Monday, 20 November 2017

 

মাতা-পিতার সেবা ‌করতে পারা পরম সৌভাগ্যের বিষয়

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম, ইসলামিক ডেস্ক:ইসলাম মাতা-পিতার সেবা করার বিশেষ তাগিদ দিয়েছে। মাতা-পিতার সেবা করতে পারা মুমিন-মুসলমানদের জন্য পরম সৌভাগ্যের বিষয়। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, পিতামাতার সাথে উত্তম আচরণ করবে। তাদের একজন অথবা উভয়েই যদি তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না। আর তাদের সাথে সম্মাজনক কথা বলো। আর তাদের উভয়ের জন্য দয়া পরবশ হয়ে মমতা ও নম্রতার ডানা বিছিয়ে দাও এবং বলো, ‘হে আমার রব, তাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে লালন-পালন করেছেন।’’ (সূরা বনি ইসরাইল : ২৩-২৪)

মাতাপিতার খেদমত কোনো করুণার বিষয়বস্তু নয়। তা সবার জন্য অবশ্যই পালনীয় কর্তব্য। পিতামাতার খেদমত মুমিনদের জন্য জান্নাতের পাথেয়। যে ব্যক্তির ওপর তার পিতামাতা রাজি-খুশি থাকেন ওই ব্যক্তির ওপর আল্লাহ খুশি থাকেন।

হজরত আবু হুরায়রা রা: বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তার পিতামাতা উভয়কে অথবা দু’জনের যেকোনো একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল এবং তাদের খেদমত করে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারল না। সে ধ্বংস হয়ে যাক। (মুসলিম : ৬২৭৯)

বর্তমান জামানায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় ছেলে-মেয়ে বিশেষ করে ছেলে বড় হয়ে গেলে বা প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলে তাঁরা বৃদ্ধ বাবা-মা’র কথা ভুলে যান। অনেক বাবা-মা মনের দু:খে বৃদ্ধাশ্রমে শেষ জীবন পার করে দেন যা অত্যন্ত দু:খজনক।

অথচ একটু চিন্তা করলে দেখা যায় যে এই মা-বাবাই ছোট বেলায় তাঁকে কত আদর-যত্নে বড় করে তুলেছেন। লেখা-পড়া থেকে শুরু করে রোগ-শোকে শিয়রে বসে রাত কাটিয়েছেন।

কোনো বিবেকবান মানুষ কোনভাবেই পিতা-মাতার প্রতি এমন আচরন এসব করতে পারেন না। কাজেই আমাদের সকলের উচিত মা-বাবার প্রতি সকল ক্ষেত্রে বিশেষ করে তাঁরা যখন বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হবেন সাধ্যানুযায়ী খেদমত করা। মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে পিতা-মাতার করার তাওফিক দিন-আমিন