন।