Monday, 25 June 2018

 

অসহায় শীতার্তদের সহায়তার তাগিদ দেয় ইসলাম

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:সমাজে মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে একে অপরকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে। জীবনে চলতে গেলে নানা রকম বিপদসঙ্কুল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় আমাদের। আর যখন কেউ কোনো বিপদের সম্মুখীন হয়, সে তখন সবচেয়ে বেশি অসহায়ত্ব অনুভব করে। ইসলাম এসময় ওই অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসার তাগিদ দেয়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে উত্তরের জেলাগুলিতে এখন শীত জাঁকিয়ে বসেছে। এসময় অসহায় যারা তাদের সহযোগিতায় আমাদের সকলের এগিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন। শীতকালটা সমাজের উচ্চবিত্তের জন্য আরামদাায়ক হলেও গরীবের জন্য বড়ই কষ্টের। আমরা যারা সামর্থবান তারা দরিদ্র অসহায় মানুষদের কাছে একটা মোটা কাপড়, লেপ-কম্বল পৌঁছে দেই যেন সেটা গায়ে জড়িয়ে অন্তত ঠান্ডায় শরীর কুঁকড়ে আসাটা প্রতিরোধ করতে। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো মুসলমান ভাই যখন কোনো প্রকার বিপদে পড়ে, তখন অপর মুসলমান ভাইয়ের কর্তব্য হলো- তাকে সাহায্য করা। কেননা যে মানুষকে সাহায্য করে মহান আল্লাহতায়ালা তাকে সাহায্য করেন।

এ মর্মে হাদিসে অনকে বর্ণনা রয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের পার্থিব দুঃখ-কষ্ট দূর করবে, আল্লাহতায়ালা কিয়ামতে তার দুঃখ-কষ্ট দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোনো সংকটাপন্ন ব্যক্তির সংকট নিরসন করবে, আল্লাহ তার দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় সংকট নিরসন করে দিবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ-ত্রুটি গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার সাহায্য করে থাকেন, যতক্ষণ পর্যন্ত বান্দা নিজ ভাইয়ের সাহায্যে রত থাকে। -মুসলিম ও তিরমিজি

অন্য আরেক হাদিসে হজরত রাসূলে কারিম (সা.) বলেন, প্রত্যেক মুসলমানের ওপর সদকা করা ওয়াজিব। একজন প্রশ্ন করলেন, যদি কারো সে সামর্থ্য না থাকে, তবে কি হবে? সাহাবাদের পর্যায়ক্রমিক প্রশ্নের উত্তরে এক পর্যায় নবী (সা.) বলেন, ‘তাহলে কোনো দুঃখে বা বিপদে পতিত ব্যক্তিকে সাহায্য করবে।’-মিশকাত

আসুন আমরা সকলে মিলে এ শীতের তীব্রতায় অসহায়দের পাশে সাধ্য অনুযায়ী দাঁড়াই। নিশ্চয়ই মহান রাব্বুল আলামিন আমাদেরও সকল বিপদ-আপদ বালা মুসিবত থেকে রক্ষা করবেন।-আমিন।